পৃথিবীর বুকে ভাল মন্দ যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তার বেশির ঘটেছে রাতের বেলায় বিশেষ করে মাঝ রাতে। মায়াবী রাত পথিককে মোহিত করে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। পৃথিবীর মোহে পরে অনেকেই সহায় সম্বল হারিয়ে ফেলে গন্তব্য স্থানে পৌঁছতে পারে না। যেমন - পথিক রাতের মোহে পরে সবকিছু হারিয়ে ফেলছে। দু’দিক থেকেই গল্পটি বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্য হয়েছে।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ জানুয়ারী ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ২৪টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - মাঝ রাত (সেপ্টেম্বর ২০১৮)

মায়াবী রাতের পথিক
মাঝ রাত

সংখ্যা

এস জামান হুসাইন

comment ৪  favorite ০  import_contacts ১৩৮
মেঘমুক্ত আকাশে ঝলসানো রুটির মত চাঁদ না থাকলেও লক্ষ কোটি তারকা আলো জ্বেলে পথিকের রাস্তা দেখিয়ে দিচ্ছে। জোনাকীরা যেন নিজেদের সমস্ত কাজ বাদ দিয়ে দলবদ্ধভাবে প্রদীপ জ্বেলে অন্ধকার দূর করে পথিকের পথ চলার কাজে সাহায্য করছে। পথের দু’ধারে সারি সারি অসংখ্য গাছ নিরবে দাড়িয়ে আছে। আশে পাশে তেমন জনবসতি নেই। দু’ একটি বাড়ি মাঝে মাঝে দেখা যায়। তাও সকলেই গভীর ঘুমে রাত্রি অতিবাহিত করছে। পশু - পাখি, গাছ - পালা সবকিছুই নিরব। মাঝে মাঝে দু’ একটি শিয়াল রাস্তার এক পাশ দিয়ে বের হয়ে অন্য দিকে দৌড়ে হুক্কা হুয়া রবে পালিয়ে যাচ্ছে। দু’ একটি পাখি ডানা ঝাপটিয়ে পথিকের মনে সামান্য ভয়ের সৃষ্টি করে। আবার ব্যাঙ ডেকে পথিককে জানিয়ে দেয়, “ভয় নেই পথিক, সামনে চল, মার্চ অন।” পথিক এগিয়ে চলে। ভয় নেই, সত্যি ভয় নেই, ঐতো দেখা যাচ্ছে আলোর মরিচিকা। আলোর মরিচিকারা সব সময় আশা জাগায়!

পথিক চলছে আপন মনে। রাত গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। পথিকের মনে অন্য কোন চিন্তা নেই, ধান্ধা নেই; চিন্তা শুধুই তার গন্তব্যস্থানে পৌঁছানোর। তাকে পৌঁছাতেই হবে ভোরের আলো প্রস্ফুটিত হওয়ার আগে। রাতের গভীরতার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পথিকের পথ চলার গতি; দুঃচিন্তা; বুকের ধড়ফড়ানি আর ভোরের আলো পৃথিবী আলোকিত করার পূর্বেই গন্তব্য স্থানে না পৌঁছানোর ভয়। পথিকের পথ চলার দৃশ্য আপন নয়নে অবলোকন করছে চাঁদহীন মায়াবী রাত। মনে মনে হেসে পথিককে ডেকে মায়াবী রাত বলছে -
“ হে অজানা পথের পথিক! কিসের এত তাড়া তোমার? এত দ্রত হেটে যাওয়ার কারণটা কি? দীর্ঘ রাত্রি পরে রয়েছে। একটু বসে যাও, একটু বিশ্রাম নাও, পান সুপারি খেয়ে যাও।” ছায়ার মত মায়াবী রাতের মনের আকুতিগুলো পথিকের মন কেড়ে নেয় গভীর রাতে অজানা পথে এমন মায়াবী সুরে কে তার পথ চলার সেভেন হর্স গতি থামিয়ে দিল? কোন মোহরূপ তার পথ চলায় বিরতি ঘটাল! তার যে ঢের রাস্তা যেতে হবে!

