লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২২ অক্টোবর ১৯৯৪
গল্প/কবিতা: ১৭টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - প্রায়শ্চিত্ত (জুন ২০১৬)

মরণের প্রায়শ্চিত্ত
প্রায়শ্চিত্ত

সংখ্যা

অবাক হাওয়া prosenjit

comment ৪  favorite ১  import_contacts ৭৯১
তখনও ভোরের আলোর সঙ্গ ছাড়েনি আবছা আঁধার তবুও ভোর হয়েছে ৷ পাখির আওয়াজ শুনতেছে বসে নিরব প্রকৃতি ৷ যাকে বলে কাক ডাকা ভোর ৷ স্কুল মাঠের পাশের রাস্তাটা প্রায় মানবশুন্য তবুও ভোর হয়েছে ৷ বড় রাস্তাটার যেখানে চারটি রাস্তার মাথা মিলিত হয়েছে সে জায়গাটার নাম চৌমাথা ৷ সেই চৌমাথায় একমনে দাঁড়িয়ে আছে ৫ বছর আগে ইচ্ছাকৃতভাবে সাবেক হওয়া একজন উচ্ছপদস্থ সরকারি কর্মকতা ৷ তিনি রোজ আসেন এখানে তিনবার ৷ একবার কাকডাকা ভোরে,২য়বার মধ্য দুপুরে,৩য়বার টিক বিকেল ৪টায় ৷ কাকডাকা ভোর হতে স্কুলের ক্লাস শুরু হওয়া পর্যন্ত থাকেন ৷ আবার আসেন মধ্য দুপুর এ থাকেন স্কুলের টিফিন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৷ আবার আসেন বিকেলে থাকেন স্কুল ছুটি না হওয়া পর্যন্থ ৷ কিন্তু তিনি রোজ কেন আসেন??কি কারণ থাকতে পারে এর পেছনে ৷ তবে কি তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে স্কুলের কোন চাকরি নিয়েছেন ৷ কিন্তু স্কুলের চাকরি করলে রাস্তায় কেন দাঁড়াবেন ? তবে কি তার কোন অসৎ উদ্দেশ্য আছে এর পিছনে? কিন্তু অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে কি তিনি রোজ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন কেও না কেও সন্দেহ করে পুলিশে খবর দিত ৷ তবে কি তিনি পাগল হয়েছেন?? অনেক প্রশ্নের উৎপত্তি হয়েছে সঙ্গে কৌতুহলের ও অনেকের মনে৷৷৷ ৷ তাদের মতই একজন স্কুলের নবীন শিক্ষক নন্দীতা ৷ সে প্রতিদিন দেখে সেই লোকটা রাস্তা অতিত্রম করে সকল আসা সকল শিক্ষার্থীকে রাস্তার এপার ওপারে যত্নসহকারে পরম মমতায় পৌছে দিচ্ছে ৷ লোকটার মুখে বাঁশী যেটা বাঁজিয়ে গাড়ি থামাচ্ছে ৷ প্রথম দিন দেখে মনে হয়েছিল হয়ত ট্রাফিক ৷ কিন্তু সে যখন কয়েক দিন লক্ষ্য করে দেখল লোকটার পরনে ট্রাফিক পুলিশের পোশাক নেই ৷ আরও আশ্চর্য হল এটা দেখে যে লোকটা নির্দিষ্ট তিনটি সময়ই শুধুমাত্র এই রাস্তায় থাকেন ৷ ৷কিন্তু ট্রাফিক হলে ত সারা দিন থাকতে হত এবং গায়ে থাকত ট্রাফিক পুলিশের পোশাক ৷ তার মনে প্রচুর কৌতুহল জম্ম হল ৷ সে কৌতুহল চেপে না রাখতে পেরে স্কুলের সবথেকে পুরোনো শিক্ষক ও তার সহশিক্ষক কৃপেশ স্যারের কাছে ওনার সম্পর্কে জানতে চাইলাম ৷ একটা র্দীঘ নিঃশ্বাস ছাড়ল ৫০ বছর বয়সী কৃপেশ মন্ডল ৷ তার পর আরম্ভ করলেন বলা ৷ নন্দীতা তুমি যার সম্পর্কে জানতে চেয়েছ সে আমার বাল্য বন্ধু মরণ বিশ্বাস ৷ নন্দীতার আবারও কৌতুহল হল ৷ মানুষের নাম কি কখনও মরণ হতে পারে? সে চিন্তা করতে লাগল এবং স্যারের কাছে জানতে চাইল ওনার নাম মরণ কেন?ওনার কি আর কোন নাম আছে? কৃপেশ মন্ডল বলতে লাগল ওর আর একটা ভালো নাম আছে তবে তা জম্ম নাম নয় ৷ ক্লাস নাইনে ওঠার পর একজন স্যার থাকে সে নামে নিবন্ধন করিয়েছিলের এসএসসি পরীক্ষার জন্য ৷ তবে থাকে সবাই মরণ নামেই ছিনে ৷ মরণ নামটা যদিও অদ্ভুধ তবে তার একটা তাৎপর্য আছে ৷ মরণ বিশ্বাসের জম্মের আগে তার মায়ের ৫ টা সন্তান মারা গিয়েছিল ৷ তাই তার জম্মের সময় তার মা-বাবা তার এই নাম রেখেছিল ৷ এবার কৃপেশ মন্ডল মূল প্রসঙ্গে আসলেন ৷ মরণ বিশ্বাস গরীবের ঘরের সন্তান ছিল ৷ কিন্তু সে ছিল অনেক মেধাবী ৷ মেধা দিয়ে তার ভাগ্যকে পরির্বতন করেছিল ৷ পড়ালেখায় স্টেন্ড করেছিল সারা দেশের মধ্যে ৷ খুবই ভালো মানুষ ছিল মরণ বিশ্বাস ৷ মানুষ হিসেবে সে অনেক সহজ সরল ছিল ৷ অনেক বড় অফিসে চাকরি করত সে ৷ রোজ সকালে নিজে গাড়ি চালিয়ে অফিসে যেত ৷ নিজের কোন ছেলেমেয়ে না থাকায় সে সকল বাচ্চাদের খুব ভালোবাসত ৷ তাই স্কুলের সামনে দিয়ে যখন গাড়ি চালিয়ে যেত তখন সে খুব চিন্তিত থাকত কোন বাচ্চা গাড়ির নিচে পড়ে যায় কি না ৷ সে আমাকে অনেক দিন বলেছিল বন্ধু কৃপেশ এই চৌমাথায় ট্রাফিক পুলিশ আনা যায় কি না স্কুলের পক্ষ থেকে চেষ্টা করার জন্য ৷ আমি স্কুল কমিটিতে বলেছি অনেকবার কিন্তু কমিটি আমার কথার গুরুত্ব দেয় নি কখনও ৷ মরণ এটা শুনে হতাশ হত ৷ সে অনেক জায়গায় এটার জন্য গিয়েছে ৷ কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধী র ইচ্ছা না থাকায় সে কিছু করতে পারেনি ৷ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ঘটানাটা তার হাতেই ঘটল ৷ আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে সেই দিন ৷ যেদিন তার জীবনটা পরিবর্তন করে দিল ৷ প্রত্যেক দিনের সে দিন ও গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল অফিসে ৷ স্কুলের কাছে এসে সে সর্তক হল প্রত্যেক দিনের মত ৷ কিন্তু এ সময় তার অফিসের বস কল দিল মোবাইলে ৷ সে রিসিভ করল কিন্তু বস এর সাথে কথা বলতে বলতে সে তার মনঃসংযোগ হারিয়ে ফেলল রাস্তা থেকে ৷ এমণ সময় ঘটনাটি ঘটল ৷ তার গাড়ির চাপায় তিনটি শিশুর প্রান গেল ৷ সে গাড়ি থেকে নেমে প্রাণপন চেষ্টা করল কাওকে বাঁচানো যায় কি না ৷ কিন্তু না তিনটি নিথর দেহ পড়ে রইল রাস্তায় ৷ জনতা তাকে ধরে উত্তম-মধ্যম দিল ৷ সবাই বলতে লাগল মরণে মেরে ফেলেছে ৷ জনতা হাসি-টাট্টা করতে লাগল যে মরণ নিজের নাম আজ স্বার্থক করে দিল ৷ মরণ বিস্বাসের বিচার বসল ৷ মরণ বিশ্বাস দোষ শিকার করে জেল চাইল ৷ কারন সে প্রায়শ্চিত করতে চায়৷সে চরম অনুশোচনায় ভুগতেসে ৷ নিহত শিশুদের স্বজনরা ক্ষতিপূরণ চাইল ৷ মরণ বিশ্বাস রাজি হল ৷ কিন্তু শিশুদের স্বজনরা দ্বিগুন ক্ষতিপূরণ চাইল জেলের বদলে ৷ মরণ বিশ্বাসের স্ত্রী তাতে রাজি হল ৷ কিন্তু মরণ বিশ্বাস নিজের শাস্তি চাইল ৷ জেল চাইল প্রায়শ্চিত করার জন্য ৷ কিন্তু মরণ বিশ্বাসের কথা কেও শুনল না ৷ ক্ষতিপূরণ দিয়েই বিচার শেষ হল ৷ কিন্তু মরণ বিশ্বাস চরম অনুশোচনায় ভুগতে লাগল ৷ সে তার কর্মের জন্য প্রায়শ্চিত করতে চায় ৷ টানা তিন দিন না খেয়ে থাকল ৷ তার শারীরিক অবস্থা ও খারাপ হতে থাকল ৷ তার এক কথা সে প্রায়শ্চিত করতে চায় ৷অনেক কিছু বুঝানোর পরও কাজ হল না ৷ অবশেষে তার স্ত্রী তার জীবণ বাঁচানোর জন্য থাকে বলল তুমি প্রায়শ্চিত্ত করবে ৷ তুমার প্রায়শ্চিত হবে এটাই যেন আর একটি বাচ্চাও স্কুলের রাস্তায় গাড়ির চাপায় না মরে ৷ তুমি আহত বাচ্চাদের চিকিৎসা দেবে ৷তার পর ই মরণ বিশ্বাস শান্ত হয় ৷ সে পরদিন সকালে চাকরি থেকে ইস্তাফা দিয়ে প্রায়শ্চিত শুরু করে ৷ তার সমস্ত উপার্জন দিয়ে একটি ফান্ড করে যা থেকে আহত,গরীব বাচ্চাদের সাহায্য করে ৷ প্রায় সারাদিন স্কুল ছুটির আগ পর্যন্তু বাচ্চাদের রাস্তা পার করে দেয় ৷তার সংসার ও চলতে লাগল কোনরকম স্ত্রীর রোজগারে ৷ আর এভাবেই আমার বন্ধু মরণের প্রায়শ্চিত ও চলতে লাগলএটা বলে কৃপেশ স্যার শেষ করল কথা ৷ নন্দীনী মরণ বিশ্বাসের প্রায়শ্চিত্তের গল্প শুনে নিজের মনের মধ্যে শিহরণ অনুভব করল ৷ মরণ বিশ্বাসের প্রতি তার শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে গেল ৷ সে চিন্তা করতে লাগল মরণ বিশ্বাসের মত যদি সবাই তার করা অন্যায় কাজের প্রায়শ্চিত্ত করত ৷ তবে জগৎ টা অন্য রকম হত ৷ সে আনমনে বলে উঠল জয় হওক মরণের প্রায়শ্চিত্তের.........................

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement