নবীর ঘুমের ঘোরে শুয়ে আছ মা জননী
তৃষ্ণার্ত পিপাসায় কাঁদে সুখের ধরণী।
গভীর হলো ঐ নীল আকাশ চাঁদের রজনী
শীরে দাঁড়ীয়ে কাঁদিতেছে শিশু ঘর হারা ঘরণী।
আরাধনায় যাচে ঘুমপাড়ানো মায়ের শিরোমণি
উদর ভাঙ্গিয়া করে যে আর্তনাদ কামিনীর যামিনী।
মা! উঠ তুমি, লয়ে আশীর্বাদের পরশমণি
বেলা শেষ কিনারে, স্মৃতির হল বনা-বানী।
মা! উঠে জাগে, ডাক শুন ঐ হে মহা দরদিনী
কোমল হাতের পরশ বুলিয়ে শান্ত কর মোহনী।
মাগো! তুমি এই ডাকে না জাগালে মধুময় ধ্বনী
এখনই হবে মহা-প্রলয় বিশ্ব নাশের অগ্নীবেণী।
পাপে-তাপে ঘোর হবে অন্ধকার, মুকুটহীন রাণী
জালিমের জুলুমত লুটিয়ে পড়বে, সুখের ঐ বাণী।
তবু ও মা উঠলে না! জাগলে না! ব্যথিত বিরহীনি
ক্লান্তি পথে বোঝা বহে রয়েছি তোমার শিহরে চিরঋণী।