লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ জানুয়ারী ১৯৮৪
গল্প/কবিতা: ১৬টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৬৯

বিচারক স্কোরঃ ১.১৭ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ২.৫২ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঅস্থিরতা (জানুয়ারী ২০১৬)

হুকো বন্দনা
অস্থিরতা

সংখ্যা

মোট ভোট ৪২ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৬৯

জসিম উদ্দিন আহমেদ

comment ৭  favorite ০  import_contacts ৯৭০
তামাক সাজতে সাজতে হরমুজ আলী বলল, বুঝলেন ফকির সাব, এ হুঁকোর ওসিলায় আল্লাহ সেদিন প্রাণে বাঁচায়ে দেছেন। খান সেনারা তো আমাকে ও নৌকার মাঝিকে গলুইয়ের উপর দাঁড় করায়ে রেখেছে। হাত উপরে তুলে আল্লাহর নাম স্মরণ করছি। নৌকার মাঝি তো ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। পাকিস্তানি অফিসার এক, দুই, তিন গুনার সাথেই গুলি হবে। দুজন সৈনিক আমাদের দিকে রাইফেল তাক করে দাঁড়িয়ে আছে।
ফকির সাহেব ভয় পাওয়া কন্ঠে বলল, তার পর কি হল মিয়া ভাই? হরমুজ আলীর এ গল্প সে অনেকবার শুনেছে। তারপরেও এমন উৎসাহ দেখায় যেন এরপর কি হবে তা তার জানা নেই।
হরমুজ আলী তার কথার উত্তর না দিয়ে তামাক সাজায় মনোযোগ দেয়। গল্পের শ্রোতা ফকির সাহেবের নাম ইন্তাজ ফকির। ইন্তাজ জন্মান্ধ। সে পেশায় ভিক্ষুক। লোকের দুয়ারে ভিক্ষা করার পাশাপাশি সে হরমুজ আলীর চাকুরি করে। গল্প শোনার চাকুরি। প্রতিদিন সে দুই ঘন্টা হরমুজ আলীর সাথে গল্প করে যায়। বিনিময়ে দৈনিক এক কেজি করে চাউল পায়। যেদিন আসে না, সেদিন চাউলও পায়না। হরমুজ আলী এটাকে নাম দিয়েছে ‘গল্প করার বিনিময়ে চাউল কর্মসূচী’।
হরমুজ আলী তামাক সাজার কাজটি করে খুব ভক্তি সহকারে। আয়েশ করে বসে তামাক কাটবে, তাতে চিটে গুড় ও অন্যান্য উপকরণ মেশাবে। সবশেষে পিতলের কলকেতে আগুন দেবে। এসব করার সময় সে যেন অচেনা জগতের বাসিন্দা হয়ে যায়। তার মধ্যে একধরণের আধ্যাত্মিক ভাব চলে আসে।
হরমুজ আলীর হুঁকোটিও দেখবার মত একখান জিনিস। নল-ওয়ালা পিতলের হুঁকোটি দেখলে বুঝা যায় অতীতে এটি কোন রাজা-রাজড়ার সম্পত্তি ছিল। হুঁকোটি সে পুরুষানুক্রমে পেয়েছে। হরমুজ আলী শুনেছে তার পূর্বপুরুষেরা রাজা ছিলেন। হুঁকো সাজার জন্য তাদের থাকত হুঁকো-বরদার। তারা হুঁকো সেজে মনিবের কাছে নল পৌঁছে দিত। মনিব দরবারে বসে হুঁকোয় দম দিতেন।
হরমুজ আলীর কাছারি-দরবার কিংবা হুঁকো-বরদার না থাকলেও জমিদারি ভাবটা ঠিক রক্তে আছে। তার পূর্বপুরুষের হারানো গৌরবের একমাত্র সাক্ষী পিতলের হুঁকোটিকে সে খুব ভক্তি করে। সে এতেই সারাদিন বুঁদ হয়ে থাকে। তার অতিরিক্ত হুঁকো প্রীতির জন্য লোকে তার নাম দিয়েছে হুঁকো-হরমুজ। এই গ্রামে মোট তিনজন হরমুজ আছে। তাদের মধ্যে হুঁকো-হরমুজকে লোকে একনামে চেনে।
কেউ গল্প শুনতে আসলে হরমুজ আলীর খুব ভাল লাগে। আগে দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ হুঁকো খেতে আসত। তখন তার বসার ঘরটি লোকে গমগম করত। লোকে এখন এ নেশাটা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে। দুই চারজন যারা আসে, তারা হরমুজের গল্প শুনতে আসে। হুঁকোর গল্প। হরমুজের জীবনের সব বড় ঘটনার সাথেই কোন না কোন ভাবে এই হুঁকোটি জড়িয়ে আছে। এ বিষয়টি তার কাছে অলৌকিক মনে হয়। কত স্মৃতিই না জড়িয়ে আছে হুকোটিকে ঘিরে। সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ হরমুজ আলী উৎসুক শ্রোতা পেলে তার গল্পের ডালি খুলে দেয়। কিভাবে হুঁকোর কারনে সে গন্ডগোলের বছর পাকিস্তানি আর্মির হাত থেকে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল। তার হুঁকোটিতে টান মেরে খান সেনারা কেমন করে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিল। যাত্রাদলের এক অধিকারী নবাব সিরাজুদ্দৌলার জন্য তার হুঁকোটি পেতে কী কী ফন্দি করেছিল। এ-সবই সত্যি ঘটনা। গল্প বলতে বলতে এগুলোকে সে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
হুঁকো সাজা হয়ে গেলে হরমুজ আলী হাত-দশেক দূরে গিয়ে চেয়ারে বসে হুঁকোর নলে সজোরে টান মারে। অমনি ‘কড়াক’ করে শব্দ করে কলকের মাথায় ধোঁয়া ওঠে। এতক্ষণ সে ভাবের মধ্যে ছিল। এবার গল্প শুরু করে। হুঁকোয় টান না দিলে হরমুজের গল্প জমে না।
ফকির সাব অর্থাৎ ইন্তাজ ফকির এতক্ষণ কোন কথা বলেনি। সে জানে কলকের মাথায় ধোঁয়া না চড়লে হরমুজ আলী গল্প শুরু করে না। তাই সে এতক্ষণ ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করছিল।
হরমুজ আলী তার অসমাপ্ত গল্প পুনরায় শুরু করে।
গন্ডগোলের বছর, দেশজুড়ে হাহাকার। ফসল পানিতে তলায়ে গেছে। গ্রামময় দারুণ অভাব। আমি ঠিক করলাম শহর থেকে সস্তার চাউল এনে গ্রামে বেঁচব। এতে লোকের উপকারও করা হবে, পাশাপাশি ব্যবসাও হবে। নৌকায় করে চাউল এনে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করি। একদিন শহর থেকে চাউল নিয়ে ফিরছি। নদীতে পাকিস্থানি গানবোট হতে নৌকা ভিড়ানোর সংকেত দিল। নৌকায় আমরা দুইজন। আমি আর নৌকার মাঝি। আমি নৌকার সামনে গলুইয়ে বসে হুঁকো টানছি। মাঝি দাঁড় টানছে। ছইয়ের উপর ধোঁয়া দেখে বোধহয় তারা নৌকা ভিড়ানোর জন্য আদেশ দিয়েছে।
মাঝি ভয়ে বার বার আমার দিকে তাকায়। আমি বললাম, ভয়ের কি আছে? নৌকা ভিড়াও। মুসলমানের মরণে ডর কি? আল্লাহরে স্মরণ কর। তিনি গাফুরুর রহিম।
নৌকা ভিড়ানোর সাথে সাথে দুইজন সৈনিক রাইফেল হাতে নৌকায় উঠে তল্লাশী শুরু করল। তাদের আসার আগেই আমি আগুন নিভিয়ে হুঁকোটি চরাটের তলে লুকায়ে ফেলেছি। তাড়াহুড়োর কারণে লম্বা নলটি ঠিকমত লুকানো যায়নি। তারের মত গোছানো হুঁকোর নলের উপর সেনাদের একজনের নজর পড়ল। সে লাফিয়ে পেছনে সরে এসে চিৎকার করে তার সঙ্গীকে ডাকল।
সরফরাজ, এ-ধার আও! বোটমে জরুর কুছ হে।
সরফরাজ নামের সৈনিকটি এসে কিছুক্ষণ হুঁকোর নলের দিকে তাকিয়ে রইল। রাইফেলের বাট দিয়ে আমার পিঠে আঘাত করে বলল, হারামখোর, এ কিয়া হে, নিকাল!
আমি তো তাদের কথা বুঝি না। তারপরেও চরাটের নিচ থেকে হুঁকোটি বের করে তাদের সামনে রাখলাম।
হুঁকোটি দেখে তারা পূর্বের চেয়ে বেশি ভয় পেয়েছে বলে মনে হল। তারা খানিকটা পেছনে সরে গেল। গানবোটে থাকা সৈন্যদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলতে লাগল, স্যারজি কো বুলাও, বোট মে বোমা হ্যায়!
চারিদিকে তোলপাড় শুরু হয়ে গেল। গানবোট থেকে সেনারা এসে হুঁকোটিকে দূর থেকে পরীক্ষা করতে লাগল। ভয়ে কেউ কাছে যাচ্চে না। কলকে থেকে তখনও একটু একটু করে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
তাদের কথা বুঝতে না পারলেও হাবভাব দেখে আমার বুঝতে আর বাকি রইল না যে বিপদ ঘনিয়ে এসেছে। হুঁকোটিকে তারা হয়ত বোমা-জাতীয় কিছু ভেবেছে। তাহলে তো ঘোর বিপদ। প্রথমবারের মত আমি ভয় পেলাম।

গানবোট থেকে একজন অফিসার এসে ঘটনার বিবরণ শুনল। তারা অফিসারকে হুঁকোটি দেখাল। অফিসার হুঁকোটিকে ভাল করে দেখল। এটি কি জিনিস তা সে-ও ধরতে পারল না। এদিকে আমি আর মাঝি দোয়া-দুরুদ যা পারি উচ্চস্বরে সমানে পড়ে যাচ্ছি। আশা, মুসলমান বলে হয়তো ছেড়ে দিতে পারে।
দোয়া-দুরুদ পড়ছি আর মাঝে মাঝে ‘হুক্কা’ ‘হুক্কা’ বলে তাদের বোঝানোর বৃথা চেষ্টা করছি। হুক্কা, হুক্কা বলায় কাজ না হওয়ায় দেখি মাঝি সিগারেট, সিগারেট বলে বোঝানোর চেষ্টা করছে আর আঙ্গুল ঠোঁটের কাছে নিয়ে সিগারেট টানার ভঙ্গি করছে। এতে ফল হল উল্টো। সেনাদের একজন মাঝির কোমরে রাইফেলের বাট দিয়ে সজোরে আঘাত করে বলল, হারামজাদে, মহুত কা ওয়াক্ত মে সিগরেট মাঙ্গ তা হে!
আমাদের গুলির হুকুম হল। তারা গানবোটে উঠে আমাদের দুইজনকে হাত উপরে তুলে নৌকার গলুইয়ের উপর দাঁড় করালো। এক, দুই, তিন গোনার সাথে সাথে আমাদের গুলি করে নদীতে ফেলে দেবে।
মাঝি ভয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। আমি বার বার আমার সাধের হুঁকোটির দিকে তাকাচ্ছি। মনে মনে ভাবছি আল্লাহ এমন কাউকে পাঠাত যে এই জালেমদেরকে বুঝিয়ে আমাদের নিরীহ দুইটি লোকের প্রাণ বাঁচাত।
আল্লাহ হচ্ছেন অন্তর্যামী। তিনি সব শোনেন। হঠাৎ আমি গানবোটে কোর্ট মসজিদের ইমাম সাহেবকে দেখতে পেলাম। আমার শ্বশুর বাড়ীর এলাকার লোক। সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। উর্দুতে খুব ভাল বয়ান দিতে পারেন। তবে আজকে তার মুখে কোন হাসি নেই। হয়ত এই জালেমরা তাকে কোন কারণে ধরে এনেছে। আহা! এমন একটা ভাল মানুষকেও এরা হেনস্তা করছে!
ইমাম সাহেব এতক্ষণ সব কিছু শুনেছেন। আমি তার দিকে করুণভাবে তাকালাম। তিনি আমার দিকে চেয়ে তার সেই চিরচেনা হাসি হাসলেন। আমি স্বস্তি পেলাম। যাক, মৃত্যু কালে অন্তত একজন ভাল লোকের সাক্ষাত পেলাম!
ইমাম সাহেব তার জায়গা থেকে সরে অফিসারের কাছে এসে দাঁড়ালেন। তিনি আমাদের বিষয়ে অফিসারকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছেন। অফিসার মনে হচ্ছে তার কথা বুঝতে পারছে। সে ঘন ঘন হুঁকোটির দিকে আর আমাদের দিকে তাকাচ্ছে।
কিয়া হে স্যার, আপ লোক আমীর হে, ইস লিয়ে সিগরেট ফুকতাহে, ইয়ে লোক মিছকিন হে ইস লিয়ে হুক্কা খাতাহে! ইট ইজ ওয়ান কাইন্ড অফ স্মোকিং মেশিন। আপ চাহে তো মে আপকো দেখা সাকতাহু। ইয়ে কোয়ি বুমা নেহি হে, অর ইয়ে লোক মুক্তি নেহি হে। প্লিজ ইনকো যানে দিজিয়ে। ইমাম সাহেব অফিসারকে হুঁকো-রহস্য বুঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
অফিসার সৈন্যদের উদ্দেশ্যে কিছু বলল। যে দুইজন সিপাহি রাইফেল তাক করে রেখেছিল, তারা রাইফেল নামাল। আমরা মনে স্বস্তি পেলাম।
ইমাম সাহেব আমার কাছে এসে বলল, মিয়া বাচঁতে চাইলে তাড়াতাড়ি হুঁকো সেজে মেজর সাহেবকে দেখাও। অফিসার নৌকা ছেড়ে গানবোটে গিয়ে বসেছে। আমি তাড়াতাড়ি হুঁকো সেজে তার কাছে নিয়ে গেলাম। ইমাম সাহেব আমাকে ইশারা করে হুঁকোয় টান মারতে বললেন। আমি হুঁকোয় টান মারতেই কড়াক করে শব্দ হয়ে কলকেতে ধুয়া উঠল। সবাই হকচকিয়ে গেল। অফিসার বলতে লাগল, এক অর। ইমাম সাহেব আবার হুঁকোয় টান মারার ইঙ্গিত করলেন। আমি যতবারই হুঁকোয় টান মারি, অফিসার বলে, এক অর।
সৈন্যদের প্রতি আদেশ হলো হুঁকো চেখে দেখার জন্য। তারা দলবেধে হুঁকোয় টান মারতে লাগল। হুঁকোয় টান মেরে কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যায়। কেউ হেসে গড়াগড়ি খায়। সব দেখে শুনে অফিসার স্বগতোক্তি করলো, কিয়া আজীব কল... কড়াক এধার অর ধোঁয়া উধার!
গল্পে গল্পে বিকাল গড়িয়ে গেছে। ইন্তাজ ফকির লক্ষ্য করে দেখে হরমুজ আলী কাঁদছে। সাধারণত এ রকম হয় না। সে কখনও হরমুজ আলীকে কাঁদতে দেখেনি।
কান্দেন ক্যান মিয়া বাই, পুরান কথা মনে পড়িছে?
ফকির সাব, আপনারে বিভিন্ন সময় অনেক কষ্ট দিছি। নিজের প্রয়োজনে আপনারে বিরক্ত করছি। ঘন্টার পর ঘন্টা আমার বেহুদা প্যাঁচাল শুনাইছি জোর করে। নিজ গুনে আমারে ক্ষমা করে দিয়েন।
এসব কথা ক্যান মিয়া বাই, এইডা তো আমার চাকুরি।
চাকুরিটা বুঝি আপনার আর থাকবে না ফকির সাব। এখানে কিছু টাকা আছে। সাথে রাখেন। কাজে লাগবে। আমার জন্য দোয়া কইরেন। আমি কাল চলে যাচ্ছি।
চলে যাচ্ছেন? কোথায়?
জানি না। যেদিকে চোখ যায়।
ক্যান মিয়া বাই, সংসারে ঝগড়া হইছে বুঝি?
বুঝলেন ফকির সাব, এ সংসারে সবই মায়া। যাদেরকে বুক দিয়ে আগলিয়ে রাখছি, তারাই আজ এ বুড়োকে বুঝল না। তার আবেগের কোন দাম নেই এদের কাছে। তারা এই বুড়োর কাছ থেকে তার প্রাণের জিনিসটি ছিনিয়ে নিতে চায়। তা যে কোন মূল্যেই হোক। তবে এর থেকে আলাদা হলে আমি মরে যাব। বলেই হরমুজ আলী হুঁকোটি ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল।
এতক্ষণে ইন্তাজ ফকির তার কান্নার কারণ বুঝতে পারে। হরমুজ আলীর কাছে সে শুনেছে কোন এক ধনীলোক তার হুঁকোটি যেকোন মূল্যে কিনে নিতে চায়।
আজ কয়েক মাস যাবৎ একজন শৌখিন সংগ্রাহক হরমুজ আলীর হুঁকোটি পেতে বেশ হাটাহাটি করছে। প্রথম প্রথম সে হরমুজ আলীর নিকট এসে গল্প শুনত। তারপর একদিন অনেক অনুনয় বিনয় করে তার মনের কথা পাড়ে হরমুজ আলীর কাছে। সে হরমুজ আলীকে অনেক টাকার লোভ দেখায়, বিভিন্ন লোকজন দিয়ে সুপারিশ করায়। কোন কিছুতে কাজ হয় না। কিন্তু ঐ সংগ্রাহকও নাছোড় বান্দা। অবশেষে সে হরমুজের পরিবারের লোকজনের পিছনে টাকা ওড়াতে থাকে পানির মতো। এতে কাজ হয়। হরমুজের ছেলে মেয়েরা হরমুজের বিপক্ষে চলে যায়। যে কোন মূল্যে তারা হুঁকোটি ঐ ধনী সংগ্রাহকের নিকট তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করে। টাকার নেশায় তারা এতটা পাগল হয়ে গেছে যে, হুঁকোটি ছিনিয়ে নিতে তারা বৃদ্ধ হরমুজ আলীকে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করবে না।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement