ছোটন নবম শ্রেণীতে পড়ে, ন্যাশনাল আইডিইয়াল স্কুলে। স্কুলের ছুটি চলছে। ঘরমের ছুটি শুরু হয়েছে। স্কুলের ছুটির মধ্যে ঘরমের ছুটিই সবচেয়ে বড় হয়। এবারের ছুটি সবমিলিয়ে ১ মাস ১২ দিন। ঘরমের ছুটিতে পড়ালেখার চাপটা একটু কম থাকায় বন্ধুদের সাথে একটু সময় কাটানো যায় অন্য সময় তো বাবা-মা পড়া পড়া করতে থাকে।


স্কুলের ছুটি চললেও ছোটনকে প্রতিদিন কোচিং করতে যেতে হয়। কোচিং ছাড়াও স্কুলের অনেক কাজ দিয়ে রেখেছে। ছোটন চিন্তা করেছে আবার সব বাড়ির কাজগুলো আগে আগে শেষ করে রাখবে তাতে অন্তত ছুটির শেষ অংশটা একটু মজা করে কাটাতে পারবে। ছোটন ওর মাকে বলে রেখেছে যে ও সব কাজ আগে শেষ করে ফেলবে মা যেন পড়ে পড়ার জন্য তেমন চাপ না দেয়।


পড়ালেখা ছাড়া ছোটন মাঝে মাঝে খেলতে যায়। ওর বাসার পাশেই ছোটো মাঠে সব বন্ধুরা খেলে। পড়ার জন্য সবসময় খেলতে যেতে পারেনা। তবে সবসময় খেলতে যেতে না পারলেও খেলার জন্য সবসময় ইচ্ছা করে। সপ্তাহে চারদিন বিকালে ক্লাস থাকায় ওইদিনগুলোতে খেলা হয়ে উঠে না।




দেখতে দেখতে ছুটির দিনগুলো শেষ হয়ে আসছে। ছুটির দিনগুলো শেষ হয়ে আসলেও ছোটনের স্বাধীনতার দিন চলে এসেছে। স্কুলের কাজগুলো হয়ে গেছে আর কোচিং ও কয়েকদিন বন্ধ থাকবে তাই ছোটনের এখন অফুরন্ত সময়। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া, গেমস খেলা, বিকালে খেলতে যাওয়া সব মিলিয়ে অসাধারন কাটতে লাগলো ছোটনের সময়।

ছোটনের বন্ধুর বাসায় কেউ নেই আজকে ওর আম্মু- আব্বু গেছে বোনের বাড়িতে তাই বন্ধু একা। ছোটন ওর আম্মুকে বলে রেখেছে যে ও আজ বন্ধুর বাসায় যাবে সন্ধার সময় আসতে আসতে ৯- ১০ টা বাজবে। মায়ের অনুমুতি মিলে যাওয়ায় ছোটন খুশি।

সন্ধার পর ছোটন গেছে ওর বন্ধুর বাসায় ওর বন্ধুর নাম রতন। ছোটনের আরো কয়েকজন বন্ধু এসেছে রতনের বাসায়। সবাই একসাথে দারুন সময় যাচ্ছে। বিভিন্ন বিষয় গল্প করতে করতে হঠাৎ ভূতের প্রসঙ্গ এলো। সবাই ভূতের গল্প বলা শুরু করলো। একের পর এক গল্প চলতে থাকে কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি। মনের মধ্যে সবার একটু ভয় ভয় লাগতে থাকে তবুও সবাই গল্প চালিয়ে যায় কারন ভয় ভয় অনুভূতি থাকলেও শুনতে ভালোই লাগে।

রতনের আম্মু ফোন দেওয়াতে গল্প কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ আছে। আজকে রতনের আম্মু আসবে না রতনকে আজ একা বাসায় থাকতে হবে। ভূতের গল্প আবার শুরু করার পর রতন বললো আজকের জন্য ভূতের গল্প বাদ থাক কিন্তু সবাই আরো বেশি করে ভূতের কাহিনি শুরু করলো। রতনের একটু ভয় লাগতে শুরু করলো। একটু পরে সবাই চলে গেলো ওকে তো একাই থাকতে হবে।

রাত নয় টার পরে সবাই ছোটন ও অনন্যা বন্ধুরা সবাই চলে গেলো। ছোটন বাসায় এসে ভাবতে লাগলো যে আসলে রতনকে এভাবে ভয় দেখানো উচিৎ হয়নি। কে জানে ছেলেটা একা একা কিভাবে বাসায় থাকবে। বন্ধুকে ভয় দেখিয়ে এখন খারাপ লাগছে ছোটনের। আগামীকাল জানা যাবে কি হলো ভেবে ঘুমিয়ে পড়লো ছোটন।




বিকালে খেলার মাঠে গেলো ছোটন। রতনকে এসেছিল কি না বন্ধুদের কাছে জানতে চাইলো ছোটন। বন্ধুদের কাছ থেকে জানলো রতন এখনো আসেনি। রতনের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরে না আসায় রতনের বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো ছোটন। রতনের বাসায় গেলো ছোটন আর বন্ধুরা। রতনের বাসায় যাওয়ার পর জানতে পারলো রতনের জ্বর এসেছে।

রতন জানালো গতকাল সবাই যাওয়ার পর কেমন যেন ভয় ভয় লাগতেছিল। রাতে ঘুমানোর জন্য শুয়েছি এমন সময় মনে হলো পাশের ঘরের থেকে শব্দ আসছে। মনে হচ্ছে একটা বাচ্চা ছেলে বল মারছে ফ্লোরে। শব্দটা ক্রমেই বাড়ছে। খুব ভয় লাগতে লাগলো। একটু সাহস করে উঠে গেলাম কিন্তু দেখলাম শব্দটা মিলিয়ে যাচ্ছে একাধারে বলতে লাগলো রতন। কখন যে ঘুম আসলো জানি না সকাল বেলা আম্মু আসে চাবি দিয়ে দরজা খুলে এসে দেখে আমার অনেক জ্বর রতন জানায় সবাইকে।

রতনের কথা শুনে সবার হাসি ও পাচ্ছে আবার বন্ধুর জন্য খারাপ ও লাগছে সবার। না গতকাল একটু বেশি বেশিই হয়ে গেছে। মনের মধ্যে একটু লজ্জাবোধ নিয়েই বাসার পথে পা বাড়ালো রতন।