‘কৃষ্ণ মেঘের চাদর সরিয়েছি দেখ,
ঝলমলে রোদকে গায়ে মেখে
হাসিমুখে তাকিয়ে আছি তোমার পানে।
তবু মুখটি কালো করে রেখেছো কেন অরণ্যদা?’
“মনটা ভাল নেই,আকাশ।
দেখেছি তোমার ঝলমলে উজ্জ্বলতা।
তোমার শুভ্রতাকে কী করে অগ্রাহ্য করি বল?
তোমার আলোর নির্যাস বাঁচিয়ে রেখেছে আমার সজীবতা,
বুক চিরে ঝরে দেওয়া তোমার অঝোর ধারায়
ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে ওঠে আমার ছায়াঘেরা প্রান্তর।
প্রতিদিন আন্দোলিত হই তোমার অকৃপণ বন্ধুতায়।
কিন্তু...আজ,
অসহায় নির্বাক দর্শক আমি এক।
চাপা পড়ে আছি মানুষ নামক কোন এক বিচিত্র প্রাণীর
হিংস্র বণ্য বৈরিতায়।
দলে দলে আমার বুকটাকে উজাড় করে
মেতে উঠেছে সে এক নিষ্ঠুর পৈশাচিক আনন্দে।
তার দুর্বিণীত ঔদ্ধত্যের ডামাডোলে
হারিয়ে গেছে আমার সজীবতার উল্লাস।
শুধু প্রাণপণে টিকিয়ে রাখা
অস্তিত্বের মহিমাটুকু।
দিবানিশি তার ঢেলে দেয়া গরলকে শুষে নিয়ে,
জীবনের অমৃতসুধা সিঞ্চন করি প্রতিনিয়ত।
অথচ আজ, আমারই সমাধিতে বসে
ধারণ করেছে সে,
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব।
রূঢ় পাশবিকতায় চেপে ধরেছে, সবুজ পৃথিবীর
অবিনাশী শক্তি যত।
এ কেমন বৈরিতায় বসবাস,
যার দাবানলের বিষবাষ্পে বিপন্ন এই সভ্যতা?
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে
রুদ্ধশ্বাস প্রহর গোনা।
পৃথিবীর অনিবার্য এই পরিণতি ঠেকাতে
একত্রিত হোক শুভপ্রারম্ভের সকল স্মারক।
আজ সুন্দরের আবাহনে সাড়া দিতে
হে পৃথিবীর বংশধর,
চাইছি তোমার বন্ধুতা.........।।”