“কে তুমি? ঘুমহীন রাতে কিসের মায়ায়, কিসের আশায় আছ জেগে? আমি পথিক বলে নির্ঘুম রাতে চলছি পথে একা। তুমি এত রাতে ঘুমাওনি কেন? নির্জন রাতে, জনমানবহীন প্রান্তরে তোমার হৃদয়ে কি ভয়ের ছোঁয়া লাগে না?

“আমি মায়াবী রাত। ভালবাসা দিয়ে মায়া লাগানোই আমার কাজ। আমার ঘুমাতে নেই। আমার কোলে সকলেই ঘুমায়। আর ভয়! সে তো আমি নিজেই জন্ম দেই। আকাশের লক্ষ কোটি তারকা, ঝলসানো রুটি আর অদম্য জোনাকীরা আমার নিত্য সঙ্গী। কখনোই একা মনে হয়না। আজকের রাত আমার এখানেই কাটিয়ে দাও। সুখ দুঃখের আলাপ করব। মন খুলে কথা বলব।”


“হে মায়াবী রাত! তুমিতো আমাকে মায়ার বাঁধনে বেঁধে ফেললে। আমাকে পারি দিতে হবে দুস্তর গিরি। ঐ যে আলোর মরিচিকা দেখা যায় ওটাই আমার গন্তব্যস্থান। পৌঁছাতে হবে ভোরের আলো ফোটার আগেই।”

“সে কি বল! এখনো অনেক রাত বাকি আছে। ভোরের পাখিরা এখনো উঠেনি জেগে। রাতের তারকাগুলো এখনো আলো দিচ্ছে। কত পথিক আমার এখানে এসে সময় দিয়ে যায়। আমার এখানে আসিন হয়ে কেউ রাত না কাটিয়ে যায় না। ধরার যত ভাল মন্দ সব ঘটেছে এই রাতের আঁধারে। দেশ দখল থেকে শুরু করে গ্রামের সৎ নারীর প্রতি মিথ্যে অপবাদসহ যত ধরনের অপরাধ হয়েছে তার সবই হয়েছে মাঝ রাতে। আবার মিষ্টি কথা, সুন্দর হাসি থেকে শুরু করে স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের সব কাজই সিদ্ধি হয় মাঝ রাত থেকে শুরু করে। প্রেমিক প্রেমিকার খুনসুটি, স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা, ভাই বোনের হাসি কান্না, গভীর জলে মাঝিদের মাছ ধরা, জলদস্যুদের মাছ, জাল ছিনিয়ে নেওয়া সবই হয় রাতের আঁধারে।

আমার কোলে আশ্রয় নেয় দাগী সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে সন্ন্যাসী পর্যন্ত। এইতো সেদিন ফাঁসিতে ঝুলা এক লাশ রাতের কোলে শুয়ে দিয়ে গেল। আমি কিচ্ছু বলিনি। কারও সাথে আমার শত্রুতা নেই। সবাই আমার বন্ধু। আমার মোহে পরেনি এমন মানব মানবী এ ধরার বুকে এখনো জন্মায়নি। হাজ্বী - গাজি - পাজি সবাই আমার মোহে আবদ্ধ।”

মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে মায়াবী রাতের কথা শুনতে শুনতে পথিক ধীরে ধীরে ঢলে পরে ঘুমের দেশে। মায়াবী রাতের মোহে আচ্ছন্ন পথিকের সমস্ত কিছু কেড়ে নেয় মায়াবী রাত। এরপর পথিককে রেখে আস্তে করে কেটে পরে । পথিক ঘুম থেকে জেগে নিজেকে ঘাসের মধ্যে আবিষ্কার করে। কোন কিছুই মনে করতে পারে না সে। সাথে নেওয়া লাগেজও খুজে পাচ্ছে না। অল্প সময়ের মধ্যে সে বুঝতে পারে তার সমস্ত কিছু ছিনতাই হয়েছে। ডুকরে কেঁদে উঠে। কিন্তু অনেক দেড়ি হয়েছে। মায়াবী রাতের মোহরূপ তার সমস্ত কিছু ছিনিয়ে নিয়েছে। তার যে বহু পথ পারি দিতে হবে!

পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় সূর্যি মামার। পূর্বাকাশে ছড়িয়ে পরে সোনালী রক্তিম আভা। সম্বিৎ ফিরে পায় পথিক। দ্রত হাটা শুরু করে মায়াবী রাতের পথিক…..

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement