অতিপ্রাকৃত কিংবা বিভ্রান্তি

ভৌতিক সংখ্যা

ছায়াপথ
  • ২০
উদ্দেশ্যহীন পদক্ষেপে নবনী সাগর পাড়ে হেঁটে যায়।
এক সময় একটা হাত আলতো করে নবনীর হাত ছুঁয়ে দেয় । নবনী মুচকি হেসে পাশে তাকায় , দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে ।ও আজ নবনীর প্রিয় হালকা নীল গোল কলারের সার্ট পরেছে । নবনীর আবারও মনে হয় ,একটা মানুষ এতোটা সুন্দর কি করে হতে পারে !
অনন্তকাল ধরে সমুদ্রের পাড় দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে একসময় দুজন মুখোমুখি দাড়ায় । নবনী ওর চোখের দিকে তাকায় । কি গভীর চোখ ! এই চোখ যার আছে তার আর কোন কিছুর দরকার নেই ।
হঠাৎ নবনীর বুক অদ্ভুত একটা কষ্টে ভারি হয়ে উঠে ,অসহ্য চাপা একটা কষ্টে বুকটা দুমড়ে-মুচড়ে যায় । চোখে পানি চলে আসতে চায় ,কিন্তু নবনী ঠিক করেছে ও কাঁদবে না । কাঁদলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় আর নবনী ওকে ঝাপসা দৃষ্টিতে মনে রাখতে চায় না ।
অনেক কষ্টে চোখের পানি আটকে ওর গভীর চোখের দিকে তাকিয়ে নবনী বলে,
-তুমি চলে যাবে ?
-হূম ।
- আর আসবে না ?
ও নবনীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে আর ভাবে,” তোমাকে বাঁচাতে আমি তোমার জীবনে এসেছিলাম আজকে আবার তোমাকে বাঁচাতেই তোমার জীবন থেকে চলে যাচ্ছি । একদিন যখন তুমি খুব অসহায় ছিলে তখন আমি তোমার জীবনে এসেছিলাম আজকে আবার তোমাকে অসহায় করে দিয়ে চলে যাচ্ছি । আমি জানি তুমি সব সয়ে নেবে,আমি জানি তুমি সব ভুলে যাবে । মানুষ সবচেয়ে কষ্ঠের স্মৃতিগুলো সবার আগে ভুলে ,যে স্মৃতিগুলো ছাড়া বাঁচতে পারবে না ভাবে সেই স্মৃতিগুলো সবার আগে ভুলে। কারন মানুষকে বাঁচতে হয় ,মানুষের ভাল থাকতে হয় ।“
নীরবতা ভেঙ্গে নবনী ব্যকুল হয়ে বলে , কখনোই আর আসবে না ? কখনো না ?
ও নবনীর গালে আলতো করে ছুঁয়ে বলে , আসবো ।
অনেক কষ্টেও এবার নবনী চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না ।
ও খুব সাবধানে নবনীর চোখের জল মুছে কপালে পরে থাকা এক গাছি চুল কানে গুজে দিয়ে বলে , ভালো থেকো নবনী ।
বলে নবনীকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে ।
নবনী তখন চিৎকার করে বলে, তোমার নাম , তোমার নামটা বলে যাও ? তোমার নামটা শুধু একবার বলে যাও ?
ও ঘুরে নবনীর দিকে তাকায় ,বলে -"আমার জগতের কারো নাম হয় না নবনী , কারো অবয়ব হয় না । আমার কোন নাম নেই । আমার কোন অবয়ব নেই ।তুমি আমাকে নাম দিয়েছ ,আমাকে তোমার মতো করে দেখেছো আর আমি তোমাকে আমার মতো করে ভালবেসেছি । আমি তোমার ছায়াসঙ্গী ,আমাকে এর আগে কেও কখনো কোন নামে ডাকেনি ।“
নবনী আকুল হয়ে কাঁদতে থাকে , আর ও ভীষণ বিষণ্ণ পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে নবনিকে পিছনে ফেলে।
মনে মনেবলে ,
- নবনী আমি আসবো ।আমি হয়তো বৃষ্টি হবো ।যদি খুব বেশি মনে পরে হয়তো তখন এলোমেলো হাওয়া হয়ে তোমায় ছুয়ে দিব। কিন্তু আমি আসবো । আমি তোমার কাছে আসবই । আমকে যে আসতেই হবে ।

ডাঃ টেড়েজা নবনীর খোজ করতে করতে সাগর পাড়ে এসে দেখে , নবনী পা ভিজিয়ে সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আছে । খুব রেয়ার ধরনের স্কিজোফ্রেনিয়া নিয়ে এই মেয়েটা ডাঃ টেড়েজার মানসিক হসপিটালে ভর্তি হয়েছিল । সবাই যখন ভেবেছে এই মেয়েটাকে আর রক্ষা করা গেল না তখনই অলৌকিকভাবে মেয়েটা সেরে উঠতে শুরু করলো ।ঠিক যেমন করে কয়েকমাস আগে একটা দুর্ঘটনায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল ।পৃথিবীতে কিছু মানুষ হয়তো জন্ম নেয় অলৌকিক ঘটনার জন্ম দেয়ার জন্য ।
খুব অবাক হয়ে ডাঃ টেড়েজা লক্ষ্য করল নবনী যেখানে দাড়িয়ে আছে দু’জোড়া ভিন্ন মাপের পায়ের ছাপ সেদিকে চলে গেছে ।
জোয়ারের ঢেউ একটু একটু করে সেই ছাপ গুলোকে মুছে দিচ্ছে । সময় যেভাবে স্মৃতিগুলোকে একটু একটু করে মুছে দেয় সেভাবে ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
মোঃ আক্তারুজ্জামান মনোমুগ্ধকর লেখা। আমার অনেক অনেক ভালো লাগা রইলো। ধন্যবাদ।
সাইফুল বাতেন টিটো চমৎকার। ভালো লেগেছে। মেদহীন সহজ সরল বর্ননা। ভোট দেয়ার মতো লেখা। অনেকেই দেখলাম ভোট দিয়ে মন্তব্য করে আবার জানায় আর নিজেও ভোট চায়। আমার কাছে সেটা দৃষ্টি কটুই লেগেছে। আমি আপনাকে কেন বলব আপনাকে ভোট দিয়েছি কিনা? শুধু এতটুকু বলছি ভোট দেয়ার মতো লেখা। ধন্যবাদ।
ছায়াপথ অনেক ধন্যবাদ।আসলে ভোট দেয়া না দেয়া নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নাই।আমার যেটা জানা দরকার সেটা হলো আমি যেটা প্রকাশ করতে চেয়েছি ওইটা আসলে কতটা কতটা পেরেছি। ভাল লাগার জন্য ধন্যবাদ

১৯ এপ্রিল - ২০১৭ গল্প/কবিতা: ১ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "ভয়”
কবিতার বিষয় "আঁধার”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ আগষ্ট,২০২১