বিভিষিকাময় সেই রাতে
এসেছিল এক গ্রামীন হংসমিথুন
সাতাশ মার্চের মধ্যাহ্নে
ধরলার চর থেকে
মা-বাবা স্বজন ফেলে
শহরে থাকবে বলে,
পাখায় পাখায় মন বেঁধে
ভাড়া ঘরের উঠোনে।
পরাধীন নিয়তি, দেখেনি বিপ্লবতা
কিশোরী বধু বোঝেনি কখনো
কেমন যুদ্ধ কথা।
ভীরু ভীরু মন আতঙ্কে মিলে চোখ
হলো যে বিস্ফারিতা।
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনছিল সেই
তমসা রাতের কথা।
ছাব্বিশ মার্চ বাংলার কালোরাত
মত্তহস্তি ঢুকেছে পদ্মবনে
পদ্মমানব মুহুর্তে হল লাশ,
বাংলা মায়ের নাভীতে উঠল শ্বাস।
সেই সাতাশের দুপুর
বারুদে আগুণে জ্বলছিলো রংপুর।
পাড়া থেকে সব ছুটছে দিক-বিদিক
বিধাতাও যেন চেয়েছিলো অনিমিখ।
সেই সে কালো রাতের অন্ধকারে
হিংস্র ভীষণ ক্রুদ্ধ হায়েনা নোংরা নখর দাঁতে
হত্যা করলো বাংলার বাঘ ভয়ং রক্তপাতে।
সেই কালো রাতে হারালো অনেক
তার পরও দশ মাস হারালো ত্রিশ লাখ।
বীরবিক্রম যুদ্ধে যুদ্ধে হেরে গেল শার্দুল
জয়ী হয়েছিল এই বাংলার বাঘ
অর্জিত হলো খোদার দান অহং স্বাধীন আশীর্বাদ।