লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১৬ অক্টোবর ১৯৮৬
গল্প/কবিতা: ২৪টি

সমন্বিত স্কোর

২.৩৫

বিচারক স্কোরঃ ১.৭৫ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ০.৬ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftগল্প - আমার স্বপ্ন (ডিসেম্বর ২০১৬)

আমারও একটা সপ্ন ছিল
আমার স্বপ্ন

সংখ্যা

মোট ভোট প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৩৫

মোস্তফা সোহেল

comment ১০  favorite ০  import_contacts ১,১৫৬
বৃষ্টি এলে আজকাল আর মনে রোমাঞ্চ আসে না।শীত শীত লাগে তাই কাথা গায়ে গন্তব্য ওই বিছানা।
অসময়ের এই বৃষ্টি মনে খারাপ কিম্বা ভাল লাগার কোন অনুভূতিই সৃষ্টি করছে না।
একটা সময়ে এসে প্রত্যেক মানুষেরই ভাল লাগা মন্দ লাগা অনুভূতি গুলো শূন্য এসে ঠেকে।
কার্তিকের এই শেষে দুপুর থেকে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে এই শেষ বিকালে এসেও তার থামবার কোন লক্ষনই নেই।
এখন এক কাপ চা খেতে ইচ্ছে করছে খুব।আসেপাশে কাজের লোকটা নাই,সন্ধ্যা না হতেই হয়তো সিরিয়াল দেখতে বসেছে।
কাথার নিচ থেকে উঠতে ইচ্ছে করছে না।আজকাল খুব এলেমেলো ভাবনায় ভরে থাকে মনটা।একট সময় একা থাকলেই কত সপ্ন দেখতে শুরু করতাম।
এখন আর কোন সপ্নই আসে না মনে।সপ্ন দেখারও একটা বয়স আছে হয়তো।আমার জীবনে দেখা বেশির ভাগ সপ্ন গুলোই অপূর্ণ থেকে গেছে,
তাই বুঝি এই শেষ বয়সে এসে আর কোন সপ্ন দেখতে চাইনা মন।কয়েকদিন ধরে ভাবছি এই এত বড় বাড়িতে আর একা থাকব না।
বৃদ্ধাশ্রমে চলে যাব।ওখানে থাকলে কথা বলার কিছু মানুষ পাওয়া যাবে।এতদিন একমাত্র ছেলে রাফির কথা ভেবে থাকিনি।
কিন্তু ওতো আর কানাডা থেকে আসবে না।রাফিকে আমি কখনও দোষ দেই না।কারন একটা সময় আমি সপ্ন দেখতাম রাফি সবসময় ভাল থাকুক ওর মত করে।

এখন তো রাফি ওর মত করেই ভাল আছে।আমার একটা সপ্নতো পূরন হয়েছে।নিতু মারা গেছে পনের বছর।নিতুর সপ্ন ছিল ছেলে নাতি পুতি নিয়ে এই বাড়িতে আনন্দে দিন কাটাবে।ভাগ্যিস নিতু মরে গেছে নইলে তাকে একটা সপ্ন ভঙ্গের কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে হত।
এই এক জীবনে একটা মানুষকে কত হাজারও সপ্ন ভঙ্গের কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।তবে কিছু সপ্ন ভঙ্গের কথা ভোলা যায় না মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।
আমারও একটা সপ্ন ছিল।সেই সপ্নের হাত ধরে বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম আজীবন।আসলে জীবনের বড় বড় সপ্ন গুলো শুধু সপ্নই থেকে যায়।
তারপরও সপ্ন ভঙ্গের হতাশায় সপ্ন দেখা ছেড়ে দেয় কত জন।
জানতে ইচ্ছে করছে আমার সেই না পুরন হওয়া সপ্নটা।সপ্ন ভঙ্গের কথা বলে মানুষ তার মনটাকে হালকা করতে চাই।
কিন্তু আমি আমার সেই ভঙ্গুর সপ্নটাকে বুকে নিয়ে বাঁচতে চাই।তাই বলছি না আমার ভঙ্গ হওয়া সেই সপ্নের কথা।

এই শেষ বয়সে এসে ও এখন একটা সপ্নই দেখছি, সুস্থ থাকতে থাকতেই যেন মরতে পারি।
শেষ সময়ে এসে প্রত্যেক মানুষের সপ্ন এই একই রেখায় এসে মিলে যায়।মরনটা যেন সহি সালামতে হয়।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement