এবা‌রের বিষয় "বাবারা এমনই হয়"। আমার গ‌ল্পে একজন বাবা জীব‌নের শেষ সম‌য়ে তার সন্তান‌দের কা‌ছে পাবার বাসনা কর‌ছেন। অ‌ভিমান কর‌ছেন যেন সন্তানরা অ‌ভিমান ভাঙা‌তে কা‌ছে আসে। য‌দিও সে অ‌ভিমান ভাঙা‌তে কেউ আসেনা, তবুও বাবারা অ‌পেক্ষা ক‌রে, কারন বাবারা এমনই হয়।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৮ ডিসেম্বর ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৩৪টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - বাবারা এমনই হয় (জুন ২০১৯)

বাবার ঋণ
বাবারা এমনই হয়

সংখ্যা

রওনক নূর

comment ০  favorite ০  import_contacts ৪৫

এই হাসপাতালের বিছানাতে প্রায় মাস খানেক শুয়ে আছেন জাফর সাহেব। দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকেন , সবকিছু ধুসর লাগে তার, তবুও পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলানোর চেষ্টা। অবশ্য এই শেষ বেলাতে কিছুই আর পাবার নেই তার। হয়ত মানুষের বয়স আশি বছরের উপরে গেলে তার আর বেঁচে থাকার অধিকার থাকেনা। কেনই বা থাকবে, সেতো আর তার পরিবার বা সমাজ অথবা দেশের কোন উপকারে আসতে পারেনা। নিজেকে তাই আজ শুধু বোঝা মনে হয় জাফর সাহেবের। কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন দুমাস হলো। তবে চোখ দিয়ে অনেক কিছু বলেন প্রতিদিন। দুচোখ এই হাসপাতালের কেবিনটিতে কিছু একটা খুজে প্রতিদিন। বরাবরের মত কিছু না পেয়ে দুচোখ বন্ধ হয় অশ্রু নিয়ে।

জাফর সাহেবের ছেলেমেয়েরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত, সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বাবার জন্য খরচা করতে তাদের কোন কার্পন্য নেই। তাইতো দেশের সবথেকে ব্যয়বহুল নামকরা হাসপাতালে বাবাকে রেখেছে। কত ভালোবাসে ছেলেমেয়েরা বাবাকে। এই হাসপাতালে যত্নের কোন অভাব নেই। তবুও তার অবুঝ দুটি চোখ কিছুএকটা খুজে চলে সবসময়।

কথা বলার শক্তি হারিয়ে গেলেও ভাবনার শক্তি হারিয়ে যায়নি জাফর সাহেবের। মনে পড়ে পেছনের কত স্মৃতি। ওদের মায়ের বড় ইচ্ছা ছিলো সন্তানদের দেশের বাইরে পড়ালেখা করতে পাঠাবে। কিন্তু জাফর সাহেব কখনও চায়নি ছেলেমেয়ে তার থেকে দুরে চলে যাক। তাই নিজের কাছে রেখে পড়ালেখা করিয়েছেন। স্ত্রী যখন তাকে ছেড়ে চলে গেলেন তখন সবাই বুঝিয়েছেন আবার বিয়ে করতে। কিন্তু জাফর সাহেব নতুন করে জীবন সাজাতে চায়নি। কারন তার জীবন সাজাতে যেয়ে যদি তার সন্তানদের জীবনে দুঃখ আসে। আর সেই থেকেই তার একা জীবন, একা বসবাস।


সন্তানরা আজ কত বড় হয়ে গেছে। বাবার ঋণ শোধ করতে তারা কত কি করছে। কত টাকা খরচা করছে। কিন্তু বাবার ক্লান্ত দুটি চোখ হাসপাতালের কেবিনে প্রতিটি দিনই তার সন্তানদের দেখার জন্য অপেক্ষা করে। খুব স্বাদ হয় ওদের বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে। ওরা কি আজ বুঝেনা যে ওদের বাবার ওদেরকে ছেড়ে থাকতে খুব বেশি কষ্ট হয়।

সকালবেলা মনটা বেশ খুশি আজ। রাতে স্বপ্নে তার সন্তান আর নাতীদের সাথে দেখা হয়েছে জাফর সাহেবের। তবে এত বছর পর তার স্ত্রীও এসেছিলেন তার সাথে দেখা করতে। বেশ কিছুদিন তার মনে হয়েছিলো সন্তানরা তাকে আর ভালোবাসেনা। কিন্তু স্ত্রী তাকে স্বপ্নে বলে গেছেন সন্তানরা বাবাকে অনেক ভালোবাসে। সেই আশাতেই চোখদুটো আজ বেশি বেশি কাউকে খুজছে। কিন্তু কেউ এলোনা। দীর্ঘশ্বাষ নিয়ে জাফর সাহেব চোখ বন্ধ করলেন। মনে পড়লো পুরানো দিনের কথা। মাঝে মাঝে অফিসের প্রয়োজনে রাত্রে বাসায় ফিরতে পারতেননা তিনি। পরদিন বাসায় এলে সন্তানেরা বাবার উপর কত অভিমান করতো। রাগ করে কথাও বলতে চায়তোনা। জাফর সাহেব বিভিন্ন উপহার দিয়ে সন্তানদের রাগ ভাঙাতেন। আজ খুব বেশি অভিমান করতে ইচ্ছে করছে তার। যদি এই শেষ বেলাতে সন্তানরা বাবার রাগ ভাঙালো আসে সেই আশাতে।

জাফর সাহেব জানেন তার সময় শেষ। এই শেষ বয়সের শেষ দিনগুলো সন্তান আর নাতীদের সাথে কাটাতে তার বড্ড লোভ জাগে। ব্যয়বহুল হাসপাতালের কেবিনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাবার ঋণ শোধ করার থেকে তার জীবনের শেষ দিনগুলি সন্তানদের সাথে রেখে তাদের ভালোবাসা দিয়ে বাবার কষ্টগুলো মুছে দেওয়া বেশি জরুরি।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement