কেমন আছ রুইদাস ?
ভাল নেইরে ভাই অবিনাশ-
লোকমুখে শুনতে পাচ্ছি,
ছেলেটা আমার ডাকাত দলে নাম লিখিয়ে,
"ঠেঙ্গাড়ে" হয়ে, করছে লোকের সর্বনাশ।
রুইদাস, তুমি এখন যাচ্ছ কোথায় ?
আমি যাচ্ছি "চরকের" মেলায়।
মেলাটা এবারে হচ্ছে কোথায় ?
তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে,
ইস্টিশনকে বাদিকে রেখে, "বুড়ো বটের" তলায়।
ছেলেটার জন্য কিনবো এবার শীতের কিছু বস্ত্র,
শীতের সময় ছেলেটা পায় ভীষন কষ্ট।
মেয়ের জন্য লিপিস্টিক আর কাঁচের চুড়ি,
বউটার জন্য রঙ বাহারি নানা রকম শাড়ি।
আর, ভোলা ময়রার দোকান থেকে-
মন্ডা, মিঠাই আর বড় একটা দইয়ের হাড়ি,
ছেলেটা আমার খেতে খুব ভালবাসে,
গরম গরম ঘিয়ে ভাজা লুচি।
ছেলেটা আমার চোখের মনি, ও ছাড়া আমি অন্ধ,
ওই আমার প্রাণ, ওকে নিয়েই আমার অনেক স্বপ্ন।
ছেলেকে বলি- এবার থেকে চাষের কাজ কর,
ডাকাতি করা ছেড়ে দিয়ে জমির কথা ভাবো।
সন্ধেবেলার অন্ধকারে, তেপান্তরের মাঠে,
হঠাৎ কারা ধেয়ে এল, হারে - রে - রে বলে-
ডাকাত দলের লাঠির ঘায়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি (রুইদাস)
ঝাপসা চোখে তাকিয়ে দেখেন-
তাঁর প্রাণ প্রিয় ছেলেরই মুখখানি !!
মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করে,
দূর আকাশে চিরতরে হারিয়ে গেলেন তিনি।
হোলনা তাঁর মেলায় যাওয়া, হোলনা কেনাকাটা,
ছেলের হাতেই মৃত্যু হলো -
এটাই কি ছিল তাঁর ভাগ্যে লেখা !!!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
সন্তানের প্রতি বাবার অন্ধ ভালোবাসা। অনেক সময় কিছু ক্ষেত্রে সবকিছু যেন ওলোট পালোট হয়ে যায়।
১২ আগষ্ট - ২০১৭
গল্প/কবিতা:
৫৫ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।