আজানের ধ্বনীতে ভেঙ্গেছে ঘুম,
মায়াপুরীর নিস্তব্ধতায় কেটেছে নিঝুম।
রক্তজবা গাছে ঘেরা, আমার ছোট বাড়ীর উঠোন,
ভালবাসার রঙ্গিন ছায়ায়, বাড়ীটি আমার বড়ই আপন।
লগি হাতে নৌকা নিয়ে, খালের বুকে ভাসাই মন,
বাউন্ডুলে বাউল গানে, পাই যে রোজ নতুন জীবন।
সাধন ভজন তাত্ত্বিক কথায়, কাটে মোর সাঁঝের বেলা,
রসিক মন রসের খোঁজে, চোখে ভাসে চোখের মেলা।
ঘর ছাড়ি উদাস পথে, শুনি মধুর কোকিলের ডাক,
রহস্যময় মৌচাকে, ঘর বেঁধেছে মৌমাছির ঝাঁক।
আমিই শুধু একলা পথিক, শূন্যবাড়ী-শূন্য মন,
রঙ্গপ্রিয় বঙ্গভূমিই আমার মনের আপনজন।
নিন্দুকের দল নিন্দা করে, আমি নাকি সমাজ ছাড়া,
তামাশা ভরা কথামালায়, মন আমার আত্নহারা।
ইঁলশে গুঁড়ি বৃষ্টি দেখি, বসে মায়া পুকুরের ঘাটে,
পুকুর জলে ছন্দ খেলে, আমারও সময় কাটে।
রকমারী পিঠা-পুলি আর খেঁজুর রসের ঘ্রাণ,
গ্রাম্য সকাল, কুয়াশার চাদর, জুড়ায় মোর প্রাণ।
মেঠো পথ শিশির ভেজা, মজার পথ চলা,
রইল বাকী আমার ঘরের করুন গল্প বলা।
স্মৃতি গুলি হাতড়ে দেখি, দুঃখ ছাড়া নাই সুখ,
তিমির রাতে জোনাক জ্বলে, সেই আলোতে দেখি মুখ।


পাদটিকা : কবিতাটির প্রতিটি লাইনের প্রথম অক্ষর গুলি একত্রে মিলিয়ে হবে " আমার ভালবাসার ঘর আর নিতাইপুর গ্রামের স্মৃতি