আজ নিস্তব্ধ এই রাত, এই দিন, এই গর্জে উঠা হলিউডের মাঠ___
নীরবচিত্র জনশূন্যহীন এ পথ, কোটি হৃদয়ের পর্যটন কেন্দ্র;
ছাত্র নেই, শব্দ নেই, পড়া নেই স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি, কোচিং কোথাও!


 


প্রতিনিয়ত জীবাণুর মিছিল চলে দুঠোঁটের কোণে
হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক, চোখে সানগ্লাস  তবুও মৃত্যুর ঢেউ এ তৃষ্ণার্ত দেয়ালে!
বাহিরে কারফিউ, একাকীত্ব ডাকে বিষণ্ণ এ মন
অসুস্থ মস্তিষ্কগুলোর আনাড়ি কান্না ভেসে আসে নিদারুণ;
জানালা খুলি, তাকিয়ে দেখি অন্যরকম প্রকৃতির এ বিচরণ___!


 


দূর থেকে মধুর কণ্ঠে মোয়াজ্জিনের আযান ভেসে আসে____
নামাজ পড়তে আসো, ঘুমের চেয়ে নামাজ ভালো
মাইকে মোয়াজ্জিনের গজল আসে___
নামাজে শান্তি আছে, সকল বিপদ মুক্ত হয়
অথচ আজ আর কেউ মসজিদের কাতারে এসে দাঁড়াতে চায় না
আজ আর কেউ মক্কা তাওয়াফ করতে বলে না!


 


কি অশ্লীল ছিল জীবনের এ রীতিনীতি, এ পংক্তিমালা; হাটতে, বসতে, খেতে, আড্ডাতে মেতে উঠা পাপ
যার ফল আমরাই তো কুড়িয়ে নিয়ে এসেছি;
প্রভু মুক্তি চাই, আমাদেরকে জেগে উঠতে দাও___ তোমার ইবাদতে শামিল হতে দাও!
আমরা ঈমান নিয়ে মরতে চাই, ভুলের জন্য ক্ষমা চাই; তওবা করার সুযোগ দাও;
করোনা ভাইরাস নয়, আমরা তো কেবলি তোমাকেই ভয় করি, তোমাকেই স্রষ্টা বলে এই জমিনে ঘোষণা করি।


হঠাৎ একটা ঝড় আসে, একটা গর্জন সৃষ্টি হয়; পুরোটা আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়, খুব বৃষ্টি হয়

চমকে উঠি, অবাক দৃষ্টিতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকি___

আহা কি আশ্চর্য এই পৃথিবী!

কখনো মেঘ, বাতাস, কখনো উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ

আবার কখনো উপেক্ষার শহরে অপেক্ষায় দাঁড়ানো বসন্ত___

আহা রক্তিম ফুলের গন্ধ ছোঁয়ার স্পর্শতায় পদ্মপাড়ে চোখ ভিজানো সেই বিষণ্নতার দেয়াল!

 

বিবর্ণ এই রাজপথে সেই কবে জন্ম নিয়েছিল একটা অসুখ; অথচ মানেনি কোন নিয়ম-নীতি, সূত্র কিংবা ঋতু উৎসব

মাঝেমাঝে চুপটি মেরে থাকি, এলিয়ে দু'হাত ভরি, তৃষ্ণা পুরাই, স্নান করি___তবুও হয় না এর সমাপ্তির উৎসব!

 

কতদিন ঘুম নেই দু'চোখে___নীরব আর্তনাদ ভয়ে চলে বুকে, পিঠে; সামাজিক রীতিনীতি, সাংসারিক দায়, সন্তানের চিৎকার শূন্যতার ভরণপোষণে পোষ মানে না হৃদয়ের কোন খেলাঘর; করুণ পরিস্থিতি জেনেও এ পথে পা বাড়াই, যুদ্ধ করি, কর্মেতে আহার যোগাই___!

 

জানি কষ্টের পরেই স্বস্থি রয়েছে___সুখের ঠিকানা যদি অসুখের গভীর ভাঁজে থাকে, তবে কষ্ট সে তো মধু পূর্ণিমার উজ্জ্বল নক্ষত্র!

আসবে একদিন ইনশাআল্লাহ___।।