এক দুই তিন নেমে এসো... আরো বেশ অনেকটা দূর যেতে হবে। সুমসৃণ মিহি নিষ্কন্টক পথ, তবু পা জড়িয়ে যায় প্রথম প্রথম... উঁহু, ওখানে পা দিও না...কিছু শ্যাওলা জড়িয়ে আছে সিঁড়ির ধাপে, অসাবধানে পিছলে যেতে পারো। ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের গহ্বরে মাকড়সারা সানন্দে জাল বুনেছে, নিশিভূক পতঙ্গরা আস্তানা বেঁধেছে হেথা হোথা খানা খন্দ ফাঁক ফোঁকরে। ধীরে ধীরে নেমে এসো... একেবারে অতলে নামার আগে পথঘাটটা চিনে নাও ভালো করে। দেখতে পাচ্ছো না কিছু? বেশ, হাতটি ধরো আমার...আমি তোমাকে চিনিয়ে দেব নিকষ কালো দেওয়াল, গুপ্ত কুঠুরি, অজানা গোপন সুড়ঙ্গ... খাঁজে খাঁজে লুকিয়ে রাখা কেড়ে আনা বৈভব। হীরে মনি মানিক্যের মতো সাজানো আছে থরে থরে ইচ্ছেমত তুলে নিও যত খুশি তত। অফুরন্ত ভাণ্ডার...আজ অবধি কেউ পারে নাই ফুরোতে। কতজনাই এই অতল গহ্বরে এসে ধনবান হয়েছে, ক্ষমতা আর ত্রাসের যুগলবন্দিতে জাঁকিয়ে বসেছে সুরম্য সিংহাসনে। তাদের সাথে একই কাতারে চাও না দাঁড়াতে? আমি তোমাকে পাইয়ে দিব আলাদীনের চেরাগ, গা ঘষলেই এসে যাবে হুকুমের গোলাম... একচ্ছত্র সাম্রাজ্য লুটিয়ে দেবে পদতলে তোমার। কী বলছো? এতকিছু কীভাবে জানি? আমি তো এখানেই বাস করছি আজ এতগুলো বছর! শুধু আমি কেন, একবার এসেছে যারা... ফিরতে পারেনি কেউই। তুমিও রয়ে যাবে আমাদের সাথে, আমাদেরই একজন হয়ে... ও কী! কোথায় চললে? ফিরে যেতে চাও? লাভ নেই তো! আগেই বলেছি... একবার আসলে আর যে উপায় নেই ফিরে যাওয়ার! ভয় পেও না...অনভ্যাসে ওরকম হয়েই থাকে প্রথমদিকে, ধীরে ধীরে সয়ে যাবে সব। ওজুত নিযুত ধাপ পাড়ি দিয়ে তুমিও পৌঁছে যাবে নিশ্ছিদ্র লক্ষ্যে, কোনো আলোই ছিঁড়তে পারবে না সেই নিশ্ছিদ্রতা। তখন অন্য কাউকে নিয়ে এসো পথ দেখিয়ে, আজকের মতো। সংখ্যা বাড়াতে হবে তো! দুয়ে দুয়ে চার হবো...চারে চারে ষোল... রেখে যাবো অগুনতি উত্তরসূরী। এ সাম্রাজ্য হয়ে উঠবে আরো আকাঙ্ক্ষার, অনেক কামনার ... পাঁচশো পাঁচশো এক পাঁচশো দুই এই তো দিব্যি তরতরিয়ে নেমে আসছো এখন, আমার তবে সময় হলো ফেরার। বাকী পথটুকু তুমিই চিনে নিতে পারবে ঠিকঠাক... স্বাগতম তোমায় অন্ধকারের রাজ্যে!
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।