নতুন ধানের চাল পৌষ মাসে এক অদ্ভুত উন্মাদনা এনে দেয় । নবান্ন ঘিরে কত কথা , সুখ স্মৃতি ।
-লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য

লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
গল্প/কবিতা: ৬৬টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - নবান্ন (অক্টোবর ২০১৯)

ধোঁয়া ওঠা ভাত
নবান্ন

সংখ্যা

শাহ আজিজ

comment ০  favorite ০  import_contacts ৪৭
ভোর বেলায় গায়ে মোটা চাদর চড়িয়ে উঠোনে দাঁড়ালাম । কয়েকটি তাফলে রস জ্বাল দিচ্ছে কিষাণেরা । পুরা বাড়িটা ব্যাস্ত । আমায় কিষাণেরা হেসে জিজ্ঞাসা করল কাচা রস খাবা সাহেব ? মাথা নাড়লে আমায় ঠিলা থেকে খেজুর গাছের মুচি দিয়ে বানানো ছাকনির মধ্যে গ্লাসে রস ঢেলে দিল । ঠাণ্ডা রস দারুন মজার । আরাক গিলাস খাও , না করলাম মাথা নেড়ে , বললাম গুড় তৈরি হলে খাব । রান্না ঘরের বাইরের বড় চুলায় পায়েস তৈরি হচ্ছে । খৈলেনে চলে এলাম । উচু করে পাকা ধান স্তুপ করে রাখা । ঘুম কাটেনি , শুয়ে পড়লাম নিচুতে রাখা ধানের গোছার ওপরে । চাদর মুড়ে দিলাম সারা শরীরে । সূর্য উঠেছে আর তার ক্ষীণ আলো খেলা করছে আমার চাদরে ঢাকা চোখের সামনে । চাদর সামান্য সরিয়ে কয়েক ইঞ্চি দূরে সোনালি ধানের মধ্যে ওষের ফোটায় ভোরের সূর্যের ঝিলিক প্রথম দেখলাম । একটা মুক্তো দানা হয়ে আমায় দারুন উজ্জীবিত করল । ধানের গন্ধ আমায় পাগল করে দিচ্ছিল , আমিতো ধানের ওপর শুয়ে , আমায় আর ধানের গোছায় কোন পার্থক্য নেই নেই ব্যাবধান । সূর্য বাড়ছে আর ওষের মুক্তো দানার উজ্জলতা মিলিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ । তন্দ্রা ভাব কেটে গেল কাজের মেয়েটির ডাকে । সে বলল আব্বা, আসেন আপনারে ভিতরে খাতি বোলাচ্ছে । ভিতরে গেলাম । রান্না ঘরের মাটির বারান্দায় মাদুর পেতে তাতে বসলাম । একটা কাচের থালায় অর্ধ গোলাকার আকারের ভাতের ওপর চকচকে কুসুমের হাসের ডিম পোঁচ । কি দারুন ধোঁয়া উঠছে নতুন চালে । খেতে খেতে চলে এলো কাসার বাটিতে পায়েস , নতুন চালের , কিছুক্ষন আগে ধানের গোছার ওপর শুয়েছিলাম । প্রতিদিন ধান মলবে , দুটো ঢেঁকি ব্যাস্ত থাকবে ধান ভানায় । ডাল , মাছ কিছুই আর ছুলাম না সোজা নতুন চাউলের পায়েস খেজুরের রসের কাঁসার বাটি তুলে হাপুস হুপুস খেতে শুরু করলাম । চকিত তাকিয়ে দেখি আমাদের কিষাণরা তাফলের পাশে বসে , আত্মীয় স্বজন , গৃহকর্মীর দল স্থির হয়ে আমার হাভাতের খাওয়া দেখছে । কিষাণদের একজন শুধাল সাহেপ কিরাম হইছে শিন্নি ? আমি বললাম সেইরাম অইছে , দেহি আরাক বাটি । কাকী’মা শুধালেন বিকেলে কি কি পিঠে খাতি চাও ? আমি বললাম গুড় আর নারকেলের পুর দেওয়া কুলি পিঠা ভাজা । আমার প্রিয় পিঠা । অর্ধ শতাব্দী পরে এখনও ঢাকা শহরে কুলি পিঠা খুজি কিন্তু সেই মজা নেই ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement