জৌলুসহীন লোকটি, নাম তার ওমর চাঁন
ছিপছিপে অসুস্থ শরীর কোন মতে চলে,
পেটের তাগিদে চাকরীটা করা
লতিফ বাওয়ানী পাটকলে।

স্বাধীনতা উত্তর পূর্ব বাংলায়
প্রবল দাপটে বড় হয় বাইশ পরিবার,
অকাতর পরিশ্রমে মরে শ্রমিক, মরুক
নেই তাদের কিছু হারাবার।

মুক্ত দেশে পাবে স্বাধিকার
দারিদ্র জয়ে গায় সাম্যের গান,
কোটি মানুষের সাথে একাত্ম সে
স্বপ্নটা উকি দেয়, হবে আরাধ্য সাধন।

একাত্তরে যুদ্ধকরে এনেছে বিজয়
দিয়েছে পতাকা, নতুন মানচিত্র,
গদিতে এখন নতুন শাসক
একদা যে ছিল তার মিত্র।

স্বাধীনতা আমার অমূল্য ধন
চিৎকারে মাতাই দেশ, লক্ষ প্রাণ,
আজ বাজারের পাশে, সড়কের ধারে
লাউশাঁক বেঁচে মুক্তিযোদ্ধা ওমর চাঁন।

স্বাধীনতা কি দিয়েছে তারে
বাওয়ানীদের তরে খেটেছে পাটকলে,
স্বাধীন দেশে আজ ভিটেটুকু তার
নিয়ে গেছে শাহালম বাবুলে।

স্বাধীনতা! হায় স্বাধীনতা!
জনক-ঘোষক বলে চলে যায় সময়,
জীর্ণ শরীর নিয়ে সেনানীরা আজ
দুঃখের ভেলায় ভাসে, পায়নিতো জয়।

দুবেলা জোটেনি অন্ন পরিবারে
শিক্ষিত হয়নি তার সন্তান,
মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনা
অর্থাভাবে জোটেনা সম্মান।

স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
শাসকেরে দিয়েছ ক্ষমতা, যক্ষের ধন
আজ দুমুঠো অন্ন জোগাড়ে
লালশাঁক বেচে মুক্তিযোদ্ধা ওমর চাঁন।

২৬শে মার্চ আর ১৬ই ডিসেম্বর
নিরবে দাড়িয়ে জাতীয় পতাকাতলে
অতিত হাতরে ফিরে সে
চোখদুটো ভিজে ওঠে শুধু তপ্তজলে।