আমি একবার কাকতাড়ুয়া হব।
নিশ্চল,নির্ভেজাল কাকতাড়ুয়া।

কৃষক জমিতে ফসলের বীজ
ছিটিয়ে দিয়ে আমাকে রেখে যাবে পাহারায়।
আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকবো।
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্মৃতির পাতা হাতড়াবো।
দিনভর রোদ খাব,
কখনো শীতের রাতে ঠকঠক করে কাঁপবো।

বীজ থেকে ছোট ছোট পাতা গজাবে।
একটু বড় হবে। লতার মত।
হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় হালকা দোল খাবে।
আমি পাখিদের আমন্ত্রণ জানাবো।
তারা এসে গান শোনাবে ছোট সবুজ লতানো চারা গুলোকে।
চারাগুলো দ্রুত বেড়ে উঠবে।
কৃষকের চোখে শরতের সকাল চিকচিক করবে,
কৃষক প্রতীক্ষায় থাকবে গোলা ভরা শস্যের।

আমি ততদিনে শিশিরভেজা শস্যকণার
সাথে সখ্যতা গড়ে তুলব।
গল্প করব,ছড়া কাটবো ।
কখনো কখনো গলা ছেড়ে গান করবো।

তারপর ফসল তোলার সময় হবে।
কৃষকের গোলা ভরে যাবে। ঘরে ঘরে উৎসব হবে।
একসময় পাখিরাও নতুন ঠিকানায় পাড়ি জমাবে।

ধু-ধু মাঠে আমি শুধু পড়ে থাকবো।
পাতা ঝরার শব্দ শোনার
প্রতীক্ষায়।