লেখকের তথ্য

Photo
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

৩.১৩

বিচারক স্কোরঃ ১.৬৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - ঐশ্বরিক (মার্চ ২০১৭)

চিঠি
ঐশ্বরিক

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.১৩

ইবনে হেলাল

comment ৫  favorite ০  import_contacts ৪৬১
‘সাবধানে থাকিস বাবা। কখন কী হয়ে যায়!’ আরে মা, তুমি এত্তো ভেবো না তো- এই বলেই বেরিয়ে পরি। চোখে-মুখে কিসের যেন উত্তাপ। উত্তেজনায় শিহরিত হচ্ছি বারবার। ফিরে যাচ্ছি ঢাকায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রাণের স্পন্দন যেখানে।সেখানে...
২.
ছোট বোন একটা চিঠি দিয়েছে। দিয়েই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে কোথাও। বলেছিলো হোস্টেলে যাবার আগে যেন না পড়ি। তাই পড়ি নি। পড়বো ভাবছি। এসেই তো পড়েছি প্রায়। এই তো আর কিছুক্ষণ। হাটছি। যাচ্ছি। ভাবছি। অনেক কিছু বাভছি। খুব গভীর ভাবে ভাবছি। বন্ধুদের কথা। অনুপমার কথা। বাড়িতে গিয়ে এবার ওকে একটা ফোনও দেইনি। হয়তো খুব রেগে আছে। যাকগে, একদিন ঘুরতে গেলেই...
আশ্চর্য!  এতো শোরগোল কিসের? কোথায় হচ্ছে এসব? কেনো? ঢাকায় কি তবে ঝামেলা চলছে?...
ও। শুনেছিলাম ওরা নাকি বাংলা কেড়ে নিতে চায়। চাপিয়ে দিতে চায় উর্দূ। তার বিরুদ্ধেই কি কিছু হচ্ছে? ভাবতে ভাবতেই চোখে জ্বলন অনুভব করলাম। মেনে নিতে পারলাম না। কীভাবে মেনে নেবো? এ যে আমার ভালোবাসা! মা’র ভালোবাসা!! তাই, উপহাস ছুঁড়ে দিলাম একরাশ। হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলাম দ্বিগুণ। আমাকে যেতেই হবে। মা’র মুখের ভাষা রক্ষার্থে আমাকে যেতেই হবে।
৩.
স্রোতে মিশে গেলাম। কোন এক ছাত্রনেতা বক্তৃতা দিচ্ছে। আর সবাই শ্লোগান দিচ্ছে। বাংলা বলার দাবিতে। বাংলা শোনার দাবিতে; মা’র আঁচলে মুখ ঢেকে। রাস্তায় অসংখ্য ইট পড়ে আছে। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। ইটের। বিদ্রোহের। আমি শুধু দেখেই যাচ্ছি। এবার হাতে তুলে নিলাম ক’খন্ড ইট। ছুঁড়ে মারতে লাগলাম অশুভ সে শক্তির প্রতি। সহসা শব্দ হলো। গুলির শব্দ। সবাই বিশ্ময়ে হতবাক। গুলি ছুঁড়ছে ওরা? গুলি?!?
৪.
অনেক পরে অনুভব করলাম। আমার শার্ট রক্তে ভিজে গেছে। কোত্থেকে যেন রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। খুঁজে পাচ্ছি না। আমি পড়ে যাচ্ছি। সত্যিই পড়ে যাচ্ছি! গুলি লেগেছে আমার বুকে। মাকে মনে পড়ছে খুব। ছোট্ট বোনটিকেও। আমার বিদায় সহ্য করতে না পেরে ও শেষ দেখাটিও করলো না। আচ্ছা, ও না একটা চিঠি দিয়েছিলো? সেটা কি আছে পকেটে? হাত নাড়ানোর শক্তিও তো ক্রমেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। তবুও চেষ্টা করলাম। পারলাম না...

৫.
তসলিম ভাই আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসলেন। ফুটপাথে বসে তার কোলে আমার মাথা রাখলেন। তার চোখ অশ্রুসজল। আমি বোনের চিঠিটা তাকে পড়ে শোনাতে বললাম। রক্তে ভেজা চিঠি। হাতে নিলেন তিনি। পড়তে শুরু করলেন-
"ভাইয়া, তোমার মনে আছে আমাকে জোছনারাতে গল্প শোনাতে? তোমার সে গল্পগুলো না আমার সব মনে আছে। একটাও ভুলি নি। শৈশবে তোমার কোলে উঠে নিয়ে যেতে বলতাম এখানে-সেখানে। আর কৈশরে। তোমাকে নিয়ে ছুটে যেতাম। নদীর পাড়ে। তাবাসসুমদের আম বাগানে। কুয়াশাদের বড়ই খেতে লুকিয়ে। আমরা দু’জন কত ঘুরাঘুরি করেছি। কত আনন্দ করেছি। তাই না? সেগুলো আমি কখনও ভুলবো না। কখনও না। তোমার আদর। তোমার মায়া। আমি কিছুতেই ভুলবো না ভাইয়া। তোমাকে ভালোবাসি খুব।
তুমি যখন আমাকে রেখে ঢাকায় চলে যাও। আমার তখন খুব কষ্ট হয়। খুব। আমি অনেক কান্না করি। অনেক। কিন্তু এবারের বিদায় কেমন যেন মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে তুমি আর কখনও ফিরবে না। কখনও না। মনে রেখো। দেখা হবে। অন্য কোন জগতে..."

ইতি-
'সালওয়া।'
৭.
তসলিম ভাই সজোরে কেঁদে উঠলেন। আমার চোখেও মনে হয় অশ্রু টলোমল। ঝাপসা চোখে দেখলাম। একটা কাক উড়ে যাচ্ছে। মনে হয় খুকি বোনটিকে আমার সংবাদ দিতে। আমার চিৎকার করে ওকে বাধা দিতে ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু শক্তি পেলাম না। ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে। আমি হারিয়ে যাচ্ছি...

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement