লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৬ জুন ১৯৮১
গল্প/কবিতা: ৪টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

৩৮

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবন্ধু (জুলাই ২০১১)

বিমূর্ত বন্ধু
বন্ধু

সংখ্যা

মোট ভোট ৩৮

ইমরান খান

comment ২৪  favorite ৪  import_contacts ১,২০২
আমি প্রতিদিন তোমার অপেক্ষা করি
সকাল থেকে সন্ধ্যা। আমাকে বিছানায় রেখে
সাত সকালে তুমি বেরিয়ে যাও; তোমার ঘর-বিছানা
শূন্য পড়ে থাকে। খা খা করে হাহাকার করে লেখার টেবিল,
অবিন্যস্ত সাজানো বইয়ের স্তূপ, অগোছালো বিছানো,
অচল হয়ে থাকে বিমূঢ় নিম্নমুখী বৈদ্যুতিক পাখা।
হঠাৎ জানালায় বাড়ি খেয়ে ফিরে যাওয়া এক ঝলক ফেরারি হাওয়ার মতই আমি
এ ঘরের চৌহদ্দিতে ঠোকর খেয়ে বেড়াই, শূন্য বিছানাকে
রিক্ত করে বসে থাকি নির্বীর্য হয়ে। অন্ধকার নামার আগে
পাব না জেনেও অযথা খুঁজে ফিরি তোমাকে। হয়ত বাতাস হয়ে আসবাবের ফাঁক ফোঁকরে কিংবা
বায়ুতাড়িত ধুলো হয়ে বইয়ের পাতায়। না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে
পরিণত হই তাণ্ডবে; বিছানার ধূসর চাদর
ওলট পালট করে খুঁজি। দাঁড়াই আয়নার মুখোমুখি।
কিন্তু সে আমাকে তোমার প্রতিচ্ছবি দিতে পারে না।
শূন্য শূন্য। শূন্য আমি তুমি ছাড়া।
তুমিও আমায় খোঁজ জানি অযথাই; কর্মব্যস্ততার ফাঁকে
চায়ের কাপে, মাঠের ধারে, সিগারেটের ধোঁয়ায়, আড্ডায়, মেয়েমানুষে।
কিন্তু পাওনা। পাবে কী করে? আমি তো শুধু আমাতে।
শূন্য শূন্য। শূন্য তুমি আমি ছাড়া।
দায়ী আমিই। জানি আমি। নিরুপায়ও আমি।
যমজ আমরা, জন্মেছি এক সাথে। তোমার অস্থিমজ্জার নিচে
অন্য এক শরীরে পুষ্ট হয়েছি। পরজীবী নই আমি।
যতই উঠেছি বেড়ে, আলাদা হয়েছি তত। আমাদের সেই ভুবন
আমারই আছে। তোমারে নিয়েছে কেড়ে এই জগত
সন্ধ্যায় তুমি ফিরলেই অদ্ভুত এক রসায়ন তোমাতে আমতে।
পূর্ণ হয় শূন্য ঘর, তাণ্ডব থেমে যায়, ঝরে যায়
বইয়ের পাতার ধুলোরা, রিক্ত বিছানা হয় সিক্ত।
উটোপিয়াতে শুরু হয় আনন্দ যজ্ঞ।
বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ি আমরা। দুটি সত্তা এক হয়ে
ওঠে অনুরণন। পরদিন আবার প্রতীক্ষা।
তুমি তুমি? আমি তুমি? তুমি আমি? নাকি আমি আমি?

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement