লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ২১টি

সমন্বিত স্কোর

৪.৬

বিচারক স্কোরঃ ২.৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - উপলব্ধি (এপ্রিল ২০১৬)

পাখি ও প্রজাপতির প্রেম
উপলব্ধি

সংখ্যা

মোট ভোট ১৫ প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪.৬

নাফ্হাতুল জান্নাত

comment ৯  favorite ১  import_contacts ১,০৭৯
আজ ভোর থেকেই মিষ্টি বাতাস বইছে, মাহজাবীনের ঘুম ভেঙেছে ভোরেই- ঘুম থেকে ওঠেই সে নেবুতলায় চলে আসে। নেবুগাছের পশ্চিম কোণে মৌটুসি পাখি ছোট্ট বাসা বেঁধেছে। ঘাস, লতা-পাতা, খড় আর পুরোনো প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে তৈরি বাসাটা দেখতে এক কথায় অপরূপ হয়েছে। লম্বা ঠোঁটের বাদামী পাখিটি যে এত সুন্দর বাসা বাঁধতে তা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।
পাখির বাসাটি দেখতে দেখতে মাহজাবীন গুনগুনিয়ে রবীন্দ্র সংগীত গায়। “সকাল আমার গেল মিছে----বিকেল যে যায় তারই পিছে গো…… মাহজাবীন সবে মাত্র মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছে । এখন তাঁর হাতে অবারিত অবসর।
শহরের এককোণে চারকাঠা জমির উপর চৌকোন দোতলা বাড়ি, সামনে এক চিলতে বাগান। বাগানে শখ করে লাগানো আছে গোলাপ গাছ পেছনে আছে বাতাবী নেবু, আম আর আমলকীর গাছ। সার-পানি আর যত্নের কোন অভাব হয়না, তাই তো তরতরিয়ে বেড়ে ওঠেছে গাছগুলো । বাবা-মা আর দু ভাই-বোন এই নিয়ে ছোট্ট সংসার মাহজাবীনদের। বাবা-মা দুজনেই চাকুরীজীবী, ছোট্ট ভাইটা স্কুলে চলে যায় তাই সারা বাড়িতে মাহজাবীনকে একাই থাকতে হয়, শুকনো কাজের বুয়া আছে, প্রতিদিন আসে কাজ করে দিয়ে আবার চলে যায়।
এভাবে দিন ভালোই কেটে যাচ্ছিল ….. হঠাৎ একদিন বিকেলে রুমকি ফোন করে মাহজাবীনকে । ফোনে বলে, কী করিস সারাদিন ঘরে বসে বসে। কম্পিউটার শিখবি নাকি বল! যদি শিখতে চাস তাহলে আমাকে বলিস “অনির্কা কম্পিউটার” এ ভর্তি হব একসাথে। এবলে ফোন কেটে দেয় রুমকি।
রাতে খাবার টেবিলে বাবা বলে, মা মাহজাবীন এখন বাড়িতে একা একা থাকতে তোর ভাল লাগে ? যদি ভাল না লাগে তাহলে কটা দিন তোর নানাবাড়ি থেকে ঘুরে আসতে পারিস । ওখানে গেলে তোর বেশ ভালই লাগবে।
এফাকে কথাটা তোলে মাহজাবীন- বাবা আজ আমার বান্ধবী রুমকি ফোন করেছিল। ও বলেছিল, এই ছুটিতে ওরা সবাই কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হতে চাই, আমাকে ও ভর্তি হওয়ার কথা বলে। আমি কী করব?
-তা বেশ তো মা ভর্তি হয়ে যাও একসাথে, আমি তো বলেই দিয়েছি যদি এস.এস.সি. পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ 5 পাও, তবে তোমাকে নতুন কম্পিউটার কিনে দিবই। বলেই বাবা উচ্ছ্বাসিত হয়ে ওঠে।
পরদিন সকালে রুমকিকে ফোন দেয় মাহজাবীন।
হ্যালো, রুমকি কী করছিস!
ওপাশ থেকে রুমকি বলে ওঠে, কিছু করছি না তো, জাফর ইকবালের লেখা- দস্যি ক’ জন বইটি পড়ছি।
এপাশ থেকে মাহজাবীন বলে ওঠে, আমি তোর সাথে কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হতে চাই, তুই সময় করে আমার বাড়িতে চলে আয় না! আজ আমি বাড়িতে সারাদিন একা আছি।
রুমকি বলে ওঠে, দেখি সময় পেলে আসছি।
এই বলে ফোন কেটে দেয় রুমকি।
তারপর আবার একা হয়ে যায় মাহজাবীন, বারান্দায় এসে অপরাজিতা গাছের পাতায় হাত বুলায়, চৈত্রের শেষ বেলা এখন, বৈশাখ আসি আসি করছে। গাছের পুরোনো পাতাগুলো ঝরে আবার নতুন পাতা গজিয়েছে। নীল প্রজাপতির মত ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে গাছটি। দেখলে মনটা যেন আনন্দে ভরে ওঠে।
মন ময়ূরী নেচে চলে, মাহজাবীন ঘড়ি দেখে, সকাল এগারোটা বাজে। পছন্দের রবীন্দ্র সংগীতটা ছেড়ে দিয়ে- এক কাপ গরম কফি নিয়ে বারান্দায় ইজি চেয়ারটায় এসে বসে, কফিতে চুমুক দিয়ে চোখ বন্ধ করে মন দিয়ে গান শুনে...

এভাবে যে অনেকক্ষণ কেটে যায়...
হঠাৎ কলিংবেল বেজে ওঠে।
কলিংবেলের শব্দে মাহজাবীন জেগে ওঠে, দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখে রুমকি দাঁড়িয়ে। রুমকির হাতে শার্লক হোমসের কিছু বই।
বইগুলো দেখে মাহজাবীনের চোখ চকচক করে ওঠে, সারাদিন বেশ ভালো সময় কেটে যায়, বিকেলে রুমকির সাথে ঘুরতে বের হয় মাহজাবীন।
এরপরদিন সকাল এগারোটায় কম্পিউটার ক্লাসে যায় রুমকি...প্রথমদিনের ক্লাসে বেশ ভালো লাগে।
দ্বিতীয় দিনের ক্লাসে শুরু হয় গ্রাফিক্স, ছবি এডিটিং, এডভাটাইজিং, কভারপেজ মেকিং….
স্যারকে যত দেখে তত ভালো লেগে যায় মাহজাবীন। দেখতে স্মার্ট-হ্যান্ডসাম…বাড়ি ময়মনসিং।
বাড়িতে-সময়ে-অসময়ে স্যারকে মনে পড়ে মাহজাবীনের…কিন্তু এসবকে একদমই পাত্তা দেয়না। মন দিয়ে ক্লাস করে…আসলে ভালো লাগা থেকেই তা আস্তে আস্তে ভালোবাসা রূপ পায়।
এরই মধ্যে পহেলা বৈশাখ এসে যায়, এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কনসার্ট হয়, মেলা বসে। রুমকি স্যারকে বলে রাজি করে মেলায় যাওয়ার জন্য…
স্যার ও অগ্যতা রাজি হয়, যদিও মাহজাবীন মুখে কিছুই বলেনা, কিন্তু মনটা নীল ময়ূরীর মত নেচে ওঠে। আহ্ স্যারের সাথে একদিন সময় কাটানো যাবে।
বাঙালী রীতি অনুসারে পহেলা বৈশাখে মেয়েরা পড়বে লালপেঁড়ে সাদা শাড়ি আর ছেলেরা পড়বে পাঞ্জাবি। তাই সব বান্ধবীরা ঠিক করে শাড়ি পড়বে…কিন্তু মাহজাবীন তো কখনও শাড়ি পড়েনি আর শাড়ি পড়তে ভীষন লজ্জা লাগে…কেমন যেন বৌ বৌ লাগে… আর স্যারের সামনে শাড়ি পড়ে…ভাবতেই মনটা রাঙা হয়ে ওঠে। তাই শাড়ি পড়ার চিন্তা মাথা থেকে একেবারেই বাদ দেয় মাহজাবীন।
কিন্তু হল কি –সকালবেলা রুমকি শাড়ি হাতে হাজির। আম্মু দরজা খুলে দেয়-ও বলে আন্টি মাহজাবীন কই? এখনও ঘুম থেকে ওঠেনি।
তারপর এক প্রকার জোড় করেই শাড়ি পড়িয়ে দেয় রুমকি। শাড়ি পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়… একেবারেই অন্যরকম লাগে...নাকের ডগা থেকে চশমাটা সরিয়ে নেয় রুমকি, মাথায় দু’টো গোলপ গুজে দেয়....
ক্যাম্পাসে পৌছাতে পৌছাতে সকাল সাড়ে নয়টা বেজে যায়...রোদ বেশ গাঢ় হয়...পৌছে দেখে রালী শুরু হয়ে গেছে।
এককোণে দাঁড়িয়ে আছে কম্পিউটার স্যার….গায়ে খুব সুন্দর ফেব্রিকের নকশা করা পাঞ্জাবি…..রুমকিদের দেখে এগিয়ে আসে-বলে এত দেড়ি হল কেন? আর একটু আগে আসলে তো
রালীতে অংশগ্রহন করতে পারতে। এবার মাহজাবীনের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, বাহ্ তোমাদের তো একেবারে পিয়র বাঙালী লাগছে……খুব মানিয়েছে শাড়িতে।
দেখতে দেখতে তিন মাসের ক্লাস শেষ হয়ে যায়…
স্যারের সাথে আর আগেরমত দেখা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই ….কিন্তু মন মানে না …শুধু ছটফট করে ….
আবার বাড়িতে একলা সময় কাটে মাহজাবীনের…..কেমন যেন কালবৈশাখী ঝড়ে সব হারিয়ে যায়…
আবার বাগানে নেবু গাছের কাছে এসে দাঁড়ায়….দু’ ফোটা চোখের জল ও পড়ে যায় নিজের অজান্তে…..উপরে তাকিয়ে দেখে …পাখির বাসাটিতে ছোট ছোট দু’টো বাচ্চা উকি দিছে…
মনটা ভালো হয়ে যায় মাহজাবীনের….এমন সময় একটা হলুদ প্রজাপতি উড়ে এসে বসে …পাখির বাসাটিতে…বাচ্চাগুলো কিচিমিচি করে ওঠে….

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement