আমি যতবার ফিরে আসি, ততবার ফিরে ফিরে যাই।
হে আমার দেশ তোরে এত ভালবাসি, তবু কেন কাছে নাহি পাই?

নিউ ইয়র্ক, লন্ডন, সিডনী কিংবা টোকিওর রেস্তোরার
আলো ঝলমল ঝাড় বাতির নীচে বসে থাকা
সুখী কপোত কপোতীর লাল গোলাপের কাছাকাছি
শিল্পিত দেয়ালের ঠিক পেছনটায়, আগ্নেয়গিরির মুখে
আমাদের ঘাম ঝরে ঝরে ঝরে লাভা স্রোত হয়।
রাতের গভীরে, মাল্টি-ন্যাশনালের ঘোড়া হয়ে
আমাদের ক্ষুরের আওয়াজে বাঁচিয়ে রাখি তাদের সাম্রাজ্য। আর,
বাইরে পর্দার ওপারে ঝুলতে থাকে সুকান্তের ঝলসানো রুটি।

কাল সারা দিন ধূলি ঝড় হয়েছিল। আমি ক্লান্ত এক ফেরিঅলা
সওদার ট্রলির হাতল ধরে জেদ্দা, কুয়েত কিংবা কাতারের রাস্তার
চৌ-চাকার ময়ূর পঙ্খীতে বসে থাকা সুখী মানুষ গুলোর পাশ ঘেঁসে
ঝড়ো বাতাসের মুখ থেকে নাকে মুখে বালি গিলে গিলে
পাড়ি দিয়েছি রাজপথের গনগনে চুল্লি।
আর, আমার পাশেই, এক্কেবারে পাশেই
চার দেয়ালের গণ্ডীতে বরফ জমছিল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মলে।

মা গো, তোমার নৈবদ্যের ফুল যোগানোর দুর্দান্ত বাসনায়
ঝাপ দিয়েছি সাগরের নাগর দোলায়, জাহাজের নিচ্ছিদ্র খোলে;
অথবা কন্টেইনারের মাঝে হয়ে গেছি লক্ষ্মীন্দর, নীলে নীল
সুতানলি সাপের দুর্দান্ত ছোবলে।

যখন সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে, দুঃখের নামাবলী গায়ে
তোমার কাছে ছুটে আসি নৈবদ্যের থালা নিয়ে,
ভজনালয়ের বন্ধ দুয়ার খাবলে ধরে আমার চোখ।
অন্ধকার ওত পেতে থাকা ছদ্ম পুরোহিতের দল
কেড়ে নেয় তোমার সন্তানের ভালবাসার ক্ষুদ্র উপহার।
আমার কলজেকে ওরা ভাগাভাগি করে খায় সোনালী বাছুর হয়ে
আর আমাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয় দুর পরবাসে।