ওই দূর দিগন্তে চেয়ে বসন্ত বেলা যায়
ক্ষণিকে হারায় মন আকাশ ঠিকানায়।
গোধূলির আবীর মাখা শ্যামল শ্বাদল
জীবন কাননে ফোটে কুসুমের শতদল।

প্রভাতে সোনার রবি যেথা উঠে ফুটে
পাব কি তোমার দেখা যাই যত ছুটে!
যে রঙ-তুলিতে উষায় এঁকেছ আলপনা
সাঁঝের সমীরে ভাসাও তার কিছু কণা।

সেই রঙের আভা হেরি প্রিয়ার কপোলে
তার কিছু মিশে গেছে পলাশ ও শিমুলে!
যেই মাঠ-প্রান্তর জুড়ে আছে ওই পদমূলে
সোনালী শিষের ছটায় নাচে দোলে দুলে।

কিষাণের আঙিনা ‘পরে তালের শাখায়
বাবুই বেঁধেছে বাসা তোমারই আশায়।
শিরীষ-কিঞ্জল কাঁদে সে’ পরশ নিতে
প্রিয়ারে সঁপ’তে মন আজো মাতে গীতে।

আকাশকে প্রণয়ে জড়াতে চেয়েছ কোন সুখে
পড়ে আছো আজো তুমি ব্যথা নিয়ে বুকে!
মিশে আছ দু’জনায়, যত দেখি একাকার
ঘুচবে না কভু জানি; মিলনের হাহাকার।