লোকে বলে, এক সঙ্গে দু পা হাঁটলেই নাকি বন্ধুত্ব হয়ে যায়।
বন্ধুর সাথে যুগ যুগ ধরে হাঁটছি, তবু বন্ধুত্ব হলো না।

জন্ম থেকেই বেড়ে উঠেছি দু’জনাই, পৃথিবীর নরোম মাটিতে,
একই আলো হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিয়েছি দু’জনা,
গ্রীষ্মের খর রোদে, একই মাটিতে ঝরেছে দু’জনার নোনা ঘাম,
একই শ্রাবণের জল ধারায় ভিজেছে দু’জনার দেহ -
তবু বন্ধুত্ব হলো না।

মিছিলে মিছিলে দু’জনার উদ্ধত বাহু নীলাকাশ ছুঁয়ে,
শোষকের হিংস্র বুলেটের সামনে পেতে দিয়েছি সমুদ্র বক্ষ।
স্বাধীনতার জ্বলন্ত সূর্যকে ছিনিয়ে এনে, দানবের গুহা থেকে,
মুক্তির বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দে ঝর্ণাধারা হয়েছে একই সঙ্গমে -
তবু বন্ধুত্ব হলো না।

দুর্ভিক্ষে, দুঃসময়ে ভাগাভাগি করে খেয়েছি অন্ন,
প্রলয়ে, ঘূর্ণিতে, যুদ্ধে আশ্রয় নিয়েছি একই ছাদের নীচে,
একই মায়ের ভালবাসার ছায়ায় বেড়ে উঠেছি বৃক্ষের মতো, আর
আনন্দ বেদনা ভাগ করে নিয়েছি একে অন্যের, জন্মাবধি -
তবু বন্ধুত্ব হলো না ৷

অদৃশ্য দেয়াল গুলো থেকেই গেলো চীনের প্রাচীরের মতো -
দেশ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দল, মত, রং, অহংবোধ আর স্বার্থের দেয়াল।
এক একটা করে অনেক হার্ডল ডিঙ্গানোর পরেও
অহংবোধ আর স্বার্থের দেয়াল গুলো ডিঙ্গাতে পারি না কিছুতেই।
ওরা অচল, অলঙ্ঘ্য হয়ে দাড়িয়েই থাকে, হিমালয় হয়ে।