লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১০ জুন ১৯৯১
গল্প/কবিতা: ১টি

সমন্বিত স্কোর

২.৮

বিচারক স্কোরঃ ১ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftশ্রম (মে ২০১৫)

মহাজনের জমি চাষ
শ্রম

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৮

মুহম্মদ ফরহাদ ইমরান

comment ৫  favorite ০  import_contacts ৮১৩
দেশ এখন অনেক এগিয়েছে ।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দৈহিক শ্রমজীবীদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে বহুলাংশে । এক দেশ থেকে অন্য দেশের কাজ সম্পাদন করা যাচ্ছে ।শ্রম আইনেও এসেছে পরিবর্তন । শ্রমিকদের কে সুযোগ-সুবিধা ভালই দেয়া হচ্ছে । বর্তমানের কথা আমি নাই বললাম । আমি শুধু রমিজ মিয়ার গল্পটা একটু বলতে চাই- বছরে একবার ফসল হয় ।ছয় মাস পানির নিচে জমি থাকে তাই কোন কিছু চাষ করা যায় না । বর্ষা এলে মাছ ধরে রমিজের সংসার চলে ।তিন মেয়ে দুই ছেলে আর বউকে নিয়ে তাঁর সংসার ।খুবই অভাবে চলে তাঁর দিন-রাত । তবে পরিবারের সদস্যদের দেখে বুঝার উপায় নেই যে অভাবের সংসার ।প্রতি বছরই সদস্য সংখ্যা বেড়ে চলছে ।এ বিষয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপও নেই,আছে অকাট্য যুক্তি- রিজিকের মালিক আল্লাহ্‌ । মুখ যহন দিছে খাওনও দিব ।এই অভাবের মাঝে সন্তানদের সাদ-আহ্লাদ পূরণ করার সামর্থ্য হয়ে উঠেনি । বিয়ের পরে তাঁর বউকে একটা শাড়ী পর্যন্ত কিনে দিতে পারেনি ।অবশ্য এ ব্যাপারে তাঁর বউ এর কোনো দুঃখ-বোধও নেই ।কারন স্বামীর এ দৈন্য-দুর্দশার কথা সে জানত । রমিজের এক ছেলে তাঁর সাথে মাছ ধরে । তাঁর অনেক কষ্ট হয় বাবার এই অবস্থা দেখে ।তাঁর চোখে অনেক স্বপ্ন একদিন সে অনেক টাকা রুজি করে তাঁর পরিবারের কষ্ট দূর করবে । দেখতে দেখতেই আবার জমি চাষের সময় এসে গেছে । এদিকে তাঁর বড় মেয়ের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে ।অনেক সমন্ধও এসেছে কিন্তু মেয়ে বিয়ে দেওয়ার মত সামর্থ্য রমিজের নেই । এইবার ব্যুরো ধানের ফলন ভাল হলে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেবে । বাপ-ছেলে জমিতে কাজ শুরু করে দিয়েছে ।মাছ বিক্রি করে কিছু টাকা জমিয়ে ছিল। এই টাকা দিয়ে মহাজনের জমিতে চাষ করল । নিজের জমির পাশাপাশি অন্যর জমিতেও কাজ করে বাপ-ছেলে মিলে তানাহলে যে প্রতিদিনের খাবার জুটবে না । গ্রামের টাকলু মাথার পয়সাওয়ালা জবির খাঁ র জমিতে প্রায়ই কাজ করে । জবির খাঁ টাকা দেয়ার সময় প্রায়ই বকবক করে ।আজ বলে উঠল কিরে রমিজ তুইত দেখছি এখন আর আগের মত কাম-কাজ করতে পারছ না ।কালকে থেকে তুই আর আইছ না ।শুধু তর পুলারে পাডাইয়া দিছ । রমিজ মিয়ার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল ।২০ বছর ধরে কাম করতাছি এহনও যে কত ট্যাহা বাকী আছে এর ত হিসাবই নাই । আর আইজ বয়স হইয়া গেছে বইলা । কপাল সবই কপাল । এইদিকে এইবার রমিজের বর্গাকৃত জমিতে ভাল ফসল হইছে ।এইবার তাঁর মেয়ের বিয়ে দিতে পারবে । ধান দেখে লোভ সামলাতে পারল না মহাজন । ধান কেটে নিয়ে আসল মহাজন ।রমিজ মিয়া জমিতে গিয়ে যখন দেখল এই অবস্থা আকাশে বিজলী চমকের মত ঘটনা ঘটল । সে ছুটে গিয়ে মহাজনকে বলল বাবু আমার জমির ধান কাইটা আনছেন ক্যান? মহাজন ধমক দিয়ে বলল আমার জমি মানে এই জমি তোর ? আমার জমি থেকে আমি ধান কেটে আনছি ।তুই কাজ করেছিস এর জন্য কিছু মাইনে নিয়ে চলে যা । রমিজ মাইনে ছাড়াই বাড়িতে চলে এল ।এভাবেই রমিজরা শোষিত হয়েছে দিনের পর দিন । রমিজের মেয়ের বিয়েটা আর দেয়া হল না ।কে জানে হয়তোবা হয়েছে এমনই কোনো আরেক রমিজের ছেলের সাথে । যারা কাজ করে তারা শুধু মাইনে চায় না সাথে স্বীকৃতিও চায় ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement