এখন দুপুর
তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে
অথচ ফাহাদ মরেছে শেষ রাতে!
আজকাল যথাসময়ে কিছুই হয়না এ শহরে।

মৃদু গুঞ্জন ভেসে আসে সহসা-
'শালা কেন এমন করল,
বুয়েটে পড়েও এতখানি বোকা!
গোল্লায় যাক দেশ-
তুই কে বলার!
মায়ের তিল তিল স্বপ্ন এভাবে ভেঙ্গে দিলি!'
'ঠিকই ছিল,'
পাশ থেকে প্রতিবাদী স্বর।
'হাজার কাপুরুষের ভীড়ে
পুরুষ হয়ে বেঁচে থাকা সহজ না আদৌ,
মাটি মা'র চেয়ে কে আছে বড় আর!'
'তাই বলে এভাবে-
আহা! বেচারা ফাহাদ!'

এই মিছিল-মিটিং থেমে যাবে একদিন
দেয়ালের নীল রং ঢেকে নেবে
অভিশপ্ত ক্যাকটাস,
ক্যাম্পাসের দুরন্ত ছেলেগুলি
সুবোধ বালক হয়ে ফিরে যাবে ক্লাসে-
বিচার হবে, হয়ত হবেনা।
নওশেরওয়ারের তরবারি হাতে
ফাহাদের অতৃপ্ত আত্মা কি
ফিরে আসবে আরেকবার!

সময়ের সাথে বাড়ে গুঞ্জন
দুপুরের ডাইনিং হয়ে ওঠে ফাহাদময়।
আকস্মিক খেই ভাঙ্গে
জড়তায় বেঁধে আসে মুখ;
সময়ে সময়ে মায়ের শেখানো ভাষাও এতটা নির্মম-
নিরঞ্জনের কথা মনে পড়ে,
'এইভাবে মানুষ মারা চলবে না' বলে প্রতিবাদী নিরঞ্জন
মরেছিল মানুষের হাতে বানানো বন্দুকের গুলিতে!

আমি নিরঞ্জন নই,
আবরার ফাহাদও নই।

শহরের প্রতিটি ধূলিকণা, খড়-কুটোয় মিশে জেনেছি
মানুষ বলে কেউ থাকেনা এই তল্লাটে।
দুপেয়ে চেহারার অদ্ভুত জীবগুলি বাঁচে কেবলই রাজনৈতিক পরিচয়ে।
এখানে মানুষ মরে না
এখানে মানুষ বাঁচে না!