বিষয়ের সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যতা রয়েছে কাহিনীর পরতে পরতে....ধুতরাফুল।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৯ জুন ১৯৬৯
গল্প/কবিতা: ১৩টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - বাংলাদেশ (ডিসেম্বর ২০১৯)

নিতুর জন্য ভালোবাসা
বাংলাদেশ

সংখ্যা

ধুতরাফুল .

comment ১  favorite ০  import_contacts ১০
নিতু আপু মারা গেল ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সনে কাজলা গ্রামে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর । একটা দাগ টানা খাতায় যুদ্ধদিনের অনেক কথা লিখে রাখতেন তিনি। তার মৃত্যুর ৭ বছর পরে ১৯৭৮ সনে আমরা স্ব-পরিবারে কাজলা গ্রামে চলে আসি। শখের ঘুড়ি,লাটাই,ছিপ লাটিম আর দাদাবাড়ীর অকৃত্রিম ভালোবাসা ছেড়ে....নিতু আপুদের গ্রামে। আসা তখনকার দিনে মহাকুমা শহরের পরেই ছিল কাজলা গ্রামের স্কুলের নাম ডাক। আমাদের পড়াশুনা আর আব্বার ব্যবসার জন্য দাদাজান আমাদের পাঠিয়ে দিলেন নিতু আপুদের গ্রামে। গরুর গাড়ীর ক্যাচ ক্যাচ শব্দ যখন থামলো, আমার সামনে তখন এক এক অচেনা গ্রাম......হিন্দুদের ৭১ এ ফেলে যাওয়া ভূতুড়ে বাড়ীর প্লাস্টার খসা দেওয়াল এক অজানা ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছিল মনের ভেতর..........গ্রামের পাশ দিয়ে একেবেকে বয়ে গিয়েছে কাজলরেখা নদী ... বর্ষাকালে সেই নদীর পানি যখন উথালপাতাল হয় স্রোতে হাঁস ভেসে যায় তোমার ছেলেবেলার মত আমরাও হাঁস খুজতে যেতাম আয় আয় চৈ.. চৈ... চৈ...। নিতু আপু তোমার নিশ্চয় মনে আছে আমাদের কাজলরেখা নদী শীতকালে শুকিয়ে তোমার মত দড়ি হয়ে যেত.....তখন নদীর দু’ধারে নৌকার পাটাতনে লাগানো.....বাঁশের খুটিতে দড়ি বেধে দেওয়া হত। মাঝিদের তখন বিশ্রাম কাল। আলি-মদ্দি স্যার আলি-মদ্দি স্যার....তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীদের সে কি আনন্দ!! ...শেষ বেঞ্চের এক কোনে গুটিসুটি মেরে বসে আছি কৌতুহলী চোখে স্যার কে দেখছি বেশ গোপাল ভাঁড় টাইপ চেহারা......আনন্দে মাতিয়ে রাখলেন সবাইকে নিতু আপু তুমি কি আলি-মদ্দি স্যার কে চিনতে? আমাদের স্কুলের পাশেই ছিল বড় ফিল্ড বিকেল দল বেঁধে যেতাম। সেখানে অসাধারন ফুটবল খেলা হতো। আপু তোমার ডায়েরি পড়তে পড়তে আমার নিজের হুড়া খাবার কথা মনে পড়ে গেল রন্ধন শিল্পের এই অসাধারণ খাবারটি কাচাপাকা ছোলা, গাছ শুদ্ধ নাড়ার আগুনে পুড়িয়ে ফু দিয়ে হাতে মুখে কালি মেখে দলবেধেঁ খুটে খুটে খাওয়া.....। শনিবার আর বুধবারের হাটে এখনো ছোলার বড়া আর গুড়ের খুরমা পাওয়া যায়...তুমি মারা যাবার পর সে সবের স্বাদ ও এখন পানসে হয়ে গেছে......মোড়ভাঙ্গার রসোগুল্লা তা এখন বিলুপ্ত । নদী পাড়ের ময়রারা সবার অলক্ষ্যে আমাদের দেশ ছেড়ে চলে গেছে। চলে গেছে শচীন কাকা, অশিস নীশিত পাল আমাদের প্রিয় নাপিত অধির দা .....নিতু আপু তোমার ভায়েরা কি এমন দেশ চেয়েছিল?......নিতু আপু তোমার মনে আছে আমাদের সবার প্রিয় ক্লাব “উদয়ন তরণ সংঘের”কথা কি সুন্দর সমৃদ্ধ লাইব্রেরী ছিল আমাদের। ক্লাবের নিজস্ব কোন জায়গা ছিল না হাইস্কুলের সাথে পোষ্ট অফিসের কাছে পরিত্যক্ত ঘরে ছিল তার ঠিকানা....... নিতু আপু তোমার প্রিয় শহীদ মিনার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বিপরীত আদর্শে । কত দিন কাজলা গ্রামে প্রভাতফেরী হইনি... ২১শের প্রথম প্রহরে শিশুরা ফুলের ভালোবাসা জানাতে পারেনি ......নিতু আপু তুমি মরে এক প্রকার বেচেঁই গেছ............ নিতু আপু তোমার ডায়েরীর পাতায় পাতায়....প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ...ছড়িয়ে যাবে......দেশ ও জাতির প্রতি তোমার সাহসী...উপাখ্যান।


নিতু আপু তুমি কি এখন না ফেরার দেশে নূপুর পায়ে পরীর মতে ঘুরে বেড়াও?......তোমার নূপুরের শব্দে অচেনা জগতের ফুল পাখিরা জেগে উঠে?
কোন এক বৌদ্ধ পূণির্মার রাতে অচিনলোক হতে.... তুমি নেমে এসে কাজলা গ্রামের কাজলরেখা নদীর তীরে আহবান করো আমাদের...... প্রগাঢ় শ্রদ্ধায় তোমার হাতে তুলে দিতে চাই দুটি ঘাস ফুলের মালা........

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • আসাদ ইসলাম
    আসাদ ইসলাম ভাল লেগেছে প্রিয় কবি। শুভকামনা রইল। আমার গল্প/ কবিতা পাঠের আমন্ত্রণ রইল।
    প্রত্যুত্তর . বৃহস্পতি ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ

advertisement