এলাকায় সাফাত সাহেব কে সবাই চেনে।চিনবেই না কেন তাহার মত অলস এলাকাই কেন দেশ এ আর একটা পাওয়া মুশকিল।তিনি এমন ই অলস যে বছানায় সুয়ে খাবার খান।মাসে দুবার গোসল আর সপ্তাহে একবার ব্রাশ করতেও তার অসুবিধা হয়।বিয়ে করলে বউ চলে যায়, তিন নম্বর বউ জুই কি কারণে যে থেকে গেল গ্রামের লোক ভেবে পায়না।বাবার অঢেল সম্পত্তির কারণে তার দিন চলে যাই তা না হলে যে কি হত সেটাই ভাবা মুশকিল।বউ দিনরাত বকে বকে সাফাত সাহেবকে বিছানা হতে আলাদা করতে পারেনা।কিন্তু ঘটনা ঘটল সোমবার সকালে জুই ঘুম ভেংগে দেখে তার বর নাই।সারা গ্রাম ছেলে বুড়ার মুখে মুখে সাফাত সাহেব উধাও।বউ তো মর কান্না লাগিয়েছে।বাড়িতে পুলিশসহ লোক সমাগম যেন আহামরি কান্ড।এভাবেই দিন কাটছিল হঠাৎ সাত দিনের মাথায় রাজা বাদশার পোশাকে তার আগমন।তার এমন হঠাৎ আগমনে মূহূর্তের মাঝে বাড়ির উঠানে লোক সমাগম।উৎসুক জনতার সবার প্রশ্ন এতদিন কথাই ছিল।কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বীরের ভংগিতে বলা শুর করলেন।সেদিন ঘুম ভাংতেই দেখি সামনে একটা চার পা ওয়ালা মোরগ।আমার সামনে বসেই ডিম পাড়ল।কি সুন্দর সোনার চকচকে ডিম।কিন্তু আলসেমির কারণে একবার ও ডিম টা নিতে ইচ্ছা করল না।মোরগ আমাকে দেখে অবাক হল আর আমার চুল কামড়ে ধরে সাই সাই করে উড়ে চলল।মূহূর্তের মধ্যে আমাকে নিয়ে গেল অন্য গ্রহে।ওই গ্রহে দেখি সব মোরগ সদৃশ জীব।আমাকে হাজির করা হল মোরগ রাজার সামনে।কিছু বুঝে উঠার আগে তিনি এই রাজার পোশাক পরিয়ে দিলেন আর সাথে দিলেন কিছু মোহর মণি মুক্তা।ফিরার পথে ডিম পাড়া মোরগ বলল তারা সব প্লুট গ্রহের প্রাণি।তারা জানে পৃথিবীর সব মানুষ লোভি।রাজা ঘোষণা দিয়েছিলেন প্লুট গ্রহের যে পৃথিবী থেকে নির্লোভী মানুষ আনতে পারবে তার সাথে প্লুট রাজকন্যার বিয়ে হবে আর মানুষ টাকে পুরস্কৃত করা হবে।আর আমি ই হয়ে গেলাম সেই নির্লোভী মানুষ। তার গল্প শুনে সবাই অবাক হল আর আলসেমির এত বড় পুরস্কার দেখে কানাঘুষা করতে লাগল। তারপর সবাই মিলে স্লোগান দিল আলসেমি ই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা।