বন্ধু মানে সব থেকে আপন সকলের। তাই শায়লার সাথে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা তার কাম্য ছিলো না। তাই বন্ধু ভেবে যদি কেউ উল্টো ভেবে বসে তাহলে নাহিদের মতো ছেলেদের দোষ এখানে শায়লার না।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ আগস্ট ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ৩৫টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৭৭

বিচারক স্কোরঃ ২.১৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - পার্থিব (আগস্ট ২০১৮)

পার্থিব
পার্থিব

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৭৭

মোঃ নয়ন আহমেদ

comment ৩  favorite ০  import_contacts ২৯১
সকালে ঘর পরিস্কার করতে গিয়ে ষ্টোররুমে পেয়েছিলো অনেক দিনের পুরনো একটা ডায়েরী। সাড়াদিনের কাজ শেষে রাত্রে সেদিন আর ঘুম আসছিলো না শায়লার। পাশের রুমে ছেলেমেয়েরা ঘুমাচ্ছে। রাত তখন প্রায় দেড়টা চারিদিকে আধাঁর, আর হালকা বাতাশ বইছে.. আকাশে ঘনঘটা মেঘ আর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে মনে হচ্ছে বৃষ্টি নামবে। পাশে ঘুমিয়ে আছে শাহেদ। অতক্ষণে জানালার পাশে গিয়ে শায়লা ডায়েরীর পাতা গুলো উল্টাতে উল্টাতে পেয়েছিলো ছবিটা। ছবিটা পেয়ে একটু থমকে গিয়েছিলো; ডায়েরীর ভেতরে পাতা আর পুরোনো খবরের কাগজটা অনেক হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা গুলোতে আরেকবার হাত বুলিয়ে নিলো শায়লা। আজ একুশটা বছর পর ডায়রীটাতে আবার হাত বুলাচ্ছে শায়লা। সেখানে জ্বলে যাওয়া ছবিটা এখনো আছে, আর নামটা তো রয়েছেই। শুধু কি একটা নাম ছিলো এর মধ্যে! না,, বেশ কিছু অপরাধবোধের স্মৃতিও বোধহয় ছিল ওই খবরটাতে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে নাহিদের সেই কলেজবেলায় ছবিটা। ছটফটে প্রাণচঞ্চল একটা মেয়ে, ছেলে মুখচোরা নাহিদ একমাত্র জব্দ হতো শায়লার কাছে। এমন এমন কথা বলতো মেয়েটা নাহিদের মত স্বল্পভাষীও কথা বলতে বাধ্য হতো। কারন নাহিদ অনেক লাজুক ধরনের তাই হয়তো! শায়লা যেন দায়িত্ব নিয়েছিলো, নাহিদকে একেবারে স্মার্ট, করবেই করবে। শায়লা দুষ্ট হেসে বলতো, এই নাহিদ তুই আবার এতো লজ্জা পাচ্ছিস, তার মানে আমার এত পরিশ্রম সব বিফলে গেলো! তোর পিছনে এত খাটনি আমার সব অরণ্যে রোদন মাটি হয়ে গেল। ওর কথার ঝাঁজেই আবার উজ্জীবিত হতো নাহিদ। শায়লা বলতো দেখ ঠিক পারবি একদিন। তোর মধ্যে সব কিছুই আছে, শুধু একটু বহিঃপ্রকাশ করতে হবে বুঝলি। নাহিদ একটু আপ্লুত গলায় বলেছিলো, শায়লা তুই আমার সবচেয়ে কাচের ভালো বন্ধু। গোটা কলেজ জানতো ওদের মিষ্টি বন্ধুত্বের কথা। বন্ধুরা মজা করে তাদের কতো নামে যে বলে রাগাতো ওদের তারি ও তানি। সেদিন ছিলো এমনই এক শ্রাবনের দুপুর। আকাশে রোদ আর মেঘের চলছে লুকোচুরি খেলা।
শায়লার ঠোঁটে মিষ্টি হাসির আনাগোনা; নাহিদের চোঁখ তখনো এড়ায়নি ওর। শায়লা ফিসফিস করে বলেছিলো, আজ একটা আমার জিনিস কিনবো। তবুও নাহিদের মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিলো, কি নিতে চায়.... শায়লা ভাবছে কি গিফ্ট দেওয়া যায়। ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে গেলো, সোজা চলে গেলো একটা লাইব্রেরির দোকানে। শায়লা মনে মনে বলেছিলো, নাহিদ লিখতে বেশ ভালোবাসে। ও লিখতেও চায় বেশ কয়েকটা লেখা লেখেছেও, ওর ডায়েরী খুব পছন্দ করে। কেনো জানি শায়লার চোঁখে যেন ভালোলাগার রেশ দেখেছিল নাহিদ। সেটা যে ভালোলাগা নয় বুঝতে পারেনি নাহিদ। সব গুলো ডায়েরী ছুঁয়ে দেখার পর বেশী দামের একটা ডায়েরী পছন্দ করেছিল শায়লা। শায়লা এডভান্স দিয়ে তখন
বাড়ি ফিরেছিলো।
পরেরদিন ডায়েরী হাতে কলেজে ঢুকেছিলো শায়লা। সবাই চমকে উঠে বলেছিলো, কিরে এবার কি পুরপুরি কবি হয়ে গেলি। ডায়েরীর মড়ানো প্যাক করা ব্যাগটা নাহিদের হাতে দিয়ে বলেছিলো, এই নে এটা তোর গিফ্ট। নাহিদ জানতো না কিসের গিফ্ট বলতে,, শায়লা উত্তর দেয় নিজের বার্থডে সেটাও ভূলে গেলি? সেদিন এত কম কথা বলা ছেলেটা একবারে নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছিলো মুহূর্তের মধ্যে। ওর দু'চোঁখ ছাপিয়ে জল নেমেছিলো। নাহিদ একটু হেসে বলেছিলো, আজকে এমন বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হলাম আমি। বলতেই শায়লা বলে ফেলে,,,, ও আচ্ছা নাহিদ সাহেবের চোখেও দেখি নোনতা জল পড়ে তাহলে। নিজেকে সামলে নিয়ে নাহিদ বলেছিলো, কিন্তু এত দামি গিফ্ট আমি নিতে পারবো না। শায়লা রাগ দেখিয়ে বলেছিলো, লিখতে পারবি না সেটা স্বীকার করে নিলেই হয়, শুধু অজুহাত করতে হবে না। আর শোন গিফ্ট দেয়ার কখনো দাম হয় না। তখন শায়লা যথারীতি কলেজের পার্ট মিটিয়ে অর্নাস ভর্তি হয়েছিল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে। নাহিদও ভর্তি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে সময় আগের মতো রোজ আর দেখা হতো না। তবে সপ্তাহে দু'একদিন অবশ্যই দেখা করতো ওরা দুজনে। কয়েকমাস পর শায়লাকে যেদিন প্রথম দেখতে এলো পাত্র পক্ষ সেদিনই মারাত্মক ঝগড়া করেছিলো নাহিদ আর শায়লা। কেন শায়লা এত কম বয়সে বিয়ে করে ফেলবে সেই নিয়েই তুমুল ঝগড়া। তারপরেই সেই অপ্রত্যাশিত কথাটা বলেই ফেলেছিল নাহিদ। যেটা এতদিনে একবারও কল্পনা করতে পারেনি শায়লা। তখন নাহিদ চিৎকার করে বলেছিলো, না তুই অন্য কারোর হতে পারিস না শায়লা। তুই আমার, আমি তোকে অনেক ভালোবাসি। কথাটা শুনে অবশ হয়ে গিয়েছিলো শায়লার হাত পা। গলা
শুকিয়ে গিয়েছিলো,
শ্রবনেন্দ্রিয়ও যেন অকেজো হয়ে গিয়েছিলো। নাহিদ এসব কি বলছে!! শয়লা কোনোদিন নাহিদকে প্রেমিক হিসেবে ভাবে নি।
কোনোদিন ভাবেনি নাহিদ ওর রাতের শয্যাসঙ্গী হবে, শায়লা ভেবেছিলো নিজে সেজেগুজে যাবে নাহিদের জন্য মেয়ে দেখতে। পৃথিবীর সবথেকে সেরা মেয়েটাকে ও খুঁজে নিয়ে আসবে ওর বন্ধুর জন্য। তবে এসব গল্পও ওরা বহুবার
করেছে। তারপরেও নাহিদ কি করে ওদের বন্ধুত্বকে অপমান করতে পারে? দু'চোঁখে ঘৃণা ফুটিয়ে শায়লা বলেছিলো, ছি...ছি...ছি... নাহিদ তুই আমাকে এতদিন এই চোঁখে দেখেছিলিস! আমি তো ভাবতেই পারছি না তুই এতটা নোংরা মন
মানসিকতার। দুচোঁখের জলে চারিদিক ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো শায়লার। একটা ছেলে আর মেয়ের মধ্যে প্রেম ছাড়া আর কোনো কিছু সম্পর্ক কি থাকতে পারে না? লজ্জা! লজ্জা করছে আমার, তোকে আমি এতদিন আমার ভালো বন্ধু ভেবেছি বলে। শায়লা একমুহূর্তও দাঁড়ায়নি সেখানে। বুকের ভিতরটা কেমন যেন মুচড়ে উঠছিল। বাড়ি ফিরেই বাবা মাকে বলেছিলো, শাহেদকে আমার পছন্দ হয়েছে, তোমরা দেখতে পারো। মা একটু চমকেই গিয়েছিলো। যে মেয়ে বিয়ের কথায় কান দিতো না। সেই মেয়ে আজ এক কথায় রাজি হয়ে গেলো! মা ভাবছে, যাক নিশ্চয়ই নাহিদ বুঝিয়েছে, শাহেদ
ভালো একটা ছেলে, বিয়েটা
করে ফেলতে। তাই রাজি হয়ে গেছে। বেশ কয়দিন ধরেই আর কোনো যোগাযোগ নেই নাহিদের আর শায়লার। এরপর বিয়ের মার্কেটিং শুরু
হয়ে গেছে শায়লার। অথচ ওর সব থেকে কাছের
বন্ধুর পাত্তা নেই। অবশ্য
আর কি নাহিদ বন্ধু বলাটা সমীচিন হবে মনে হয় না!! তবুও ফোনটা করেই ফেললো শায়লা। নাহিদের বাড়ির নাম্বারে ফোন করেছিল কিন্তু পায়নি। বলেছিলো কথায় যেন গেছে! এই হঠাৎ কি ঘটে গেল, কেন নাহিদ ছোট করলো ওদের পবিত্র সম্পর্কটাকে।

পরে আবার ফোন করলো অনেক কষ্টে সামলে নিয়ে ফোনটা কানে চেপে বললো, হ্যালো! ওপাশ থেকে ভদ্র মহিলা কণ্ঠ বলে উঠলো, তুমি শায়লা। আমার ছেলেকে ঘুরানোর সময় তোমার মনে ছিলো না, এখন আবার ফোন করে
আদিখ্যেতা দেখাচ্ছ? বলতেই ফোনটা মাঝপথে কেড়ে নিলো কেউ একজন। বেশ একটুক্ষন চুপ থেকে নাহিদ বললো, ইয়ে.. মানে মায়ের কথায় কিছু মনে করো না। আমি রফিকের কাছে খবর পেলাম তোর বিয়ের। যাবো রে, নিশ্চয়ই যাবো তোর বিয়ের আগেই যাবো। তোকে একটা গিফ্ট
আগেই দেবো। শায়লার কানে তখনো নাহিদের মায়ের কথাগুলো ভাসছিল। ছেলে ঘুরানোর শব্দটা যেন ওলটপালট করে দিচ্ছিলো ওর ভাবনা চিন্তাকে। ছি,,,ছি,, নাহিদ তারমানে নিজের মায়ের কাছে এমন কিছু বলেছে যে ওর মা শায়লাকে খুব খারাপ মেয়ে ভেবেছেন। আর ইচ্ছে ছিলো না নাহিদের মুখোমুখি হতে শায়লাল। বিয়ের ঠিক তিনদিন আগে সন্ধ্যেবেলা চমকে উঠেছিলো নাহিদকে সামনে দেখে। শায়লা তখন এক মনে হুমায়ুন আহামেদের কোনো একটা উপন্যাস পড়ছিলো। কি যেন উপন্যাস আজ আর মনেও নেই। পড়ছিলো একটু মনকে উষ্ণতার জন্য। তারপরে বাবার গলার আওয়াজে চোখ তুলে
