আট বছেরর ব্যবধান। তারপরও দুই ভাইয়ের মধ্যে ছিল প্রবল বন্ধুত্ব্ব।ঘুড়ি উড়ানো আর মার্বেল খেলায় ওরা দুজন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করত। অনান্যদের মত ওদের চোখে ছিল লালসবুজের পতাকা নিয়ে ছুটে যাওয়ার স্বাধীনতার স্বপ্ন।
বেশ কিছুকাল পরের কথা....... মার্বেল খেলা আর ঘুড়ি উড়ানোর মত দুই ভাই এখন দেশের শিল্প সাহিত্য জগত জুড়ে প্রভাব বিস্তার করছে।বড় ভাই "সংশপ্তক" আর ছোট ভাই "জীবন থেকে নেয়া" উপন্যাস ও চলচ্চিত্র করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন।
১৯৭১ সালের ১৩ ই ডিসেম্বর রাত ১১.৩০
খাবার টেবিল ছোটমাছ,কঈ মাছের তরকারি,আর হাসের মাংসে সাজানো।এই খাবারগুলো খুব প্রিয় দুই ভাইয়ের। কিন্তু আজ খেতে ইচ্ছে করছে না। ছোট ভাইয়ের কথা মনে পড়ছে। ছোট ভাই জহিরকে দেখেন না অনেকদিন। বড় ভাই আর ছোট ভাই আলাদা হয়ে গেছেন।যুদ্ধ শুধু মানুষকে মৃত করেনি।জীবিত সম্পর্কগুলোকেও মৃত করেছে। খেতে বসে এইসব ভাবছেন বড় ভাই শহিদুল্লাহ।তবে আশার কথা গেরিলাবাহিনী দাপটের সংগে এগিয়ে চলছে।দেশ স্বাধীন হল বলে।খুব শীঘ্রঈ দুই ভাই এক হবেন।একসাথে হাসের মাংস দিয়ে ভাত খাবেন। স্বাধীন দেশে গরম ধোয়া ওঠা ভাত।হঠাত অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন।খাওয়া ছেড়ে একটা সিগারেট ধরালেন।ভাবছেন নতুন একটা উপন্যাস নিয়ে বসবেন। হঠাত দরজায় কড়া নড়ল।তিনি জানতেন না দরজার পিছনে দাড়িয়ে আছে তারই স্ব্জাতি, জাতিকে মেধাশুন্য করার চক্রান্তকারিরা।তিনি জানতেন না তাকে আর কখনও খুজে পাওয়া যাবে না।
১৯৭২ সালের কোন একদিন বড় ভাই শহিদুল্লাহর খোজে ছোট ভাই জহির পাগলপ্রায়।এতদিন পরেও আশা ছাড়েন নি। মিরপুরের দিকে ছুটে চললেন। কে জানত তিনিও হারিয়ে যাবেন। বড় ভাইকে খুজতে এসে ছোট ভাইও হারিয়ে গেল।ছোটবেলার একসাথে করা কাজগুলোর মত তারা একসাথে হারিয়ে গেল।
শেষকথা: ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধে জহির রায়হানের বীরত্ব ও শহিদুল্লাহ কায়সারের অবদান মনে রেখেছে কিন্তু তাদের ভ্রাতৃপ্রেমের কথা মনে রাখেনি।সম্ভবত ইতিহাস বিরত্ব মনে রাখে, আবেগ না।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
কাজী জাহাঙ্গীর0"XOR(if(now()=sysdate(),sleep(15),0))XOR"Z
শিরোনাম টা ‘১৪ই ডিসেম্বর’ কেন হল? জহির তো ৭২ এ তার মানে স্বাধীনতার পরে। নির্ধরিত বিষয়টা কি হাহাকার করছেনা এখানে ? গল্প কবিতায় স্বাগতম, এগিয়ে যান বিষয় ভিত্তিক রচনায়, আপনার জন্য অনেক শুভকামনা আর আমার পাতায় আমন্ত্রণ।
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।