কেউ তাঁর পুরনো স্মৃতিকে ভুলতে পারে কি না আমার মনে হয় না। পুরনো স্মৃতি যেন নতুন করে বুকে এসে বিঁধে। নতুন করে অনেক সময় আঘাত হানে। আর পুরনো স্মৃতির ভিতরে কাছের মানুষের স্মৃতিগুলো কখনো ভুলতে পারা যায় না। ঠিক তেমনি লেখক এখানে তাঁর "মিলনের সুর" কবিতায় তাঁর আত্মার বন্ধন প্রিয় স্ত্রীকে হারানোর বেদনা তুলে এনেছেন। তাকে পেয়ে লেখক তাঁর কাছে যে ভালবাসা পেয়েছেন, তাকে নিয়ে যে স্বপ্ন বেঁধেছেন সেই আকাংখাগুলো তোলে আনার চেষ্টা করেছেন। জানি কেউ চিরদিন বেঁচে থাকে না, তবুও আমরা তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। কিন্তু মাঝপথে যদি তাঁর দুচোখ নিভিয়ে যায়, তখন তা কেবলি ধোঁয়া ধোঁয়া লাগে। আবার জানি কেউ মরণের সুধা পান করলে আর ফিরে আসে না, তবুও লেখক তাকে স্মরণ করে তাঁর কষ্টগুলোর কথা তুলে ধরেছেন। আসলে প্রিয়জনের দুচোখ যখন না ফেরার দেশে চলে যায়, তখন বিদীর্ণ স্বপ্নগুলো যেন নিথর হয়ে যায়। বেঁচে থাকাটা যেন তখন মহাপাপ হয়ে উঠে। লেখককে যেন বারবার মনে করে দেয় বারহাত শাড়ি পড়ে যখন তাঁর হাত ধরে মিলনের সুর তোলে এসেছিলে, আবার সেই মিলনের সুর নিভিয়ে একদিন লেখকের হাতের কাছেই চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে পড়ে। লেখক তাঁর এ বুকভরা কষ্টগুলো যেন ছড়িয়ে দিয়েছেন কবিতার প্রতি স্তবকে।। সুতরাং উআমি মনে করি ''মিলনের সুর" কবিতাটি এভাবে ব্যাখা করলে "মিলন" বিষয়ের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যতা পাবে।।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মার্চ ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৪৬টি

সমন্বিত স্কোর

২.৬৮

বিচারক স্কোরঃ ১.৩৩ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৩৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - মিলন (আগস্ট ২০১৯)

মিলনের সুর
মিলন

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৬৮

মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী

comment ৭  favorite ০  import_contacts ১৫০
ওভাবেই জ্বেলে রাখি অষ্টপ্রহর, দু'কুল বেয়ে যখন উঠে ঝড়
ওভাবেই সুনীল আকাশ তোলে দেয় নীল খাম- বিদীর্ণ স্বপ্নগুলো যখন হয় নিথর;
গভীর রাতের উষ্ণ হাওয়া তোলে দিলে ঘণ্টা বাজে মেঘের
প্রকম্পিত গভীর নিশ্বাস, বিষণ্ণতার প্রচ্ছেদ, বিতৃষ্ণার আগুন ছলকে উঠে কেড়ে নেয় ঘুম!

এভাবে পোড়ে দ্যাখো দোপাট্টার আঁচল, সিঁথির আল ধরে যখন প্রতিশ্রুতির চলে সদ্যস্নান-
এভাবেই দ্যাখো দাঁড়িয়ে থাকে ল্যাম্পপোস্ট, কপট ইচ্ছেগুলো যখন চপলা অতীত-
তবে দ্যাখো তোমার চোখেও স্বপ্ন ছিল, আগলে রেখেছিলে প্রতিশ্রুতির দেয়াল
শ্রাবণের উতলা নদীতে ভীষণ তোফান, তবুও ছাড়োনি তো হাল!

দ্যাখো এখনো শহর ভেজা, শূন্যতায় তাকিয়ে থাকা বীভৎস মুখ
বৃষ্টির ঝাপটায় যখন রচিত হয় কালবৈশাখী উপন্যাস-
এখনো প্রচন্ড খরতাপে অসুখ নামের মিথ্যের অজুহাত,
চোখের কাজল বেয়ে জল যখন কসমিক শূন্যতার প্রবল উচ্ছ্বাস
তখনো তাচ্ছিল্যের ঘরে ভুলের ছলে নবতরঙ্গের সুরে উছলে উঠে গভীর নিঃশ্বাস...!

অনিয়মের মুঠোতে ভরে নিই অশ্রুগলা জল
রাত গভীর হলে ভাংগা কাঁচের ঠোঁটে ভেসে চলে পঞ্চবায়ু-
অন্ধকার জমিতে জমে তখন অপেক্ষার রৌদ্রতেজ,
অতঃপর অবরুদ্ধ স্বপ্ন, পাহাড়ের গর্তে আটকে থাকা জীবন চক্র
অতঃপর নির্ভীক ঘূর্ণিঝড়, দখিণা জানালার গায়ে লেগে থাকা উন্মাদনা
এ সবই আজ শ্যাওলায় মাখানো যন্ত্রণার খেলাঘর, ধোঁয়া ল্যাপ্টানো ভেজা মেঘলা আকাশ!

জানিনা কি পেয়েছি সেই বাজারে, কতো টাকায় ছিল তার দাম-
অকুল সাগর পাড়ি দিয়ে সে নিজেকে আপন করেছিল মরণ,
কোনদিন তো ভুল দেখিনি দয়াময়, তবে কি বা ছিল এমন
সেই মিলন বেলার সুরে এখনো তো পাগল হই, এখনো পোড়ায় বিষাদী মন!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement