যে মাটির স্পর্শ রেখায় প্রাণ করে সঞ্চার,
যে পথের শেষে আসে স্বাধীনতার উপহার,
যে গানের সুরে সুরে,নীল আকাশ জুড়ে,সুরভী ছড়ায় মুগ্ধতার,
যে মাটির মমতাক্রোড়ে,মানুষ হয়ে উঠা মনুষত্বের ভিড়ে,
বহু প্রতিক্ষিত প্রচেষ্টা আগলে রাখার,
সে যে মা জনননী,প্রিয় বাংলা মা আমার।

যে ঘর সংসার মোড়ানো রয়েছে,বক শালিকের ডানায়,
যে কাদাজল ছেনে কিশোর ছেলেটি তৃপ্তিতে লুটায়,
যে শালুকের ঢ্যাপে,জল রাঙা ঠোটে,মুক্তোরা জন্মায়,
তার কলিজার কলিজায়,লুকিয়ে লাঙলের ফলায়,
যে মৃত্যুঞ্জয়ী জন্ম দেয়,সবুজের সমাহার,
সে যে মা জনননী,প্রিয় বাংলা মা আমার।

যে স্নেহের আঁচল ছেড়ে,শত্রু ঘাটিতে আঘাত হেনে,
রণ তুর্য বাজিয়ে রণাঙ্গনে,শোষনের বাঙ্কার ভাঙে দামাল,
যে ব্যথার রক্তপাতে,শুকনো পাতার মৃত্যুঘাতে,
মোমের প্রদীপ নিঃশেষ হয় মানচিত্র রেখায়,
ঠিক সেখানে রুদ্রবেগে,সূর্যরাগে ঠায় দাঁড়িয়ে,
বিজয় উল্লাসে জ্বলে মুক্তির জলসা ঘর।
শেষ উপহার,লাল-সবুজের বাহার,পতপত ওড়ে বিধবার কেশে যার
সে যে বিরঙ্গনার পতাকাধারী মা জননী,প্রিয় বাংলা মা আমার।

যে মাটির দুধ ভাতে,কৈশোর তটে,
বুনো পাখিদের হানা,
যে ঘাসের নিঃশ্বাস নিড়ে,তৃষিত ভোরে,
শিশিরের আনাগোনা,
যে পাজরের সর্পিল বুকে,জাগে সদা আষাঢ়ের মোহনা,
তার মমতার দানে,প্রতিদান ক্ষনে,তুলেছি বিষাক্ত ফনা!
তবু শকুনের ঠোটে,স্নেহভরে জোটে,মাতৃ রুটির দানা।

হাইরে!বদ নসীব তার,বৃদ্ধা প্রহরী আবার,
পরে আছে সাজ মৃত্যুর পরোয়ানা,
রক্ত চোষা জোঁকের বেশে,খাটিয়ার কোনে নিঃশ্চুপে বসে,
লুটপাট চলছে বটে!শুন্য সে দস্তানা।
অসীম স্নেহ ডোরে হাই!তবু আগলে রাখতে যে চায়,
শেষ সন্তানটি তার,
সে যে মা জননী,প্রিয় বাংলা মা আমার।