লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ২১টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৩২

বিচারক স্কোরঃ ২.৫২ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - রহস্যময়ী নারী (জুলাই ২০১৬)

কাঠগোলাপের কান্না
রহস্যময়ী নারী

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৩২

নাফ্হাতুল জান্নাত

comment ৩  favorite ০  import_contacts ১,২৪৮
বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে আছে সেঁজুতি, ঘুম ভেঙেছে অনেক আগেই-বিছানা ছেড়ে উঠতে যেন মন চাইছেনা, জানলা দিয়ে চোখ চলে যায় বাইরে। কত কী চোখে পড়ে সুপোরী গাছের সারিতে দোয়েল পাখির লুকোচুরি-পাতার ফাঁকে ঝুলে পড়া থোকা থোকা কাঁচা-পাকা সুপোরী, তারই উপরে ছোট্ট কাকের গোছানো সংসার-পাখপাখালির মধ্যেও কী সুন্দর সংসার করার তাগিদ, দেখলে মনটা জুড়িয়ে যায়-ডিম পাড়ার কিছু আগে পাখিরা কী সুন্দর বাসা বাঁধে, সংসারে আসে নতুন অতিথি। বাগান পেরিয়ে রাস্তার ওপারে চোখ আটকে যায়, ব্যস্ত গাড়ি-ঘোড়া ছুটে চলে যে যার মত। ওদিকে তাকিয়ে মনে পড়ে যায় ব্যস্ত সেদিনের কথা যেদিন খুব ভোরবেলা রওনা হয়েছিল কলেজের বাস ধরার জন্য-সকালের মিষ্টি বাতাসের ঘ্রাণ তখনো ছিল…সেসব দিনের কথা ভাবলে এখনো শিহরন জাগে …মন দুলে যায় মেঘমালার রাজ্যে …নতুন বন্ধু যদিও পুরোন বন্ধু কে ছেড়ে আসার আকুতি…তবুও মানুষকে তো নতুন সবকিছুই বেশি আর্কষন করে। সেঁজুতির ও তাই হয়েছিল…
ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চিন্তায় ছেদ পড়ে, গলা শুকিয়ে যায়-জল তেষ্টা পায়, যেমন ঢবে গছিয়ে ওঠা মানিপ্ল্যান্ট-প্রচন্ড খরায় তাপদাহে দগ্ধ হয়ে কেমন ছটফট করে-নিজেকে আজ কেনবা সেরকম মনে হয়, যেনবা শুকিয়ে যাওয়া লাল গোলাপ যেভাবে ফুলদানীতে শোভা পায়, তবে কী সেও আর সবকিছুর মত পুরনো হয়ে গেছে…নতুন পরিবেশ-ব্যস্ত কোলাহল-কাঠগোলাপের গন্ধ কিছুই কী ভালো লাগছেনা নাকী নতুন প্রজন্মের কাছে তাকে বড় সেকেলে লাগছে…কেউ আর তাকে ভাবছে না…এসব প্রশ্ন তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় সারাক্ষণ…
তাই কী সবাই মুখ ভেঙচিয়ে বলতো মেয়েমানুষকে অত পড়িয়ে লাভ নেই, কী হবে বিদ্যেধরী সরস্বতী…শেষে তো ঐ এক জায়গা..হেঁসেল ঘর..বাচ্চা বিয়ানো….তার চেয়ে বাবা দরকার নাই, টুকটাক ঘর সমালানো আর স্বামীর মন রাঙানোর রংঢং গুলো শিক্ষা দিলেই তো হয়….আর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা নষ্ট না করে যৌতুকের জন্য সেগুলো জমিয়ে রেখ…ভব্যিষতে কাজে দিবে।
তবে যে বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষার কথা বলল, আর কড়া কড়া প্রবন্ধ লিখল তার উপরে…তখন তো জাগরণের সূচনা হল, দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হল…
আসলে বাস্তবিকই দৃষ্টিভঙ্গির কোন পরিবর্তন কী হল….এখনতো দেশ গাঁয়ে শোনা যায়…যৌতুকের কথা…যৌতুকের অভাবে অনেক বৌয়ের আত্মহুতি দেওয়ার কথা। চুলটা এমনভাবে জট পাকিয়ে ছিল যেন মনে হয় জটাধারী বাউল, সে চুল তো কাল হল, শোনা যায় চুল দিয়েই তো গলায় ফাঁস দিয়ে দেয়…বাবা কী বীভৎস লাগছিল দেখতে…এই মেয়ে নাকী বিশ্ব সুন্দরী ছিল….রূপ আর চুল দেখে মুগ্ধ হয়ে তো বাধ্য হয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়।
এসব যখন ভাবে সেঁজুতি তখন তাঁর মনে অজানা আশঙ্কা দানা বাধে…মনেহয় নিজেকে কাঠগড়ার দাগী আসামী…নিজের কাছে নিজে জবানবন্দি দিচ্ছে, আজকাল তো খবরের কাগজে এসব লেখা থাকে..এসব পড়তে পড়তে একেবারে অরুচি হয়ে যাচ্ছে….বাদ দে তো….ভাল্লাগেনা এসব কথা…কলেজের বন্ধুর কথা হঠাৎ মনে পড়ল…সে সময় পলাশ তখন টগবগে যুবক…সে বয়সে এরকম তারুন্য
থাকাটাই স্বাভাবিক। মুচকী হেসে পলাশ তখন বলতো, তুমি কতদিন আর পুরানো সেন্টিমেন্ট ধরে বসে থাকবে…সবাই সময়ের সাথে নিজেকে বদলে ফেলে….তোমার ওসব আজগুবি চিন্তা ছাড়…
ও বলতো, শুনেও না শোনার ভান করে চুপ করে থাকত সেঁজুতি…কারন ওর কথা গুলো তখন নুপূরের ঝংকারের মত শোনাত…রিনঝিনরিন…
মনে হত সবসময় যদি ও পাশে থাকত…
কিন্তু মানুষ যা ভাবে, যা চায় তা সবসময় কী ধরা দেয়, কখনো বা হাতের মুঠোয় আসে, এসেও নাগাল ছুয়ে যায়…
এভাবে যেদিন পলাশ স্কলারশিপ নিয়ে বিলেতে পাড়ি জমাল…সেদিন কেন যেন আনন্দের বদলে বুক ফেটে কান্না আসছিল…হয়তোবা নিজের অজান্তে দুফোটা অশ্রু বয়ে পড়ে ছিল গাল বেয়ে …
নিজেকে বড্ড একা লাগছিল…অথচ পলাশের সাথে বন্ধুত্বের বেশি আর কোন সম্পর্ক ছিলনা..
নিচতলা থেকে কফির সুঘ্রাণ বয়ে ওপরে আসতে লাগল…কফিটা বরাবর সেঁজুতির ভাল লাগে…কথাটা মনে করতে আবারও হাসি পায় …পলাশ একবার হাজির হয়েছিল একগুচ্ছ গোলাপ আর রজনীগন্ধা নিয়ে হ্যাপি ফেন্ডশীপ ডে তে…মিষ্টি হাসি হেসে বলেছিল, আজ দোস্ত তুমি শাড়ি পড়বে..নীলাম্বরী শাড়িতে তোমাকে বেশ মানাবে..
সে যে গেল আর ফিরল না…ওখানে পড়াশুনা শেষ করে সেটেল হয়ে গেল.. প্রথমদিকে যোগাযোগটা হলেও পরে আর করাটা সম্ভব হয়নি।
এরই মাঝে কত কী হয়ে গেল নতুন বর্ষ এল গেল..নতুন বন্ধুও হল কিন্তু পলাশ মনের গহীন কোণে আটকে থাকল।

এখন বৈশাখ মাসের শেষবেলা, কৃষ্ণচূড়া ফুলে ফুলে ভরে গেছ গাছটি…ঝরা শুকনো লাল ফুলের পাঁপড়িতে ভরে গেছে শান বাঁধানো পুকুরঘাট, পেছনে আমবাগান-ছোট ছোট আমের ভারে গাছটি যেন নতজানু…এসময় গানের কলি মনের কোণে উকি দেয়…’’””” কৃষ্ণচূড়া লাল হয়েছে ফুলে ফুলে, তুমি আসবে বলে’’’’’’” আজ সেঁজুতির বান্ধবী বিয়ে, বারবার করে বলে দিয়েছে আসতেই হবে, কনেকে লাল শাড়িতে সাজাতে হবে…তখন ওকে দেখতে কেমন লাগবে, ভাবতেই মাথার উপরে কৃষ্ণচূড়া ফুলে ভরে ওঠা ডালটি দেখে…হয়তো এরকমই লাগবে। কেন জানিনা কাউকে বৌ সাজতে দেখলে, নিজেকে বড্ড একা লাগে, বেমানান লাগে, হয়তো বা নিজের অজান্তে বৌ সাজতে খুব ইচ্ছে হয়…আসলে মনঘুড়ির কী দোষ বলো-সে তো উড়াল দিয়ে চাই পঙ্খিরাজ ঘোড়া হয়ে…বিয়ের প্রস্তাব যে তাঁর জন্য আসেনি তা কিন্তু নয়, কত সুদর্শন যুবক তার জন্য অপেক্ষা করেছে…মনের ডালা সাজিয়ে বসেছে…প্রজাপতি রাঙা মেঘ হয়ে উড়াল দিতে চেয়েছে দিগন্তে…হারিয়ে যেতে চেয়েছে দূর অজানায়…কিন্তু সেঁজুতির মন সায় দেয়নি..কেন জানি মন আটকে গিয়েছে কোন মোহনায়…কার জন্য এ অপেক্ষা…মনের ডালা সাজিয়ে নিয়ে বসে থাকা…তা কী সে নিজেও জানে, সবাই ভাবে বিলেত ফেরত বন্ধুর অপেক্ষায় আছে, তাই তো দেশের এত ভালো ভালো সমন্ধে মন উঠছেনা। কিন্তু কাকে বোঝাবে বাস্তব সত্য কী জানো, ওর সাথে আমার এখন আর কোনো যোগাযোগ নেই, শেষ কবে যে যোগাযোগ হয়েছিল তাও মনে হয়, আর ওকে কোনদিন বলাও হয়নি যে তোমাকে খুব ভালোবাসি…বড্ড বেশি মিস করি…ওর কী দোষ…ও কী জানে ওর জন্য কেউ মালা গেথে বসে আছে…
আসলে স্যমসাটা ওখানেই..যে পাত্র তার জন্য বিয়ের সমন্ধ নিয়ে এসেছে , তাকে সে তুলনা করেছে তার সাথে, তাই কী কখনো হয় নাকী….কারো সে কেউ মিলে যায় নাকী…তাইতো সবাইকে বলে মনের মত পাত্র পাচ্ছিনা বলেই তো বিয়েতে মত দিতে পারছিনা…তখন সবাই বলেছিল, হ্যাঁ বাপু মেয়েকে অত স্বাধীনচেতা করে কেউ বড় করে, মেয়েদের উপর সবকিছু চাপিয়ে দিতে হয়…এসব কথা শুনতে শুনতে কানপচে গেছে, এখন আর ভাল্লাগেনা।

ওদের কী দোষ বলো,ওরা হয়তো ঠিকই বলে, দিনে দিনে তো আর বয়স কম হলনা, বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সটা মেইন ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে বিশেষ করে মেয়েদের, চুল পাঁকা কনেকে নিশ্চয় কেউ পছন্দ করবেনা। কনেকে নিশ্চয়ই হতে হবে আধুনিকা সুন্দরী, আর অল্পবয়স্কা নাহলে এম.এ পাশ করা ছেলে কেনবা স্কুল পড়ুয়া মেয়ে খোঁজে বলো? এসব ভেবে গলার মধ্যে কাঁটার মত খচখচ করে কথাটি, এখনো কী কলেজপড়ুয়া মেয়েদের মত সুন্দর লাগে, নাকী বুড়িয়ে গেছে, আগে সকলে তাঁর রূপের প্রশংসা করে বলতো, ‘অতি রূপসী কন্যা পায়না বর আর অতি ঘরণী কন্যা পায়না ঘর’- কথাটি কী সত্যি হয়ে দাঁড়াবে নাকী…না এবার একটা সিধান্ত নিতেই হবে, গত দু’বছর আগে তার বিয়ের জন্য পাত্র যেভাবে এসেছিল এখন কী আর সেভাবে আসে না…অনেকে তো গেট পর্যন্ত এসেই ফিরে গেছে…আশপাশের সবাই বলতে শুরু করে, মেয়ে বড্ড খামখেয়ালি-ও ঘরের বধু হয়ে থাকার যোগ্য নয়..
এভাবে আর নিজের মধ্যে কতই বা প্রলাপ বকবে সে, আর কার জন্যে বা অপেক্ষা করবে… সে জন্য অন্য জায়গায় ঘর বাঁধে…তাঁর মনের কথা কী বুঝেছে কখনও?
নাহ্ আর না এবার নিজেকে সামলে নেবার পালা… তপ্ত দাবাদহে নিজেকে আর কত পুড়াবে…এ যেন নিজের প্রতি করা অবিচার নাকী অসময়ে করা অবানঞ্চিত প্রায়শ্চিত….ঐ যে কথায় বলেনা ‘সময়ের এক ফোঁড় তো অসময়ে দশ ফোঁড়’-তাই তো হয়েছে যত জ্বালা…যদি সে একবার তাকে বলত-ভালোবাসি তাহলে তো নিজেকে ভারী মনে হতোনা…না বলা কথা জমিয়ে রাখা যে কত কষ্টের সেটা তার চেয়ে বেশি কে বুঝবে বলো…

হঠাৎ মোবাইলফোনটা ক্রিং ক্রিং শব্দ করে মধুময় ঝংকার করে তোলে…হারিয়ে যাওয়া নিজেকে ফিরে পায় ফোনের শব্দে। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কর্কশ কন্ঠে বলে ওঠে, কীরে সেঁজুতি, কখন আসবি..বেলাযে পড়ে এল…হলুদে সন্ধ্যা তো শুরু হল বলে…
-এপাশ থেকে সেঁজুতি বলে ওঠে, না আসলে হয়না, তুই তো সবই বুঝিস-আমি সচরাচর কোন আনন্দ অনুষ্টানে আসিনা।
-ওপাশ থেকে সেঁজুতির বান্ধবী বলে ওঠে, সবাই আর আমি কী এক হলাম…তুই আর আমি সেই ছোটবেলার বান্ধবী, তুই না আসলে আমি খুব রাগ করব।
অগত্যা সেঁজুতিকে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে হয়, কী করবে বুঝে ওঠতে পারেনা, বহুদিন এমন কোনো অনুষ্টানে যোগদান করেনি…কিছুক্ষণ আনমনে ঝুলবারান্দা এসে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে…অকস্মিক চোখ চলে যায় গ্রীল জুড়ে বেড়ে ওঠা হলুদ অ্যালপিন ফুলের দিকে, ফুলগুলো সত্যিই নজর কাড়ে।
আলমারি থেকে হলুদে পড়ার শাড়ি খুজতে গিয়ে চোখ চলে নীলরংএর জামদানীর দিকে…আকাশী নীলের মাঝে সোনালী জরির কাজ, দেখে যেন মনে হয় নীলাভ প্রজাপতি। কিন্তু হলুদে সন্ধ্যায় এ শাড়ি যেন বেমানান..কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয় পলাশের কথা…ও একদিন নীলাম্বরী শাড়িতে সাজতে বলেছিল…কিন্তু সেদিন সে সুযোগ হয়নি…আজ কী তবে সুযোগ হলো…এ প্রশ্নে মুচকি হেসে ওঠে সে নিজেই।
শাড়িটি গায়ে জড়িয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতে লজ্জায় চোখ রাঙিয়ে ওঠে…মনে হয় শাড়ি নয় যেন পলাশই জড়িয়ে আছে তাকে…
মিষ্টি আর এক গুচ্ছ ফুল নিয়ে বিয়ে বাড়িতে ঢোকে সেঁজুতি…সত্যিই সবকিছু খুব ভালোলাগে, চাচিরা সবাই বলে, এবার তোমার পালা মা, তোমার বান্ধবী অহনা তো করবনা করবনা করে শেষমেষ রাজি হল…ছেলে ওকে দেখেনি এখনো, ছেলের মা মেয়ে পচ্ছন্দ করেছে,অনেকদিন ধরে মেয়ে খুজচ্ছিল, মনের মত পচ্ছিলনা, আজকালকার দিনে কী এমন হয়, আসলে পাত্র খুব ভালো মা, কোনো ডিমান্ড নাই, বিলেত ফেরৎ…নাম যেন কী বলল,পলাশ…………একথা শুনে মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ে সেঁজুতির..মাথাটা বনবন করে ঘুরে ওঠে, হাত থেকে ফুলের গোছাটা পরে যায়..চাচি আমার শরীরটা খারাপ করছে খুব, বাড়ি ফিরতে হবে আমাকে, একথা বলে কোনো রকমে বিয়ে বাড়ি থেকে রাস্তায় বেড়িয়ে আসে, দিগবিদিগ শূণ্য হয়ে হাঁটতে শুরু করে…গলাটা শুকিয়ে আসে, ঘামে ভিজে যায় বুক, হয়বেই না বা কেন, যার জন্য স্বপ্নের বাসর সাজিয়ে রেখেছিল এতদিন…আজ কিনা তারই বিয়ে অহনার সাথে…এরপর কী আর সেখানে এক মুহুর্ত থাকা যায়…
টালমাটল করে হাঁটতে একটা শপিংমলের সামনে এসে দাঁড়ায়…জীবনানন্দ দাশের সেই কবিতাটি কানের কাছে ঘুরে ফিরে আসে বারবার…মহাকাল ধরে হাঁটিতেছি আমি পৃথিবীর পথে …সিন্ধু, সিংহল, মালয় সমুদ্রে…
এমন সময় একটা সাদা কার এসে সামনে থামে..দরজা ঠেলে বের হয় সুর্দশন যুবক…খুব চেনা মনে হলেও চোখ নামিয়ে ফেলে সেঁজুতি…ভাবে ভ্রম হচ্ছে...
কিন্তু না পলাশ প্রথমে বলে ওঠে, সেঁজুতি না…দাঁড়াও কোথায় যাচ্ছ?
সেঁজুতি দাঁড়ায় না, আজ দাঁড়িয়ে কী হবে…কাল ওর বিয়ে…অযথা এর মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে কী লাভ বলো?
এক দৌড়ে ছুটে আসে পলাশ, প্লীজ আমার একটু কথা শোনো আগে-
তোমাকে কোথায় না খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি, কলেজে গিয়েছি তোমার ঠিকানা নিয়েছি, কিন্তু তোমরা তখন ঐ ভাড়াবাড়ি ছেড়ে নিজেদের বাড়িতে উঠেছ…
বাধ্য হয়ে তোমাকে না পেয়ে মার পচ্ছন্দ করা মেয়েকে বিয়েতে মত দিয়েছি, কিন্তু মন থেকে না…সবসময় তোমাকে খুঁজে ফিরি…
সত্যি মন থেকে বলছি আজ…আমি তোমাকে ভালোবাসি….বিদেশি গিয়ে আমি হাড়ে হাড়ে বুঝেছি… সবকিছুতেই তোমার মুখ ভেসে ওঠে।
সেঁজুতি নির্বিকার, কী বলবে…যার জন্য এতগুলো দিন-রাত অপেক্ষা করেছি…সে আজ সামনে দাঁড়িয়ে…অথচ কিছুই ভাবতে পারছেনা…কারন তাঁরই প্রিয় বান্ধবীর সাথে বিয়ে…
ও চুপ করে আছে বলে, পলাশ আবার বলে ওঠে কী ব্যাপার, কিছু বলছনা যে, বলে হাতটা চেপে ধরে পলাশ…
ঝিনঝিন ব্যথা অনুভব করে সেঁজুতি, আবার হাতটা ছাড়িয়ে নিতে মন চাইনা, আর ছাড়বেই বা কেন…ওর জন্য তো এতদিনের সাধনা…
তাঁর চেয়ে বরং চুপ করে থাকাই শ্রেয়…সমাজ-সংস্কৃতি সবকিছুর উর্ধে গিয়ে…পলাশ যা চাইবে তাই হবে…
হয়তোবা অহনার মার সামনে গিয়ে কখনো দাঁড়াতে পারবেনা…তিনি হয়তো ভাবতে পারবেন না যে তাঁর মেয়ের হুবুবর কিনা সেঁজুতির…
তা হোক ওর সাথে তো ওর মনের কোন সংযোগ নেই, যা সেঁজুতির সাথে আছে…সত্যই যে এমন হচ্ছে তা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছেনা সেঁজুতি…
পলাশ হাত ধরে তাকে গাড়ির কাছে নিয়ে…ইশারায় গাড়িতে উঠতে বলে…দরজা লাগাতে লাগাতে বলে… প্রথমে কাজী অফিসে চলো…তারপর অন্য দিকটা দেখব….

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement