গুলি চলছে
মানুষ ছুটছে,
ছুটছে মানুষ দিক-বিদিক শূন্য হয়ে
জান হাতে নিয়ে হন্যে হয়ে।
ছুটছে শুধু নেই ঠিকানা
থামবে কোথায় তাও জানে না।
সূর্য গেছে ডুবে
নেমেছে আধার চারদিকে;
ছুটছে মানুষ,
কারো নেই কোন হুঁশ।
কেউ আশ্রয় নিচ্ছে বটমূলের ফাঁকে
কেউবা গিয়ে ঢোকে
জীর্ণ-শীর্ণ পুরনো ভাঙা মন্দিরে
যেখানে দিনেও কেউ চায় না ফিরে;
মন্দিরখানি শত ভুতের আবাসস্থল
সেথায় মানুষের মন আজি হয় চঞ্চল;
ভুত-প্রেতের ভয়ে নয়
মানুষের হিংস্রতায় তাদের মুখ ফ্যাকাসে হয়।

কেউ ঝাপিয়ে পড়ে নদীর পানিতে
যেন কুমিরের ভয় নেই মনেতে,
গুলির শব্দ ভেঙ্গে দেয় নিস্তব্ধতা
জানোয়ারকেও হার মানায় ওদের হিংস্রতা।

গুলি ছলছে
মানুষ ছুটছে,
শোনা যায় শুধুই চিৎকার
বহুদূর ভেসে যায় ওদের হাহাকার।
ছুটেও কেউ পায় না পার
রক্ত-মাংস-বুলেট সব মিলেমিশে একাকার,
বটগাছের তলে, মন্দিরে, নদীতে
মাঠে-বাজারে-বনেতে,
চারিদিকে এসেছে যেন রক্তের বান
মুহূর্তেই হল খতম হাজার প্রাণ।

শিশু-বৃদ্ধ-কিশোর-জোয়ান,
পুরোহিত-ইমাম-কামার-কৃষাণ,
এক মুহূর্তেই সব হল শেষ
জ্বলছে গ্রাম, জ্বলছে দেশ।
কিশোরী-যুবতী সব করল দান
বৃদ্ধা মা-মাসি সহ্য করল অপমান
তবু কেউ পেল না রেহাই
সব পুড়ে হল ছাই।

আগুন আর রক্তে সব রঙীন
ইহা একাত্তরের একটি দিন।