আমরা কোন গল্গের থিম উপস্থাপন করার সময় কিছু না কিছু বৈশিষ্ট্য ও চারিত্রিক বর্ণনা তুলে আনার চেষ্টা করি। যেখানে এক একটি চরিত্র গল্পকে এক এক ধরণের অনুভূতি যোগাড় করে। তবে যাই বলি না কেন, আমরা কান্নার মাঝে হাসিটুকু তুলে আনার চেষ্টা করি। যদিও বা কিছুকিছু গল্প হাসির মাঝে বেদনার রূপ টেনে, চারিত্রিক বর্ণনার প্রয়াস ঘটাই সমাপ্ত হয়। কিন্তু গল্পের ভিতরে হাসির প্রলাপ লেখা পড়ার প্রতি পাঠকের মনকাড়ার জন্য মাত্র। এ গল্পে আবুলের প্রতি সমাজের দুর্ব্যবহার ও সাজেদার করুণ কাহিনীকে মাঝরাতের নিস্তব্ধতা ও নীরবতার সাক্ষী তুলে আনা হয়েছে। যেখানে দুই ধরণের দু'জন মেয়ের স্বপ্ন আর আকঙ্খাকে লেখক বাস্তবতার রূপ দিতে চেয়েছেন। সুতরাং "বিষণ্নতার গল্প" লেখাটি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে "মাঝরাত" বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যতা পাবে বলে আশা রাখি।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১২ মার্চ ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৩৮টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - মাঝ রাত (সেপ্টেম্বর ২০১৮)

বিষণ্নতার গল্প
মাঝ রাত

সংখ্যা

মোঃ নুরেআলম সিদ্দিকী

comment ১১  favorite ০  import_contacts ২৩৪
(প্রথম)
আজ সবাই আমার কথা শুনলে আমাকে পাগল বলে। একেবারে পুরো পাগল নই, আবার কমও নয়। আঁধা পাগল। আমি আর কি বলবো, চাতক পাখির মত হা করে তাকিয়ে থাকি। পাহাড়ের উপর গোলাপ জন্মেছে; কত যত্নে, কত আদরে রাখা হয়েছে তাকে। আর আমি যেন তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি। তার রূপ-রহস্য আমাকে বিমুগ্ধ করে ফেলেছে। এই তো মাঝেমাঝে অরুণার কথা ভাবি। একদম না, কম কম। আহা! কি সুন্দর তার হাসি, কি সুন্দর তার রূপের গঠন। তার হাসির দিকে তাকালে রজনীগন্ধা ফুলের কথা মনে পড়ে যায়, রূপের কথা না হয় বাদ দিলাম। বেনুনি করা চুলে গোলাপের ডাটা গুঁজিয়ে ব্যাঙের মত ফুল বাগানে, বাড়িব ছাদে, ঘরের জানালায় হা করে তাকিয়ে থাকে। মনে হয় যেন আমি বিশ্ব নায়েক, অপরূপ চেহারায় বিমুগ্ধ। তার মা আবার জল্লাদী। চুপিচুপি কথা বলতে পারেনা। একেবারে-ই না। কিছু শুনলে হয়েছে রে বাবা! দুই কাদে ঢোল দু'টো নিবে। আর পুরো গ্রাম উজার করে গেঁয়ে যাবে। এই তো সেদিন বিকেল বেলা আমি তাদের উঠোন দিয়ে রানাদের বাড়িতে যেতে চেয়েছিলাম। অরুণা জানালার দরজা ফাঁক করে তাকিয়ে আছে। পরক্ষণে অরুণার এ ভাব তার মা বুঝে ফেলছে। আমি কাছাকাছি গেলে-ই হলো রে বাবা, মেয়েকে ঝাপটানি দিয়ে মারলো দু'টো চড়। আমি ভাবলাম, ঢেকিতে মনে হয় চাল গুড়ো করছে। এই দিক সেদিক ঘুরে দেখলাম; কই ঢেকি দেখছি না তো। ঢেকির শব্দ কোথা থেকে আসলো?
অতঃপর তার মা এসে আমার শার্টের কলার ধরে আমাকে ধাক্কা মেরেছেন। আমি ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেছি! আমি তাও কিছু বলিনি। কোন আপসোস জন্মাইনি। ভেবেছি মা যখন হাটা শিখাতে চেয়েছেন, তখন তার হাত ধরে আমি নিশ্চিন্তে হেটে যেতে শিখেছি। আর যখন আমি একাই হাটতে চেয়েছিলাম, তখনি হোচট খেয়ে পড়ে গেলাম। যাক ব্যথা পাইনি, তবে বালাই দূর হল। একদল লোক হা করে তাকিয়ে আছে, একদল মুচকি হাসি দিচ্ছেন। আর একদল বলল, ভালাই হয়েছে। বেয়াদবকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে ছাড়লো। ভাবতে-ই অবাক লাগে, আমি বেয়াদবি করছি! ইচ্ছে করছে গলা ভিজিয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করি। তখনো কাউকে কিছু বললাম না। গলায় চাদর পেছিয়ে সোজা চলে গেলাম।

