ওখানে পা ছড়িয়ে বোসো না, আমি মুগ্ধ-দর্শক হতে জানিনা
কালো ঠোঁট চেটে নাও লাল জিভের ডগায়
চোখ মেললেই মনে হয় মুখে হাত দিয়ে বসে আছো
আমি তোমাদের সমস্ত ভেজানো দরজা দেখতে পাই।
আমি একা বসেছিলাম জানালায় তুমি ও তোমার সাথে আরেকজন শাড়ি পরে
দাঁড়ালো দরজায়, অগোছালো ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলাম, ভালো আছো? তোমরা বললে
পৃথিবীতে এখন আর কেউ ভালো থাকেনা, জানালায় কেউ আর একা বসে থাকেনা!
তবু ভেতরে-বাহিরে ঝড় বয়ে যায়, অলস বিকাল আসে ক্ষীন সময় নিয়ে
দিয়ে যায় একতাড়া অলক্ষুনে স্বপ্ন, দেখতে পাই-
তোমাদের ভেতরে ডুবে যায় আমার সমগ্র অস্তিত্ব, বলতে পারিনা-
তোমাদের স্নান করতে হয়না; জল নিজে স্নান করে তোমাদের শরীরে, বলতে পারিনা-
আমি মনে মনে, মনে মনে, মনে মনে চেয়েছিলাম
গভীর অরণ্যের মধ্যে তোমাদের হাতগুচ্ছ ধরে হেঁটে যেতে স্বর্গের দিকে, আমি
তোমাদের হাতে দেখতে চেয়েছিলাম নীল বুরুজ, উঁচু হীল খুলে রেখে তোমরা
হাঁটছো খালি পায়ে, আমি
প্রত্যহ সকালে তোমাদের মুখ হতে শুনতে চেয়েছিলাম জলের গান, কিন্তু তোমরা
আমায় সে আসমানী জল না দিয়ে চোখের জল উপহার দিলে, সে জলে মুখ ধুয়ে
মনে হয় আমি ঠান্ডা মাটির ঘরে বহু’দশক ধরে বন্দী তবু
মাত্র ন’মাস ঘুমিয়ে ছিলাম লীন-জাগরণে, আমি বহুদিন ধরে তোমাদের প্রতীক্ষায়-
প্রক্ষালন করেছি আমার হৃদ-অন্ত-গহ্বর, আমি কোটি কোটি শব্দ ছুড়ে ফেলেছি
চিত্রার জলে, তবু কিছু মুহুর্ত না দিয়ে তোমরা আমায় দোদুল প্রেমে মুগ্ধ করে দিলে, আমি
তোমাদের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চেয়েছি, তোমরা আমায় ঠান্ডা কথোপকথনে
আহবান করলে, তবু আমি সিক্ত হই, প্রেম নিই, মেতে রই এমন অপ্রেমে
আমার বহুমূল্য ছায়ারা বিক্রি হয়ে যায়, তোমাদের অসংখ্য অনুত্তরে...
এভাবেই ভেসে যায় আশেপাশের বাড়ি-ঘর মেসেঞ্জারের নীরব বাক্য বিনিময়ে!
জেগে রয় আমার অতৃপ্ত অস্তিত্ব আর তুমি আর তোমার সাথে আরেকটি শাড়ির শরীর!