লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২১ আগস্ট ১৯৮২
গল্প/কবিতা: ১০টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftদিগন্ত (মার্চ ২০১৫)

আঁদুরী কাছে দিগন্তের খোলা চিঠি
দিগন্ত

সংখ্যা

মোট ভোট

Mizanur Rahman

comment ৬  favorite ০  import_contacts ১,৩৯৫
প্রকৃত নামটি ধরে ডাকা হলো না তোমাকে আর! ডাকার ইচ্ছেটা ছিলও না কখনো! তুমি নিজেও কখনো এ’নিয়ে আপত্তি বা রাগ করনি। সেই প্রথম দেখাই তোমার প্রতি যে আঁদর, ভালোবাসা বুকের ভিতর বাসা বেঁধেছিল তখনি তোমার নাম দিয়েছি- আঁদুরী!
মনে আছে কি তোমার, প্রথম বেড়াতে যাওয়ার কথা! রিকসায় যখন তোমার পাশে বসি, বুকের ভিতরের রক্ত কনিকা গুলো মেঘ হয়ে সেকি বিসাল বিসাল গজর্ন দিতে শুরু করল। রিকসা দোলো মনটাও দোলে! তোমার বাহুতে আমার বাহু’র আলতো ঘষর্ন, কি যে অনুভূতি- এ বুঝি তুমি কিছু মনে করলে! তুমি রাগ করলে! কত ভয় উকিঝুকি দিচ্ছে মনে!
অনেকক্ষণ পিনপতন নিরবতা ভেঙ্গে তুমি জিজ্ঞেস করলে- আমারা কোথায় যাচ্ছি!
আসলে তখন আমি নিজেও জানতাম না কই যাচ্ছি, কোন দেশে! শুধু এ’টুকু জানতাম আমি স্বপ্নের রাজকন্যার সাথে স্বপ্নের দেশে আছি।
বিশ্বাস কর তখন নিজেও জানতাম না কোথায় যাব! প্রেম করার জন্য নিরিবিলি কোন জায়গাটা ভাল! শুধু জানতাম যেদিকে যাচ্ছি সে দিকে একটি কৃর্ষি ফার্ম আছে। আগে কখনো যাওয়া হয়নি ওদিকে। শুনেছিলাম জায়গাটা অনেক সুন্দর, নিরিবিলি তাই রিকসা ভাই’কে বলে দিলাম- কৃর্ষি ফার্মে চলুন!
তুমিও না কর নাই!
ভালোবাসা সত্যি প্রেমিক-প্রেমিকাকে সাহসি করে তোলে ঐ দিন বুঝলাম!
কৃর্ষি ফার্মে পৌছার পর একটি গাছে’র নিচে বসে তোমাকে কি বলব বুঝে উঠতে না পেরে আবোল তাবোল কথা শুরু করে দিয়েছিলাম। এখনো আমার হাসি পায় ঐ কথাগুলো মনে পড়লে। প্রেমে পড়লে ছেলেরা নাকি বোকা হয়ে যায়। সত্যি তাই না হলে কেউ এত সুন্দর একটি মেয়েকে পাশে বসিয়ে বলতে পারে- দেখ গাছগুলো অনেক সুন্দর! ওই দেখ একটি শালিক একা একা বসে আছে! জান এখানে নাকি অনেক সুন্দর সুন্দর ফুলের চাষ হয় কিন্তু দেখতে পাচ্ছি নাতো। তুমি মিটিমিটি হেসে বললে আমাকে- হু দেখতে পাচ্ছি অনেক সুন্দর! তোমার কথায় বুঝতে পারলাম আমার অগোছালো কথাগুলোয় তুমি বেশ মজা নিচ্ছ। কিন্তু কি বলব তখন তোমাকে- আমার বুকের হৃদয়টা যদি তখন তোমার হাতে দিতে পারতাম তখন বুঝতে পারতে কি এক আজনা খুশিতে হৃদয়টি লাফালাফি করছে! তুমি নিজেও একে কন্ট্রোল করতে পারতে না।
আবার অনেকক্ষন চুপচাপ থাকার পর তুমি জিজ্ঞেস করলে- আমার আম্মুর ডায়বেটিস আছে কিনা!
আমিতো অভাক! হঠ্যাৎ এ প্রশ্ন কেন?
-না আমি রুটি বানাতে পারি না তো তাই জিজ্ঞেস করলাম।
তখনো কেউ কাউকে বলিনি আমি তোমাকে ভালোবাসি বা পছন্দ করি!
তোমার কথায় হৃদয়টা নাচিয়ে বললাম নাতো- আম্মুরতো ডায়বেটিস নেই!
- না থাকলেও সমস্যা নেই, আমি শিখে নিব!
বুঝলাম আমি তোমাকে ভালোবাসি কথাটি মুখে বলতে হয় না, এটা সম্পূর্ণ হৃদয়ের ব্যাপার হৃদয় দিয়ে বলতে হয়।
সত্যি বলতে প্রথম দিকের ভালোবাসাগুলো ছিল অনেক সহজ সরল! তখনো রেষ্টুরেন্ট, পার্ক আমাদের প্রেমের জায়গা দখল করতে পারেনি। তুমি রিকসা নিয়ে আসতে ঐ রিকসায় চোরের মত চুপিচুপি বসে সদরে এ’প্রান্ত হতে ও’প্রান্ত এক হয়ে প্রেম করা। রিকসায় ছিল আমাদের রেষ্টুরেন্ট, রিকসায় আমাদের পার্ক। কি দুদার্ন্ত দিন না ছিল সেগুলো। রিকসা থেকে নেমে গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাটা এদিক ওদিক তাঁকিয়ে তোমার তুলতুলে হাতটি ধরে হৃদয়ের ধুকধুকানি বাড়িয়ে তোলা। কেউ আসছে দেখামাত্র হাত ছেড়ে সোজা হাটা যেন কেউ কাউকে চিনি না জানি না।

এভাবে একবছর কাটার পর আমাদের প্রমের জায়গা দখল করে- ইট, মাবর্লে’র রেষ্টুরেন্ট, পার্ক! একবার চাকুরীর ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য ঢাকা গিয়েছিলাম! আসার সময় আমার মোবাইলে চার্জ না থাকায় তোমাকে কল দিতে পারিনি, এমনকি রাতে বাসায় এসে তোমাকে কল না দিয়ে ঘুমিয়ে পড়িছিলাম বলে তুমি সারারাত না ঘুমিয়ে সকাল সকাল রিকসা নিয়ে আমার বাসার সামনে উপস্থিত! কি পাগল না ছিলাম আমরা দু’জন।
সত্যিকরে বলতো ভালোবাসা কি? এর কি কোন ছক বাধা নিয়ম আছে? ভালোবাসার কি কোন গন্ডি আছে? কোন নিদর্ষ্ট পুস্তক? যে পুস্তক সিলেবাস ধরে ধরে প্রথম বর্ষ, দ্বিতয় বর্ষ করে উত্তীর্ণ হতে হবে। তোমাকে বলেছিলাম- আঁদুরী তোমাকে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি! অধিকারের বলে বলেছিলাম তুমি শুধু আমার আর কারো না। কথাগুলো মিথ্যা ছিলনা- আমি তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি আর তুমি শুধু আমার কথাটিও সত্যি! আমি বিশ্বাস করি কথাটি শুধু তোমার দেহে’র জন্য বলিনি! তুমি যখন বলেছিলে আমার সাথে সম্পর্ক আর রাখতে পারবে না বিশ্বাস কর তোমাকে একটু দোষ দিইনি এখনো দিইনা। নিশ্চই আমার ভালোবাসা কোথাও ফিকে হয়ে গিয়েছিলো যা তুমি আর সয্য করতে পারনি বলে সম্পর্কটা পৃথক করলে। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছিল, এখনো করে আমার কোন জায়গাটায় ভালোবাসাটা ফিকে হয়ে গিয়েছিল। প্রথম একটু জোর করেছিলাম একথাটি জানতে, তুমি বলনি আমাকে। ক্ষমা কর আমায় আমিওতো মানুষ! কষ্টগুলো চেপে রাখতে অনেক ক্ষমতার প্রয়োজন! চেপে রাখলাম তোমাকে ভালোবাসি তাই শুধু এটুকু কষ্ট অপরাধটা জানা হলো না।
ও তুমি একটা কথা সব সময় বলতে আমাকে! আচ্ছা বিয়ের পর তোমাকে আমি কি বলে ডাকব! আমি বলেছিলাম তোমাকে- কেন এখন যেমন কলিজা বলে ডাক ওভাবে!
তুমি বললে- না সবার সামনি আমি ওই নামে ডাকতে পারব না।
তখন বলেছিলাম তোমাকে- আচ্ছা ঠিক আছে বিয়ের প্রথম রাতে একটা নাম দিব ওই নামে ডাকবে।
এখনতো তুমি নিশ্চই তোমার পাশাকে কি নামে ডাক জানি না। তবে আমাকে ডাকার জন্য একটি নাম টিক করেরেখেছিলাম মনে মনে! সরাসরিতো আর ডাকবে যদি কখনো ফিকে হয়ে যাওয়া ভালোবাসা মনে পড়ে ঘরের ছাদে দাঁড়িয়ে ওপরে দেখ! দেখবে একটা নীল দিগন্ত তোমায় ছেয়ে আছে ব্যার্থ প্রেমিক হয়ে। যদি মন চায় তুমি তাকে ডেকো- দিগন্ত বলে!

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
  • শামীম খান
    শামীম খান অনেক আবেগে লেখা । ভাল লেগেছে । শুভ কামনা জানবেন । ভোট রইল ।
    প্রত্যুত্তর . ৩ মার্চ, ২০১৫
  • মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্
    মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্ অনেক মজা করে শুরু করা গল্পটা কষ্ট দিযে শেষ হবে বুঝতে পারিনি । খুব ভাল লাগল ।
    প্রত্যুত্তর . ৩ মার্চ, ২০১৫
  • এমএআর শায়েল
    এমএআর শায়েল কিছু বানান, যেমন বিসাল নয়, বিশাল হবে। আবার কৃর্ষি নয়, কৃষি হবে। অভাক নয়, অবাক হবে। বানানের প্রতি খেয়াল রাখবেন। অর্থ বদলে যায়। সব মিলিয়ে ঠিক আছে। ভাইয়া প্রায় দুই বছর পর আবার লিখা শুরু করলাম। দিগন্ত সংখ্যায় আমার লেখা গল্প( আমাকে ভালবাসা পাপ!) পড়ার আমন্ত্রন ...  আরও দেখুন
    প্রত্যুত্তর . ৬ মার্চ, ২০১৫
  • গোবিন্দ বীন
    গোবিন্দ বীন ভাল লাগল,পাতায় আমন্ত্রন রইল।
    প্রত্যুত্তর . ৬ মার্চ, ২০১৫
  • রুহুল  আমীন রাজু
    রুহুল আমীন রাজু বেশ ভালো লাগলো গল্পটি .....বানানের দিকে একটু লক্ষ্য রাখবেন .(আমার পাতায় 'কালো চাদ' গল্পটি পড়ার আমন্ত্রণ রইলো )
    প্রত্যুত্তর . ৭ মার্চ, ২০১৫
  • রবিউল ই রুবেন
    রবিউল ই রুবেন ভালো লাগলো গল্পটি.
    প্রত্যুত্তর . ২১ মার্চ, ২০১৫

advertisement