(দুই)
আলোক উজ্জ্বল এক পৃথিবী। সারাদিন উপবাস থেকে চুলোয় খাবার তুলেছেন সাজেদা। ক্ষুধার জলরাশি দাউ দাউ করছে নিরুদ্দেশ। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে অল্প কয়েক টাকা পেয়েছেন তার বুড়ো বাবা কাশেম জমাদ্দার। সে টাকা দিয়ে কয়েক মুঠো চাল, আর সামান্য ডাল নিয়ে এই গভীর রাতে বাড়িতে ফিরেছেন। অন্যদিকে সাজেদার মায়ের শরীর ভালো নেই। এই বুড়ো বয়সে কত আর ভালো থাকা। তবুও কিছু স্বপ্ন এখনো সাজিয়ে রেখেছেন তিনি, আবার কিছু স্বপ্ন চৌরাস্তার মোড়ে-ই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে বিলীন হয়ে গেছে। ফের সে স্বপ্ন নিয়ে আর জেগে উঠতে পারেননি। কাঁচ ভাঙা স্বপ্ন সহজে জেগে উঠে না। জেগে উঠলেও তা জোড়াতালি। একদিকে তার এই অবস্থায় থাকা, অন্যদিকে তার মেয়ের সীমারেখা আঁকা। মরণের পথে মেয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য একটু বাঁচার আকুতি কেবলি মরণ পান করার মত যুদ্ধ। কখনো কখনো বুকের জড়িয়ে ধরে মেয়েকে চিন্তা না করার আশ্বাস যোগায়, কিন্তু নিজেই যে কতটুকু চিন্তায় কাতর হয়ে পড়ে আছেন কে বা তার খবর নেয়! কে বা তার জন্য দীর্ঘনিশ্বাস ফেলায়!! সুখের আরেক নাম অসুখ। অসুখ এমনি হয় না, কিছুই চিন্তায় সুখের গাছে বিষের পানি ঢালে। এই তো সেদিন আমাকে খবর দিয়েছেন। আমিও নিশ্চিন্তে দৌড় দিলাম। ভাবনায় কখনো আমাকে পরাজয় বরণ করতে পারেনি। আশা করি পারবেও না। সৃষ্টিকর্তা হাত দিয়েছেন, পা দিয়েছেন, চোখ দিয়েছেন যুদ্ধ করার জন্য, ভাবনার শহরে হাবুডুবু খাওয়ার জন্য নয়। প্রতিনিয়ত এক একটি ভাবনা এক একটি পাহাড় ভাঙার কথা বলে, তাই বলে বিবেক পাহাড় ভাঙে না। বিবেক ইচ্ছা অনিচ্ছার গোসল করায়। অতঃপর খাটি কথা বের করে নিয়ে আসে। কিছু বলতে না বলতেই, চাচি বলল----
"আবুল তুই তো জানিস, প্রতিনিয়ত মরণ আমাকে হাতছানি দিয়ে যাচ্ছে। এ অবলার পথে কতটা ভালো থাকি সেটা কেউ না জানলেও সৃষ্টিকর্তা বেশ ভালো জানেন। তবে এই মরণের চিন্তা মোটেও নেই আমার, একা এসেছি একাই যেতে হবে।
শুধু রেখে যাবো স্মৃতি, আর বুকের ভিতরে দাউ দাউ করা জলরাশি। তবে যার জন্য মুঠোভরে এতটা প্রত্যাশা রেখেছিলাম, সে মেয়েটির জন্য কিছু করে দিয়ে যেতে পারলাম না। জানিনা তুই জানোস কি না, তোর বাবা ছোটকালে কথা দিয়েছিল তার সংসারে আপন করে নেওয়ার জন্য। যদি পারিস এ আমার অবলা মেয়েকে দূরে সরিয়ে দিস না। তোর কাছে অনুরোধ রইল!

(তিন)
আজকাল উত্তাল নদীর ঢেউ আচড়ে পড়ে বুকের ভিতর, কিছু বুঝে উঠতে না উঠতে-ই স্বয়ং নিজে-ই ঝুরঝুর বালির মতোন ভেঙে পড়ি। একপাশে হতাশা, অন্যপাশে ঢেউ। একপাশে স্বপ্নজাল, অন্যপাশে আগুন। হতাশা পেরুতে পারলে-ই ঢেউ, স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেই আগুন। জীবনের এ লীলা খেলা বুঝে উঠা দায়। সবাই খেলা দেখতে জানে, কেউ ভরসা দিতে জানেনা। কেউ হাত ধরে দাঁড়া করার সুযোগ করে দেয় না! শুধু স্পন্দনের বুকে বেজে যায় দীর্ঘশ্বাস। ফুরসুৎ অভিমান।
-)আজকাল অরুণাও লজ্জা-শরম ছেড়ে দৌড়ে চলে আসে। জানিনা কোন ছলনার মালা গেঁথে যাচ্ছে দিনদিন, জানিনা কোন নদীর জলে সেই ছলনার বাসা বাঁধে প্রতিনিয়ত। এই তো সেদিন একদল হুমকি দিয়ে গেল। একদল আঙ্গুলের ইঙ্গিতে ছিনিয়ে নেওয়ার বার্তা পাঠিয়েছে। আর এক দল গুম করে দিবে বলে বাতাস কানে কানে বলে গেছে। একটি মেয়ে ঘর বাঁধার ইচ্ছে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখে, আর একটি মেয়ে ছলনার শহর উপহার দেওয়ার জন্য ইচ্ছে মত ভাব যোগাড় করে। একটি মেয়ে শান্তির জন্য মাঝরাতে জানালা খোলে দূর থেকে বহুদূর চোখ রাখে, কত চিন্তা তার বুকে এসে নিরুপায় বাসা বাঁধে। কখনো কখনো নামাযের বিছানায় সৃষ্টিকর্তার কাছে চোখের জলে আকুতি, মিনতি করে । আর একটি মেয়ের এক হাতে সুখ, অন্য হাতে শান্তি; দু'হাতে ক্রিকেট, দু'পায়ে ফুটবল। প্রতিনিয়ত বুকের মাঝে পানকৌড়ির হাসি, তবুও তার মনে শুধু ছলনার ছল ছল শব্দে এক একটি প্রক্ষেপণ এঁকে যায়। পূর্বাশার আলো ঝিকমিক করে শিশিরের গায়। কিছুক্ষণ আগে-ই থমকে দাঁড়িয়েছে স্মৃতির পাতা। এলোমেলো সংকোচ নিয়ে তাকিয়ে আছে দুচোখ। কিছু অশ্রু খেলা করে নিদারুণ, আর কিছু অভিমানে আক্রোশে ফেটে পড়ে যেন মন। তবুও সংসারের দিকে চেয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছে জাগে আর একদিন।
-) হঠাৎ অরুণা একরাশ অভিমান নিয়ে উপস্থিত। কিছু বুঝে উঠতে না উঠতেই চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে কয়েকটা নরপশু। হিংস্র আচরণ। এখনি কলিজা চুষে খাওয়ার ইচ্ছে জাগে তাদের। চুপ করে থাকা ছাড়া বাঘের সাথে আর কিছু মানায় না। বাঘের সাথে শিয়ালের আচরণ কখনো মানাবে না। নিরুদ্দেশ মেঘ ডাকা গর্জন, নিরুদ্দেশ হুমকি। তবুও নিজেকে শিশিরের সাথে মিশিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। তবুও বৃষ্টির সাথে নিজেকে সম্পর্ক গড়ার সমীকরণ মাত্র।

(চতুর্থ)
আজকাল কুকুরগুলোও আমাকে দেখলে ঘেউ ঘেউ করে। ব্যাপার স্যাপার কিছু বুঝিনা। আগের চেয়েও একটু বেশি ঘেউ ঘেউ করে। শুনেছি বাড়ির কাছে আসলে কুকুর একটু সাহস বেশি পায়, যেখানে সেখানে কুকুরের ব্যবহার সমান হয় না। কিন্তু কিছু কিছু নরপশু আছে, যারা কুকুরের মত যেখানে সেখানে আচরণ করে, যেখানে সেখানে ঘেউ ঘেউ করে।
-) সাজেদাকে আজকাল নিশ্চুপ থাকতে দেখা যায়। একেবারে চাঁদের মত নিশ্চুপ। তার চারপাশে সহস্র নক্ষত্রকে হাসি খুশি রেখে নিজে-ই একা একা পুড়ে, নিজে-ই শেষে ভেঙে পড়ে। তেমনি কোন নিরুত্তর নেই তার মুখে, নিস্তেজ বর্ণমালা দুচোখে যেমন ঢেউ খেলে। এই তো সেদিন তার মা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। মায়ের এ করুণ মৃত্যু নিজে আকস্মিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সহস্র রাতের পুরনো বেদনা বুকের ভিতরে ঠাই জায়গা নিয়েছে। বাকী সময়গুলো কিভাবে কাটাবে তা নিয়েও হাজারটি প্রশ্ন নীরবে উপচে পড়ে। খোলস পড়া মাকড়শারজাল ছাড়া নিজেকে আর কিছু মনে হয় না।

"সাজেদা এভাবে ভেঙে পড়ো না, প্লিজ! যুগ থেকে যুগান্তর এমনি ঘটেছে, এমনি হয়েছে। মৃত্যু কাউকে ছাড়বে না, কাউকে রেহাই দিবে না। আজ না হয় কাল সকলকে আজরাঈল ছিনিয়ে নিবে। ভালোবাসার এমন মোহ মায়া ত্যাগ করে, এমন বিশ্বাস ছুড়ে দিয়ে সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে"।
সাজেদার মুখে আজ কোন উত্তর নেই, আজ কোন শব্দ নেই। শুধু এক একটি দীর্ঘশ্বাস এক একটি কষ্টের কথা তুলে আনে, এক একটি মরণ পান যুদ্ধের সীমারেখা আঁকে। তার দুচোখ নীরবে মনের কথা তুলে, আর তাকে বন্ধু ভেবে প্রতিনিয়ত গোসল করাই। তবুও মন ভাঙা শব্দের জোড়া নেয় না, ভাঙা শব্দের জোড়া হতে রাজি না। কেবলি বিষণ্নতা, কেবলি মাঘের হিম শীতলতা কিংবা শ্রাবণের নদীতে সাতার কাটা।
-)এদিকে তাকে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টায় আমিও বিষধর কিছু সাপের মুখে পড়ে গেছি। হয় তো ৯০ডিগ্রি কোণ করে এখনি ছোবল মারতে পারে। তাদের এক একটি ছোবলে মুহূর্তে চৌচির হয়ে যেতে পারি, মুহূর্তে এ্যালগরিদমের এক একটি সূত্রকে এক একটি আগ্নেয়গিরি বানিয়ে ফেলতে পারি। আজো সব চুপ করে থেকেছি। আজো কোন হিসাব নিকাশ নেইনি। মনকে পাথর বানিয়েছি, কানকে গরুর সাথে সংযুক্ত করেছি। ওরা কি বলে, তাদের ভাষা বুঝি না; বুঝলেও বোবা প্রাণীর মত কিছু বলতে জানিনা। হে সাহস, হে শক্তি, হে অনুশোচনা প্লিজ থাকনা আর কিছুক্ষণ, আর কয়েকটা দিন!

(পাঁচ)
ইচ্ছেরা আজকাল অনেকদূর পালিয়ে বেড়াই। ঘুম নেই দুচোখে। তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে, পাহাড়ের দিকে। তারাও আজকাল পাগল ভাবা শুরু করে দেয়। তারাও আজকাল আমার সাথে বড্ড বেঈমানি করে। আমাকে কি আর তাদের সাথে খেলা করা মানায়? আমার বিশ্বাসহীনতার পুতুল নাচ এ সমাজ কি মেনে নিবে? মনে হয় না। তবুও নৃত্য আপসোস বাড়াই। নিজেকে আর একবার নতুন করে জাগিয়ে তোলার জন্য প্রতিদিন  তরকারিতে মুখ দিই। লবন হয়েছে কি না! লবন হলেও ঝাল ঠিকমত আছে কি না! ইট, পাথর, সিমেন্ট সবই যতন করে রেখে দিয়েছি। সুযোগ হলেই মিশাবো। কিন্তু তা আর হয়ে উঠে না, নিশ্চল নৈঃশব্দের দেয়ালে পুষে রাখি।
-) এতকিছুর পরেও দুই একটা পাত্রি আসে। দুই একজন উকিল আসে। তাদের সাথে কয়েকজন চুরাবালির কথা বলে যায়। সে সাথে পরিবারকে কিছু জ্ঞান দিয়ে যায়। একেবারে শিক্ষিত জ্ঞান। যে শিক্ষা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিখায় না। এমন কি অক্সফোর্ডেও না। যেন ওরা-ই সবচেয়ে বিবেকবান মানুষ। বিবেকবোধ ওদের আছে, আর কারো কি এমন আছে....?
-)এই আবুলের মা শোন, ছেলে বড় হয়ে গেছে। দিনকাল ভালো নয়। যে কোন ঘটনা যে কোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে। তোমার যে কোন আশা ভেঙে দিতে পারে। তোমার স্বপ্নের হাতে জ্বালানো প্রদীপশিখা যে কোন সময় নিভে যেতে পারে। আর দ্বিতীয়ত, ছেলে একটাকে সবাই পাগল বলে ডাকে। মাথায় মনে হয় সমস্যা আছে। যেমন পারো তাড়াতাড়ি কাজ সেড়ে ফেলো। মায়ের মুখে কোন উত্তর নেই। যদিও তাদের প্রতি মায়ের কর্ণপাত একেবারে-ই শূন্য, তবুও নিন্দুকের নিন্দার ভয়ে মাকে কর্ণপাত দিতে হয়। এমনি তো নারীজাতি, এক কথা বারবার শুনতে রাজি নন। বারবার মানুষের খারাপ ব্যবহার সয়ে যেতে রাজি নয়। ঐ যে বলে না," যার বিয়ে তার খবর নেই, পাড়া পড়শির ঘুম নেই"। আমি খুব চিন্তায় অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে আছি। যদিও সমাজের এমন ব্যবহারে আমি কাঠফাটা হয়ে গেছি, তবুও নিশ্চিন্তে পথ আকড়িয়ে ধরার সাহস লুকিয়ে পথ চলছি। কিছু অপবাদ থাকুক না। কিছু বেদনা হোক না আপন। নিন্দুক না থাকলে নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায় না। নিজেকে খাটি মানুষ হিসেবে তৈরি করা যায় না।
-)এ দিকে প্রতিনিয়ত আগুনে পুড়ছি। জানিনা অরুণার ছলনার ফাঁদে পড়ে যে কোন মুহূর্তে যে কোন ঘটনা ঘটে যায় কি না। যে কোন মুহূর্তে আশার প্রদীপ নিভে যায় কি না। সাজেদার কোন সমস্যা হয় কি না। আমি ছাড়া তার খোঁজ খবর নেওয়ার মত আর কে বা থাকতে পারে? বুড়ো বাবার অবস্থাও ভালো নয়। যেমনে হোক তার মায়ের কথা রাখতে হবে আমাকে।

(ছয়)
মাঝেমাঝে মেঘের কাছে হাত জোড় করে ভিক্ষা চাই। পূর্ণিমার কাছে কিছু দীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করি। সব শক্তিসামর্থ্য সমুদ্রের কাছে জিইয়ে রাখি। পুষে রাখি এক একটি বেদনা, নীরবতা, বিষণ্নতা। তবুও পথ চলার সাহসিকতাপূর্ণ হারায় না। যাক গে, সব অপেক্ষার দীর্ঘবিরতির যখনি প্রত্যাখ্যান ঘটবে, না হয় সেদিন সব ফলাফল চলে আসবে। অরুণার এক একটি ভাব, এক একটি ভাবনার কল্পরাজ্যে জায়গা নেয়। একটি একটি চরিত্র এক একটি থিম উপস্থাপন করে। এই তো কিছুক্ষণ আগে-ই অরুণা আমার কাছে চলে এসেছে, কিছুক্ষণ আগে-ই সে ভিন্ন ছলনা নিয়ে উপনীত হয়েছে। হয় তো আজ-ই ফাইনাল খেলা। কিংবা আজ-ই সব হিসেব নিকেশ বুঝিয়ে দিবে। কাছে এসে রামধনুর মত অভিনয় শুরু করে দিলো। এই.... এই শুনো না, চলো আমরা আজ বিয়ে করি। আর ভালো লাগে না, এবার চলো না প্লিজ। আর আমি ডলফিনের মত মুখ উপরে দিয়ে চুপ করে আছি। যেন আমি কিছু জানিনা, যেন আমি সাগর পাড়ের নাইয়া। কিংবা দর্শক। সিনেমার হলে তার অভিনয় দেখতে গেছি। তার অভিনয় দেখে আমি বিমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি। এত ভাব চরিত্রের পরেও পাশে বসে তার কিছু বলার আকুতি যেন নির্মল সুভাস। যখনি চলে যেতে চেয়েছি আর তখনি একদল কুকুর আমার পিছু নিয়েছে। হঠাৎ আমাকে শার্টের কলার ধরে তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে সাজেদার কাছে নিন্দুকের খবর চলে গেল। আবুল অরুণাকে বিয়ে করেছে। কোন প্রতিশ্রুতি ছাড়া-ই, কোন দীর্ঘশ্বাস ছাড়া-ই।
অথচ এ দিকে তার মা শতশত মানুষের সম্মুখে, শত শত ব্যবহার ছুড়ে মারলো। যা বুকের ভিতরে বেয়নেটের মত বিস্ফারিত হতে লাগলো। রুপার সে ভাবনা আর হয়ে উঠেনি। মানুষকে দিয়ে শরীরে আঘাত করার সে আশ্বাস আর জেগে উঠেনি। অতঃপর সে এলাকার মেম্বার এসে আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। অথচ আমার ইচ্ছে করছে এক শিশি বিষকে খুব আপন করে নিই। ইচ্ছে করছে আত্মহত্যাকে এখনি ভালোবেসে বুকে জড়িয়ে নিই। কিন্তু সাজেদার কথা ভেবে তা আর হয়ে উঠে না। তার মায়ের প্রতিশ্রুতি বারবার বুকে এসে বাসা বাঁধে। নিজে মরে যেতে পারি, তবে অন্যকে কষ্ট দিয়ে নয়। নিজে হারিয়ে যেতে পারি, অন্যের বুকে দীর্ঘনিশ্বাস দিয়ে নয়। অতঃপর সাজেদার দীর্ঘবিরতির প্রত্যাখ্যান ঘটলো। বিশ্বাসহীনতার গল্প তার বুকে এসে বিঁধলো। মনে পড়ে গেল তার অসহায়ত্বের রূপভেদ। পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস ভঙ্গ। চিরদিন আপন করে রাখার প্রতিশ্রুতিতে অগ্নিকান্ড। মাঝরাতে গল্প সাজিয়ে, সে গল্পতে মরুভূমি বানানো। নিন্দুকের এমন মিথ্যাচার তাকে কাফনে সাজানো লাশ ছাড়া আর কিছু হয়ে উঠেনি।
অতঃপর এক দৌড়ে তার কাছে গিয়ে আতর, গোলাপজলের সুভাসে খাটলিতে সাজানো লাশ ছাড়া আর কিছু পাইনি!!

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement