হে শীত, তোমার আগমনে অবলীলায় অভিমানে ঝরে
ভোরের অজস্র শেফালিকা।
ঘন কুয়াশার ঝাপসা হলুদ বিকেল শেষে
কান্নায় নুয়ে পড়ে প্রিয় মাধবীলতা।
নি:শ্ব নিস্তব্ধতায় শিশির সিদ্ধ হয়ে
লজ্জায় ভাসে রাতের হাসনাহেনা।

হে শীত, তুমি এক নষ্ট অনুভূতি
তোমার শীতলতায় রুক্ষ হয় দেহ-মন।
জমাট বাঁধে ভালবাসা প্রিয়তমার বুকে
কঠিন অর্গলিত বরফের মত।
অথচ,প্রেমিক পুরুষ নিঝর নৈঃশব্দ্যে
ভালবাসা খুঁজতে খুঁজতে হয় নেড়ি কুকুর
তারপরও,অভিমান ভাঙে না তোমার।

হে শীত, কি নিষ্ঠুর তোমার স্বভাব
আর কত নির্মমতা আছে তোমার বুকে?
জীবন প্রাচুর্যতায় ভরা নির্দয় শকুনদের ঠাঁই দাও
তোমার উষ্ণ মমতার কোলে।
অথচ,রাতের অভিসারে তোমার নিষ্ঠুরতা
কেড়ে নেয় দেহ থেকে প্রাণ,
যারা জীবনের মানে এখনো বুঝে না।
কেউ কেউ তোমার নিষ্ঠুরতার কাছে হার মেনে
জীবনের টানে,বেঁচে থাকার আশায়
নিজেকে বিলিয়ে দেয়,
সভ্যতায় ঢাকা নগ্ন মিছিলে।

হে শীত, অভিশপ্ত ঋতু তুমি
তোমার আগমনে নি:সঙ্গ গোপনে,
শীতার্ত পাখির মত কাঁপতে কাঁপতে ঘুমিয়ে পড়ে
পথহীন পথশিশু।
সহস্র সম্বলহীন ফেরারি মানুষগুলো করে আত্নচিৎকার
পায়না খুঁজে জীবনের এপিঠ-ওপিঠ।
কেউ কেউ নির্ঘুম বোবা প্রার্থনায় বারবার বলে ওঠে
তোমাকে ফিরে যেতে।
হে শীত,তুমি ফিরে যাও,ফিরে যাও।

হে শীত, ধিক্কার দিই তোমাকে
ধিক্কার দিই তাদের
যারা জীবনের বিলাসিতায় অনায়াসে বলে উঠে
শীত আমার প্রিয় ঋতু।
যারা জীবন ভোগের অভিলাষে রাখে না খবর
ঘরহীন শীতার্ত মানুষের।
যারা এখনো বলে উঠে স্বার্থের টানে
আমি তোমাদের একজন।

হে শীত, তুমি কি জানো ? আমি কবি
জীবনের কালী দিয়েই লিখছি কবিতা।
তুমি এলেই পড়ে থাকে
ছেড়া কবিতার বুকে রক্ত শিশির।
ভেজা ঘাসের বুকে বুক পেতে থাকি আমি
তোমাকেও ভেজাবো বলে।
দুৎমনিহীন বিনিদ্র রজনীতেও
কান পেতে শুনি আমি
তোমার নিষ্ঠুর নষ্ট শীতলতার অবসান শেষে
এইতো, এই বুঝি এলো বসন্ত।