তাকিয়েছিলো...বাবা হাসি হাসি মুখে বলেছিলো, নাহিদ এই তোর ছেলের মত কাজ? বাবা... শায়লার বিয়েতে তুইই নেই। কতো যে কাজ বলতো, শায়লার মা'তো রোজ একবার করে তোর নাম বলছে ছেলেটা যে কি করছে। নাহিদের মুখেও তখন মিশুক একটা হাসি.... কিন্তু আজ যখন নাহিদের মানসিকতা শায়লার সামনে পরিস্কার, আর ওর মায়ের বলা কথাগুলো ছেলে ঘরানো মনের মধ্যে রক্ত ঝরিয়েই চলছে তখন... আর আনন্দিত হতে পারলো না। তবুও শায়লা ক্লান্ত হেসে বলেছিলো, শুধু শুধু এত খরচ করতে গেলি কেন? নাহিদ বলেছিলো, বাহ্ রে একবারেইত তোকে উপহার দেবো। শায়লার দেয়া ডায়েরীটা নতুন একটা প্যাক করা খামে ফেরত দিয়েছিলো নাহিদ। আর বলেছিলো কোনোদিন দিতে পারবো কিনা জানিনা। তখন বাড়ির লোকের হাজার অনুরোধেও সেদিন খেয়ে যায়নি নাহিদ। তারপরের দিনই মর্মাহত খবরটা কাগজে বেরিয়েছিল।
নাহিদকে কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না..... নীচে নাহিদের চেহারার একটা বর্ণনা আর ওর একটা সেই পুরনো ছবি। খবরটা দেখা অবধি তোলপাড় চলছিলো মনের ভিতরে। বাড়ীর সকলের মন ভালো নেই। বাবা মায়ের মুখেও হাসি নেই। বিয়ে বাড়ির পরিবেশেটা যেন গাম্ভীর্য্যের চাদর বিছিয়ে দিয়েছিলো শুধু নাহিদের নিখোজের খবরটা। সেদিন শাহেদের বাড়িতে কিছু জানানো হয়নি বলেই বিয়েটা ক্রমে ক্রমে এগোচ্ছিলো। তবে ভিতরে ভিতরে ক্ষয়ে শেষ হয়ে গিয়েছিলো শায়লা। কি থেকে কিযে হলো, কোথায় গেলো ছেলেটা....কোথায়? ওর বাবা মা নাহিদের বোন এসে হাজির হলো শায়লার গায়ে হলুদের দিন। বাড়িভর্তি লোকের মাঝে যাচ্ছেতাই করে অপমান করে গেলো শায়লাকে। আজ ওর জন্যই নাকি নাহিদের এই অবস্থা। এর মধ্যেই চলছিলো সাড়া বাড়ীতে বিয়ের কাজ কর্ম। শাহেদের বাড়ি থেকে গায়ে হলুদের তত্ত্ব পৌঁছে গেছে শায়লাদের বাড়িতে। হলুদ শাড়ি পরে শায়লার গায়ে হলুদের মাখামাখি। ঠিক সেই মুহূর্তে তখন তমা, আর কেয়া ফিসফিস করে কথা বলছে, জানিস ওটা নাকি নিখোজ ছিলো না রে, নাহিদ নাকি সুইসাইড করেছে। আজ ওর ডেড বডি পাওয়া গেছে। এই মাত্রই টিভিতে দেখে আসলাম। কারণ ডেড বডির সাথে পাওয়া গেছে একটা সুইসাইড লেটার। আর তাতে লেখা ছিল, ওর মৃত্যুর জন্য নাকি কেউ দায়ী নয়। শুনে পাগলের মত কেঁদেছিল। মায়ের আঁচলে মুখ গুজে চোঁখের জল মুছেছিলো শায়লা। আশেপাশের লোক আঙুল দেখিয়ে দেখিয়ে বলেছিল, ওর জন্যই নাকি ছেলেটা আছ সুইসাইড করছে। কি লোভী একটা মেয়ে, ভালো ছেলে পেয়ে ড্যাং ড্যাং করে বিয়ের পিঁড়িতে বসে গেলো, মেয়েটা প্রেমিকের দিকে একটু ফিরেও তাকালো না। তখন শায়লা কাউকে বোঝাতেই পারছিলনা ওরা প্রেমিক প্রেমিকা একদমে ছিলো না। ওরা শুধু মাত্রই ভালো বন্ধু ছিলো, খুব কাছের
বন্ধু। নাহিদ এভাবে প্রতিশোধ নিলো ওর ওপরে, বিন্দু মাত্র বুঝতে পারেনি। শায়লাকে এভাবে সারাজীবনের জন্য অপরাধী করে দিলো। তখন বিয়ের আসরে কবুল পড়ার সময় বারবার শায়লার মনে হচ্ছিলো ওই বোধহয়, ওই দায়ী নাহিদের মৃত্যুর জন্য। কাউকে প্রেমিকের মত না ভেবে বন্ধুর মত ভালোবাসলে সেটাও যদি অপরাধ হয়! কেউ প্রোপোজ করলে, সেটাও অস্বীকার করলে অন্যায় হয়ে যায়! এই সব প্রশ্নগুলো শায়লার মাথার চিন্তাশীল কোষগুলোকে অকেজো করে দিচ্ছিলো ক্রমাগত। নাহিদ নাকি অনেক ঘুমের পিল খেয়ে চির ঘুমের দেশে পাড়ি জমিয়েছে। এভাবে অনেকটা বছর কেটে গেছে। অনেকটা বছর,,সংসার হয়েছে সন্তানেরা বড় হয়ছে। আজো রাতে ঘুমের মধ্যেও চমকে চমকে উঠতো। শাহেদ সবটা শুনে ওকে অনেক বুঝিয়েছিলো, এতে শায়লার দোষ নেই, নাহিদের বোঝার ভুল। ওদের বন্ধুত্বটাকেই ও প্রেম মনে করেছিল। শায়লাকে অনেক বুঝিয়েছে, তবুও নাহিদের মৃত্যুর দায় নিজের কাঁধ থেকে একটুও নামাতে পারেনি। তাই আজও নাহিদ স্বপ্নের মধ্যে বারবার হানা দেয়।
ভয় করে শায়লার আর
মনে হয় সে এই বুঝি অবিশ্বাসী হাসি হেসে
বলবে, সবকিছু তোর জন্যই এসব হয়েছে.... এই পরিনতির জন্য শুধু তুই একমাত্র দোষী! তুই... ডায়েরীর হলুদ বর্ণ হয়ে যাওয়া কাগজের ওপরে অঝরে জল পড়ে চলেছে শায়লার চোঁখের। ঝলসে যাওয়া সেই ছবিটা যেন বলে বলে ওঠে, কাঁদিস না
শায়লা, তোর একটুও দোষ
নেই, আমিই বেশি ভুল করে তোকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। ছবির ছেলেটার সেই মিষ্টি হাসিটা খোঁজার চেষ্টা করে আজো, চেষ্টা করে ওদের ধূসর
স্মৃতির মধ্যে থেকে রামধনু রঙের দিনগুলো খুঁজে বের করতে। আবার ওদের সেই বন্ধুত্বের আগেকার দিনগুলোকে ফিরে দেখতে চায় শায়লা। বারবার বলতে চায়, নাহিদ তুই আমার ভালো বন্ধু ছিলিস, শুধুই আমার একজন ভালো বন্ধু। তখন আকাশ থেকে যেন, বৃষ্টি নামলো অঝোর ধারায়। জানলার কাঁচগুলো ক্রমশ যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো। আর বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটা যেন শায়লাকে উদ্দেশ্য
করে কানে কানে বলেই চলেছে, তুই অনেক ভালো থাকিস। অনেক ভালো থাকিস....আবার আসবো কোনো এক নতুন ভোরে; তখন প্রেমিক হিসেবে নয় বরং ভালো একটা বন্ধু হয়ে। শাহেদের ঘুম ভেঙ্গে গেছে দেখে শায়লা ডায়েরী হাতে জানালার পাশে দাড়িঁয়ে আছে। শাহেদকে জড়িয়ে ধরে বলে এই শুনছো? বৃষ্টিরা এসে কি কি বলছে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement