একাকি একজন

ত্যাগ (মার্চ ২০১৬)

রাবেয়া রাহীম
জীবনের রঙ খুব ফিকে মনে হয় আজকাল । সবার জীবনেই কি এমন উথাল পাথাল হয় ? হয়ত হয়, নাহলে উথাল পাথাল শব্দটাই বা আসবে কেন ? জীবন খুব ভাবায় এখন । জীবনের এতগুলো বছর পার হয়ে এসে সকন্যা খুব বুঝতে পারে জীবন কখনো হিসেবের ভিতর চলেনা । চাইলেও কি হিসেবের ভিতর জীবন পড়ে ...কি জানি কি। আর ভাবতে পারেনা সুকন্যা। অস্থির পায়চারি করে ঘরময় । এই বাড়িতে এসেছে বেশ কিছুদিন হয়ে গেল । বাড়িটা নাকি দেড়শ বছরের পুরনো । সংস্কার করে একদম নতুন করে রেখেছে । তবে ভিতরে পুরনো একটা ধাঁচ কিন্তু রয়েই গেছে । কড়ি বর্গা গুলো খুব উঁচু যা এখনকার বাড়ীর সাথে দেখা যায় না। আগামীকাল থেকে নতুন চাকরি তে জয়েন করতে হবে । চাকরির কথায় বুক ভরে শ্বাস নেয় সুকন্যা । অনির কথা খুব মনে পড়ে । বুকের ভিতর হুহু করে উঠে । এ কেমন সম্পর্ক অনির সাথে তাঁর !
হঠাত গর্জন বেশ মনে করিয়ে দেয়, সমুদ্রটা খুব কাছেই । সুকন্যা শোবার ঘরে ঢুকে । মনটা ভাল হয়ে যায় সাদা বড় বিছানাটা দেখে । বড় জানালা । জানালার পাশে বড় একটা আপেল গাছ । সুকন্যা উকি ঝুকি দেয় যদি কোন পাখি দেখা যায়, শীতের সময় পাখি খুব একটা দেখা যায় না, হঠাত চোখে পড়ে বড় লেজের একটি কাঠবেড়ালি, বড় বড় চোখ করে তাকায় সুকন্যার দিকে । অনির জন্য বুকের ভিতর টা মোচর দিয়ে উঠে । চোখে পানি চলে আসে ।বিছানায় শুয়ে পড়ে সুকন্যা । গতকাল থেকে শরীরটা কোন বিশ্রাম পায়নি, খালি দৌড়ঝাপ চলছে। এখন একটু ঘুমানো দরকার। ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখতে হবে গত কিছুদিনে যা ঘটে গেছে তার হিসাব মিলেতে হবে।
বিকেলের দিকে সীমাহীন নিসঙ্গতায় সুকন্যার ঘুম ভাঙ্গে । এত বড় বিশাল বাড়ি তে একাকি একা । একটু ভয় ভয় লাগে । ঘরের সব লাইট জালিয়ে দেয় । পাশের রুমে আরও একজন মেয়ে আসবে আগামীকাল থেকে এটা ভেবে যেন এখন কিছুটা সস্থি পেল। সারাদিনের অভুক্ত এতখনে বুঝতে পারে, বাইরে থেকে আনা সান্ডুইচ এর প্যাকেট খুলে গোগ্রাসে খেতে থাকে ।
জানালার পাশে এসে বসে সুকন্যা। কাঠবেড়ালিটা আবার এসেছে । তার সাথে ভাব জমানোর জন্য কিছু খাবার দেয় সুকন্যা। সত্যিই অবাক হয়ে যায় এবার সে, অনি ঠিকই বলত "কাঠবেড়ালি অনেক মায়া চোখে তাকায় ঠিক তোমার মতন"
আদুরে গলায় সুকন্যা তখন বলত--বারে, আমি কই মায়া চোখে তোমার দিকে তাকাই। এমনি দেখি, তোমাকে দেখতে ভাল লাগে যে । কাছেই তো যেতে দাও না আমাকে তুমি। মোহনীয় গলায় অনি বলত ---কে বলেছে আমি তোমাকে কাছে আসতে দেই না, আমি যে থাকি তোমার ভেতরেই। তুমি বুঝতে পার না সু ?
অনির কথা মনে হয়ে সুকন্যা আবেগে কেঁপে উঠে। আকুল হয়ে প্রলাপ করতে থাকে যেন --ভেতরে নয় অনি, আমি তোমাকে আমার দৃষ্টির সামনে চাই, আমার পাশে চাই, তোমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে চাই, তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে হাসতে চাই ।
অনি কে আদর করে সুকন্যা ডাকত বাবুই পাখি । ডুকরে কেঁদে উঠে বলে -- বাবুই পাখি আমার এই কষ্ট আরও কতদিন বয়ে বেড়াব ?
উত্তর জানা নেই না অনির না সুকন্যার। হয়তবা উত্তর খুব সহজ যদি সহজ করে ভাবা হয়।
বেশ কয়েক বছরের বিবাহিত জীবন ছিল সুকন্যার । কিন্তু কি কারনে যেন বিয়ের দিন থেকেই দুজনের তেমন বনিবনা হচ্ছিল না । দুজনার মধ্যে এত বেশী অমিল ভেদ করে কেউ যেন কারোর কাছাকাছি আসতেই পারছিল না। সে থেকেই বুকের গভীরে একটা অচেনা অজানা কষ্ট ছিল বহু বছর ধরে গোপনেই। একারনেই বুঝি একাকীত্ব খুব পেয়ে বসেছিল । তাই খুব ফাকা ফাকা লাগত আজকাল । ঘরের মানুষ টিকে অনেক দূরের মনে হত। এক ছাদের নীচে থেকেও এত বেশী দূরত্ব আজ। প্রকৃতি নাকি শুন্যতা কখনও পছন্দ করেনা কখন কিভাবে যে দমকা বাতাসের মত ভাল লাগা বাসা বেধেছে বুকের ফাকা জায়গাটাতে বুঝতেই পারেনা সুকন্যা ।অনি যেন অনেকটা ভেসে অাসা মেঘ। একটু সুখ, একটু অানন্দ, কখনো কিছুটা কষ্ট অার অনেকটা ভালবাসা নিয়ে অনি আসে সুকন্যার জীবনে। আঁধারে নিস্তব্ধতা ভাঙ্গে যেন । তাই বুঝি অনি কে গ্রহন করে সে খুব আবেগে । এত টা আবেগ এত ভালবাসা কেমন করে মনে জায়গা করে নেয় অচেনা,অদেখা এক জন । অবাক হয়ে ভাবে সুকন্যা ।
খুব আবেগ আর মমতায় সুকন্যা ছুঁতে চায় অদৃশ্য এক মানবকে অদৃশ্য এক ছায়াকে । আর এভাবেই সে আরও বেশী একা হয়ে যায় ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
গোবিন্দ বীন ভাল লাগল,আমার গল্প পড়ার আমন্ত্রন রইল।
মোজাম্মেল কবির আপনি অনেক ভালো করবেন। লেখায় যথেষ্ট পরিপক্বতার ছাপ আছে। শুভ কামনা ও ভোট রইলো...
শামীম খান ভাল গল্প লিখেছেন । শুভেচ্ছা রইল , ভোট ও ।
রুহুল আমীন রাজু অল্প লেখা বড় প্রেক্ষাপট .....অনেক ভালো লাগলো .
এশরার লতিফ ভীষণ প্রকৃতিময় গল্প। অনি এখানেও আছে। অনেক ভালো লাগলো।

৩০ ডিসেম্বর - ২০১৫ গল্প/কবিতা: ৫ টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।

প্রতি মাসেই পুরস্কার

বিচারক ও পাঠকদের ভোটে সেরা ৩টি গল্প ও ৩টি কবিতা পুরস্কার পাবে।

লেখা প্রতিযোগিতায় আপনিও লিখুন

  • প্রথম পুরস্কার ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • দ্বিতীয় পুরস্কার ১০০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং সনদপত্র।
  • তৃতীয় পুরস্কার সনদপত্র।

আগামী সংখ্যার বিষয়

গল্পের বিষয় "প্রত্যাশা”
কবিতার বিষয় "প্রত্যাশা”
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ জুলাই,২০২২