লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ নভেম্বর ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৭টি

সমন্বিত স্কোর

৩.৬

বিচারক স্কোরঃ ১.৮ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৮ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftঘৃনা (আগস্ট ২০১৫)

স্বপ্নের অকাল মৃত্যু
ঘৃনা

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ৩.৬

মোহাম্মদ আলম

comment ৪  favorite ২  import_contacts ১,৫০৬
স্বপ্নের অকাল মৃত্যু


এক

এক বছর হলো সুমনের পড়ালেখা শেষ হয়েছে। সুমন বাবার একটা ছোটখাটো মুদী দোকান আছে সুমনদের বাসার পাশেই। সুমনদের বাসার সদস্য সংখ্যা হলো ৭ জন। সুমন সবার বড় ও একমাত্র ভাই চার বোনের। সুমনের বোনদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো সুমি। সুমি এবার মাধ্যমিক দিবে, অন্য তিন বোনের মধ্যে শিউলি ক্লাস ৬, সীমা ৩ আর শেফালী এখনো স্কুলে যাওয়া এখনো শুরু করেনি।


সুমনের বাবার সবচেয়ে বেশি চিন্তা উনার মেয়েদের নিয়ে। মেয়েগুলিকে পড়ালেখা শিখিয়ে ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দিতে পারলেই যেনো চিন্তা মুক্ত হতে পারতো। মুদী দোকান চালিয়ে যে উপার্জন তা দিয়ে সংসার চালানোটাই কঠিন। সুমনের বাবার এখন সবচেয়ে বড় আশা সুমন। সুমন ভালো একটা চাকুরী করবে, সংসারের হাল ধরবে এ আশায় সুমনের বাবা ছিল। ছেলের পড়ালেখা শেষ করেছে এখন দ্রুত চাকুরী পেলেই তার বাবার জন্য সংসার চালানোটা একটু সহজ হতো।


সুমন পড়ালেখা শেষ করার পর থেকেই চাকুরীর জন্য চেষ্টা করছে। সুমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ, এমবিএ শেষ করেছে। বর্তমানে চাকুরী পাওয়াটা কতো কঠিন তা সুমন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। পড়ালেখা করেতো আর পিয়ন এর চাকুরী নিতে পারেনা। একটু সন্মানজনক চাকুরী জোগাড় করা এখন কতটা কঠিন তা যেঁ চাকুরী খুঁজছে সেই বুঝে বিশেষ করে যার টাকা নেই কিংবা মামা ( ক্ষমতাবান লোক) নেই।


সুমনের এখন আর বাসায় যেতেও ইচ্ছা করেনা কারন বাসায় গেলে সবার করুন মুখগুলো যাদের খুব আশা ওকে নিয়ে তাদের হতাশা দেখতে সুমনের ভালো লাগে না কিন্তু কিছুই করার নেই তবুও দিন শেষে বাসায় ফিরে যেতে হয়। সুমন অবশ্য মাঝেমাঝে দোকানে বসে কিন্তু মানুষ এসে এখন চাকুরী পাইছো সহ বিভিন্ন খোঁচা দেওয়া কথা বলে তাই দোকানে বসা সুমন এড়িয়েই চলে। সুমনের বাবাও অবশ্য চায়না যে সুমন দোকানে বসুক কারন সুমনকে নিয়ে তার বাবার অনেক স্বপ্ন।


সবমিলিয়ে সুমনের দিন কেটে যাচ্ছিলো কোনো রকমে। সুমনের জন্য চাকুরী পাওয়া জরুরী অন্য একটি কারনেও । সুমনের সাথে একটা মেয়ের সম্পর্ক চলছে ৩ বছর ধরে। সুমন যখন বিবিএ শেষ বর্ষে তখন একটা ক্লাসে বর্ষার সাথে সুমনের পরিচয়। তার পর ভালো বন্ধু হয়ে উঠা একটা সময় বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়। সুমনের বাসার কেউ অবশ্য বর্ষার কথা জানেনা।


বর্ষা মেয়ে মানুষ পড়ালেখা শেষ করেছে তাই বাসা থেকে চাপ দিচ্ছে। বর্ষা এতদিন পড়ালেখা শেষ করার পরে বিয়ে করবে বলে পরিবারকে ম্যানেজ করে আসলেও এখন তাদের রাজী করানোটা কঠিন বর্ষার জন্য। সুমন ও কিছু করছে না তাই বাসায় জানাতেও পারছে না ভয়ে।




দুই

বর্ষার সাথে সুমনের দেখা হয় সপ্তাহে একদিন। আজকে সুমন যাবে বর্ষার সাথে দেখা করতে কিন্তু সুমনের যেতে ইচ্ছা করছে না কারন সুমন জানে চাকুরীর অগ্রগতির কথা জানতে চাইবে বর্ষা কিন্তু নতুন করে বলার কিছু নেই। আর এসব ভালো লাগে না সুমনের। দিনে দিনে হতাশা সুমনকে যেনো চেপে ধরছে। তবে না গিয়েও উপায় নেই না গেলে বর্ষা মন খারাপ করবে।

সকাল ১১ টা সুমন অপেক্ষা করছে রাজু ভাস্কর্যের সামনে বর্ষার জন্য। বর্ষা সবসময় সময়ের আগেই আসে যদিও আজকে এখনো আসেনি। ২০-২৫ মিনিট পরে বর্ষা আসলো ওর মন খুব খারাপ ওকে দেখে মনে হলো সুমনের। মন খারাপ দেখেও সাহস করে সুমন জানতে চাইলো না যে কি হয়েছে। বর্ষা অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থেকে তারপর বললো তোমার চাকুরীর কি অবস্থা? আর কতদিন লাগবে? আমার বিয়ে হয়ে গেলে তারপর কি চাকুরী পাবে? বর্ষা ক্রমাগত কথাগুলো বলে চলছিলো সুমনের কিছুই বলার নাই। কি বলবে নতুন করে আশা দেওয়া ছাড়া কি করার আছে সুমনের? কিছুক্ষণ একসাথে থেকে তারপর বর্ষা বিদায় নিয়ে বাসায় চলে গেলো।






তিন

বর্ষার সাথে শেষ দেখা হওয়ার পর বেশ কিছুদিন সুমন বাসার একটা কাজে গ্রামের বাড়ি যাওয়ায় বর্ষার সাথে যোগাযোগ বন্ধ কারন সুমনদের গ্রামের বাড়িতে মোবাইল এর নেটওয়ার্ক তেমন পায় না আর সুমন এতোই ব্যাস্ত ছিল যে বর্ষার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। ঢাকায় আশার পরে বর্ষার মোবাইলে কয়েকবার ফোন করলেও ফোন বন্ধ পেয়েছে। সুমন অবশ্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও বর্ষার সাথে দেখা করতে পারে নাই।


বেশ কিছুদিন পরে সুমনের সাথে দেখা হয় বর্ষার এক বান্ধবীর। বর্ষার বান্ধবীর মাধ্যমে জানতে পারে বর্ষার ফ্যামিলি বর্ষার জন্য পাত্র ঠিক করেছে । আর বর্ষা বিয়ে না করতে চাওয়ায় ওকে বাসা থেকে বের হওয়া আর মোবাইল ব্যাবহার করতে দিচ্ছে না। সুমন ওর বান্ধবীকে অনুরোধ করে ওর সাথে দেখা করানোর ব্যাবস্থা করে দিতে। বর্ষা বান্ধবী চেষ্টা করবে বলে বিদায় নেয়।


সুমন কয়েকদিন আগে লিখত পরীক্ষা দিয়ে এসেছিলো এমন একটা কোম্পানি থেকে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য চিঠি এসেছে। আগামী সপ্তাহে যেতে বলেছে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার জন্য। সুমনের কাছে অবশ্য এটা স্বাভাবিক বিষয় কারন এমন ইন্টারভিউ ও অনেকবার দিয়েছে। তবুও প্রতিটা ইন্টারর্ভিউ মানেই চাকুরী পাওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি করে।

বর্ষার বান্ধবী সকালে ফোন দিয়েছে বলেছে আগামীকাল সকালে বর্ষা সুমনকে থাকতে বলেছে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সকাল ১১ টায়। পরেরদিন সকালে ঠিক সময়ে সুমন হাজির হলো আর গিয়ে দেখলো ওর আগেই বর্ষা সেখানে বসে আছে। বর্ষা জানালো কি হচ্ছে ওর জীবনে। বর্ষার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে। বর্ষা সুমনকে বলে চলো পালিয়ে বিয়ে করে ফেলি। সুমন পালিয়ে বিয়ে করার পক্ষে না সুমন বর্ষাকে একটু অপেক্ষা করতে বলে। সুমন জানায় ওর একটা কোম্পানি থেকে ইন্টারর্ভিউ দেওয়ার জন্য ডাক এসেছে । বর্ষা দেখো এবার আমার চাকুরীটা হয়ে যাবে আমাকে কয়েকটা দিন সময় দাও। বর্ষা সুমনের উপর ভরশা করে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।


শেষ পর্ব

সুমন ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে। একবুক আশা নিয়ে যাচ্ছে আজ ইন্টারভিউ দিতে। চাকুরীটা ওর জন্য খুব দরকার। পরিবারের ভরশা হওয়ার জন্য, বাবার স্বপ্ন পুরনের জন্য। বর্ষার স্বপ্ন পুরনের জন্য। এতদিনের সম্পর্কের, বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য চাকুরীটা আজকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সুমন যাচ্ছে সাথে নিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয়। ঠিক সময়েই ইন্তারভিউ দিতে গেলো সুমন। যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে শুরু হলো ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউ বোর্ডের সবাই বিভিন্ন প্রশ্ন করছে সুমন সাহসিকতার সাথে জবাব দিয়ে যাচ্ছে সব প্রশ্নের। সুমনের জবাবে সবাই সন্তুষ্ট। বেতন নিয়ে আলোচনা করে কতো তারিখ থেকে সুমন জয়েন করতে পারবে তা ঠিক করা হলো।

খুশি মনে বাড়ি ফেরার পথে রওনা দিলো সুমন।সব স্বপ্ন সত্যি হবে এই ভেবেই ভালো লাগছে সুমনের। বাসায় যাওয়ার জন্য বাসে উঠলো সুমন। বাসের ভাড়া নিতে আশা ছেলেটাকে খুশিতে ১০ টাকা বেশি দিলো সুমন। কখন সবাইকে জানাবে এই ভেবেই অস্থির সুমন। শাহবাগে বাস থেকে নামলো আরেক বাসে উঠার জন্য , অন্য বাসে উঠতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে পিছন থেকে একটা বাস দ্রুত চলে গেলো সুমনের উপর দিয়ে।

পড়ে আছে এক নিথর দেহ। ভিড় করে আছে হাজারো মানুষ। একটা স্বপ্নের হারিয়ে যাওয়া। একটা দুর্ঘটনা কিন্তু কতোগুলো মানুষের স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে আজ। সুমনের আত্মা হয়তো দূর দেখে দেখে কাঁদছে আর হয়তো ঘৃণায় ধিক্কার দিচ্ছে।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement