স্বপ্নকে অবলম্বন করেই মানুষ বেঁচে থাকে, বেড়ে ওঠে। স্বপ্নের হাত ধরেই লাভ করে অসীমের দিকে চালিত হবার প্রেরণা। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়ণ করতেই চলে মানুষের নিরন্তর ছোটাছুটি। এমনি একজন- অদম্য মেধাবী 'অাবরার ফাহাদ'- নিয়তির টানে ছোটে এসেছিল এ শহরে। ' বড় মানুষ হতে হবে, মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে হবে।' দু'চোখ ভর্তি কত স্বপ্ন! কিন্তু হায়, সময়ের নির্মম বাস্তবতায় দিন শেষে ক'জনই বা পারে তার স্বপ্নকে পূর্নতা দিতে? অাবরার ফাহাদও পারেনি। এ শহরের নিকষ কালো অন্ধকার নিভিয়ে দিয়েছে তার জীবন প্রদীপ। সে অার তার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন এখন মাটির নিচে। অার তার বাবা-মা! কেমন অাছে তাদের স্বপ্ন! এ শহরের অলি-গলিতে বেঁচে থাকা অসংখ্য অাবরার ফাহাদের স্বপ্ন'রা ভাল অাছে তো??
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ জুন ১৯৯৮
গল্প/কবিতা: ৪টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftকবিতা - ভাঙ্গা মন (নভেম্বর ২০১৯)

এই শহর
ভাঙ্গা মন

সংখ্যা

আল মামুন

comment ২  favorite ০  import_contacts ৪২
এখন দুপুর
তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে
অথচ ফাহাদ মরেছে শেষ রাতে!
আজকাল যথাসময়ে কিছুই হয়না এ শহরে।

মৃদু গুঞ্জন ভেসে আসে সহসা-
'শালা কেন এমন করল,
বুয়েটে পড়েও এতখানি বোকা!
গোল্লায় যাক দেশ-
তুই কে বলার!
মায়ের তিল তিল স্বপ্ন এভাবে ভেঙ্গে দিলি!'
'ঠিকই ছিল,'
পাশ থেকে প্রতিবাদী স্বর।
'হাজার কাপুরুষের ভীড়ে
পুরুষ হয়ে বেঁচে থাকা সহজ না আদৌ,
মাটি মা'র চেয়ে কে আছে বড় আর!'
'তাই বলে এভাবে-
আহা! বেচারা ফাহাদ!'

এই মিছিল-মিটিং থেমে যাবে একদিন
দেয়ালের নীল রং ঢেকে নেবে
অভিশপ্ত ক্যাকটাস,
ক্যাম্পাসের দুরন্ত ছেলেগুলি
সুবোধ বালক হয়ে ফিরে যাবে ক্লাসে-
বিচার হবে, হয়ত হবেনা।
নওশেরওয়ারের তরবারি হাতে
ফাহাদের অতৃপ্ত আত্মা কি
ফিরে আসবে আরেকবার!

সময়ের সাথে বাড়ে গুঞ্জন
দুপুরের ডাইনিং হয়ে ওঠে ফাহাদময়।
আকস্মিক খেই ভাঙ্গে
জড়তায় বেঁধে আসে মুখ;
সময়ে সময়ে মায়ের শেখানো ভাষাও এতটা নির্মম-
নিরঞ্জনের কথা মনে পড়ে,
'এইভাবে মানুষ মারা চলবে না' বলে প্রতিবাদী নিরঞ্জন
মরেছিল মানুষের হাতে বানানো বন্দুকের গুলিতে!

আমি নিরঞ্জন নই,
আবরার ফাহাদও নই।

শহরের প্রতিটি ধূলিকণা, খড়-কুটোয় মিশে জেনেছি
মানুষ বলে কেউ থাকেনা এই তল্লাটে।
দুপেয়ে চেহারার অদ্ভুত জীবগুলি বাঁচে কেবলই রাজনৈতিক পরিচয়ে।
এখানে মানুষ মরে না
এখানে মানুষ বাঁচে না!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement