লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ৪ আগস্ট ১৯৯০
গল্প/কবিতা: ৭টি

সমন্বিত স্কোর

২.৯

বিচারক স্কোরঃ ১.৪ / ৭.০
পাঠক স্কোরঃ ১.৫ / ৩.০

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftদিগন্ত (মার্চ ২০১৫)

অনঘ অনুরণ
দিগন্ত

সংখ্যা

মোট ভোট ৩০ প্রাপ্ত পয়েন্ট ২.৯

সৃজন শারফিনুল

comment ২৯  favorite ২  import_contacts ১,৭২৯
এক.
-কিরে চুপ করে আছিস কেন?
-হুম কই নাতো।আমি ঠিক করেছি এখন থেকে এরকম গম্ভীর থাকবো।
-কি! তুই চুপচাপ আর গম্ভীর থাকবি?এটা হলেতো আমি বেঁচেই যেতাম।দেখি হাঁ কর?
-কেন হাঁ করবো কেন?
-তুই আবার পান খেয়েছিস।ইস তোকে নিয়ে আর পারলাম না।এতো করে বলি না কোনদিনও কথা শুনবিনা।
-শোন পান খেলে না একটা মুরুব্বী মুরুব্বী ভাব আসে।এইযে দেখ আমার ঠোঁটটা কি সুন্দর লাল হয়ে আছে।
আর আমি কি নিয়মিত খাই নাকি।আচ্ছা যা আর খাব না।এদিকে আয় এইযে এখানে বোস।
-কি যেন তোর খুব গুরুত্বপুর্ন কথা বলবি এখন বল
-জানিস তনু,আজ ঘুম থেকে উঠে একটা বিশেষ ব্যাপার লক্ষ করলাম।আমার বারান্দার পাশে যে মেহগনি গাছটা আছে না তার একটি ডালে একটা সাদা পাখি বসেছিল।কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম ওমা আরে এটাতো একটা কাক কিন্তু সাদা কাঁক খুব আবাক হলাম বুঝলি।ঢাকা শহরেতো ইদানিং কাকদের দেখা পাওয়াটা দুষ্কর একটা ব্যাপার।আর আমি পেলাম তো পেলাম তাও আবার সাদা কাক।
-তনুর চোখে বিস্ময়!এটা বুঝি তোর খুব গুরুত্বপুর্ন কথা?
-ওমা তোর কাছে এটা কোন বিস্ময়কর ব্যাপার মনে হোল না।শোন আধুনিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে,কাক হল পাখি জগতের সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান পাখি, শুধু তাই নয়, প্রাণীজগতের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে কাক অন্যতম।
কিন্তু ঐ সাদা কাকটা ডাকেনি কেন বুঝলাম না?একমনে চুপচাপ বসেছিল,খুব জ্ঞানী জ্ঞানী একটা ভাব।সাদা কাক কি কালো কাকদের থেকে বেশি বুদ্ধিমাম?আচ্ছা সাদা কাকের বৈজ্ঞানিক নাম কি জানিস?
-উফফ না!আর শোন তোর আর কোন অতীব জরুরী কথা থাকলে বল আমার আরো একটা প্র্যাকটিকেল ক্লাস বাকি আছে।
-অনেক দিন ধরে তোকে একটা কথা বলবো বলবো বলে ভাবছি।কিন্তু বলতে ভয়ও লাগে তুই যদি আবার
খামোখা রাগ করিস।
-ওরে বাবা এত ঢং করা লাগবে না।আমি রাগ করবো না। কি বলবি বলে ফেল।
-অভয় দিচ্ছিস?
-হুম তাড়াতাড়ি বল।
-আচ্ছা তুই কি ভাত খাওরার সময় একটু বড় বড় লোকমা দিয়ে খেতে পারিস না।নিজের দিকে একবার দেখেছিস
কেমন শুটকু-পুটকু।আর কইদিন পড়েতো তরে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা লাগবে ।তা না হলে তো এক্কেবারে বাতাসে উঁড়ে যাবি ।এক নিঃশ্বাসে বলে ফেললাম।
-কি!এতবড় কথা!আ.আ..আমি শুটকু-পুটকু!!আর তুই কি তুই তো একটা আটার বস্তা!না না একটা মস্ত বড় আটার বস্তা!!! খবরদার তুই আমার সাথে একদম কথা বলবি না।
-হা হা হা হা... এই তনু আরে শোন আমি তো মজা করছিলাম।দাড়া...হা হা হা।
শোন আমি এখানেই আছি ক্লাস শেষ করে চলে আসিস একসাথে যাবো।
------------------

দুই.
তনু আমার সবচে কাছের বন্ধু মা বাবার পরে আমার একমাত্র বিজ্ঞ গুনিজন।আমরা দুজনে একি ভার্সিটিতে পড়ি।প্রথম যেদিন ওর দেখা হয়েছিল সেটাও ছিলো একটা বিশেষ দুর্ঘটনা।আমি কিছু পাওডার রঙ,বই ও কিছু জিনিস পত্র নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলাম হঠাৎ সামনে থেকে হুমড়ি খেয়ে একটা মেয়ে আমার উপর পড়লো,সাদা পাওডার দিয়ে আমার মুখ মাখামাখি,আমি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।অবাক হয়ে শুধু বললাম
-এটা কি হোল.!?
-সরি সরি সরি..আমি দুঃখিত।
-আশ্চর্য দুঃখিত মানে, আপনি দেখে-শুনে পথ চলবেন না? দেখুন কি করছেন চেহারাটার।
-বিশ্বাস করুন আমি ইচ্ছে করে করিনি।এইযে দেখুন আমার জুতার হিলটা ছুটে গেছে।এইযে নিন এই রুমালটা দিয়ে মুখটা মুছে নিন।
-বুঝতে পারলাম সে আসলেই খুব লজ্জিত।দেখি আপনার বাকি জুতাটা দিনতো আমি কোন কিছু না বলে ওটার হিলটাও ভেঙ্গে দিলাম।
-আরে আরে কি করলেন!
-কিছুই করিনি,আমি মুখ মুছতে মুছতে বললাম-
শুনুন প্রথমত,আপনি যথেষ্ট লম্বা আর তাই আপনার হিল জুতা পরার কোন দরকার নেই।দ্বিতীয়ত আপনিতো আর হিমু না যে এখন খালি পায়ে হাঁটবেন।আর এক পায়ে হিল থাকবে আরেক পায়ে থাকবেনা এটাও বেমানান।
নিন এবার জুতাজোড়া পরে নিন।ওহ আমি তাফসির হাসান তপু, চারুকলায় পড়ছি ।আপনি?
-আমি তনিমা তনু ফিজিক্সে পড়ছি।অনেক ধন্যবাদ এখন বোঝায় যাচ্ছে না যে এই জুতাজোড়া তে কোন হিল ছিল।
-আপনার রুমালটা এখন নিয়ে গেলাম যদি কোনদিন দেখা হয় তাহলে ফেরত দিয়ে দিব।
মিষ্টি হাসি দিয়ে তনু চলে গেল।এরপর থেকে নিয়মিত ওর সাথে দেখা হতো কথা হতো।এভাবে কেটে গেল অনেকগুলো দিন।
--------------------

তিন.
রাতে ফোন দিলাম তনুকে একবার রিং হোল ধরলো না।দ্বিতীয়বার রিং হতেই রিসিভ করলো ওপাশ থেকে কোন সাড়াশব্দ নেই..কিরে এখনো রাগ করে আছিস?এই তনু আরে আমিতো মজা করে বলেছিলাম আর তুইতো জানিস আমি এরকম।আচ্ছাযা আর বলবো না সরি এবার খুশি।
-হুম হইসে আর সরি বলতে হবে না।আচ্ছা শোন আজকে কি বার বলতো?
-বৃহস্পতিবার কেন?
-আঙ্কেলকে যে এই শুক্রবার ডাক্তার দেখানোর কথা এটা কি তোর মনে আছে?
-আচ্ছা তুই এতো এতোঅ..ভাল কেন?আমিতো ভুলেই গেছিলাম।
-তুইতো একটা হাঁদারাম।তুই না ভুললে কে ভুলবে..?শোন আমি সকাল সকাল চলে আসবো তুই প্লিজ ঠিক সময়ে ঘুম থেকে উঠিস।
-ওকে ম্যাডাম।
তনু সত্যি অসাধারণ না না ভুল বললাম অনন্য অসাধারণ একটা মেয়ে।একটা মেয়ের মধ্যে আল্লা এত গুন দিয়া কেমনে পাঠাইলো মাঝে মাঝে চিন্তা করে খুব অবাক হই।
খাওয়া দাওয়া করে মা বাবার সাথে অনেক গল্প করলাম।ঘুমাতে যাব এমন সময় কি মনে করে বারান্দায় গেলাম।
বাহ আজকে তো চমৎকার জ্যোৎস্না পরেছে চারিদিক কি সুন্দর আলোকিত, অপূর্ব সুন্দর মন উজাড় করা সাদা ধব ধবে জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে ঘর।হঠাৎ রবীন্দ্রনাথের এই গানটির কথা খুব মনে পরছে--


আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে।।

যাব না গো যাব না যে,
রইনু পড়ে ঘরের মাঝে
এই নিরালায় রব আপন কোণে।
যাব না এই মাতাল সমীরণে।।

আমার এ ঘর বহু যতন ক’রে
ধুতে হবে মুছতে হবে মোরে।
আমারে যে জাগতে হবে,
কী জানি সে আসবে কবে

যদি আমায় পড়ে তাহার মনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে।।

সুখের আবেশে আবেশিত আমি কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম বুঝতেই পারিনি।পরদিন যথা সময়ে বাবাকে ডাক্তার দেখানো হল কিছু চেক-আপ,টেস্ট করানো হল।বাবা আগের থেকে এখন অনেকটাই সুস্থ।
--------------------

চার.
১ ফাল্গুন ১৪১৯ জীবনের খুব গুরুত্বপুর্ন দিনগুলোর মধ্যে আজ একটা দিন।আমার মনটা অসম্ভব রকমের ভাল বসে বসে বই পরছিলাম এমন সময় মা আসলো।মার শুধুই একটা কথা আমি কবে বিয়ে করবো।হাঁসি মুখে অনেক কথাই বলল তারপর যা বলার সেটা বলল...
-শোন তপু,তনুর মত মেয়ে কিন্তু তুই সারা জীবনে আর একটাও পাবিনা এই আমি বলে দিলাম।
-উফফ মা তনু আমার খুব ভাল বন্ধু,.এর বেশি আর কিছু না।আর তাছাড়া অন্য কিছু থাকলে আমি ঠিক বুঝতে পারতাম।
-যেদিন বুঝতে পারবি সেদিন পাগলের মত ছুটবি।আয় নাস্তা করবি তোর বাবা বসে আছে।আর শোন আগামী সাপ্তাহে নাকি ওর পড়াশুনা শেষ।বাড়ি চলে যাবে বলল।

মার কথাগুলো কেমন যেন মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো।দেখতে দেখতে দিনগুলো কিভাবে কেটে গেল বুঝতেই পারলাম না।কিছুদিন পর আমি চাকরিতে ঢুকি আর পাশাপাশি বাবার ব্যাবসার দায়িত্ব নিলাম।বাবা মা দুজনেই বেজায় খুশি। আর তনুতো খুশির ওপর ডাবল খুশি।মার কথামত আমরা সবাই একসাথে রাতে খেলাম।রাতে তনুকে তার মামার বাসায় পৌঁছে দিলাম।

১১ ফাল্গুন তনু গ্রামের বাড়ি চলে যাবে এই ব্যাপারটা সহজে মানতে পারছিলাম না আমি ওকে বাসের টিকিট করে দিলাম যাবার আগে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আমি ওর সাথেই ছিলাম।আমি দিকভ্রান্তের মন এদিক সেদিক তাকাচ্ছিলাম আর
ও কি যেন সব বলে যাচ্ছিল....
-শোন এবার সুন্দর দেখে কিউট দেখে একটা মেয়েকে বিয়ে করে ফেল।তাহলে আমি এই হাঁদারামের কাছ থেকে মুক্তি পাব।আঙ্কেল-আন্টির খেয়াল রাখিস।আমার জন্য চিন্তা করিস না আমি ভাল থাকবো।আর শোন নিজের খেয়াল রাখিস খাওয়া দাওয়া ঠিক সময়ে করিস।আমি হয়তো আর আসতে পারবো না কিন্তু তাতে কি তোর যখন মন চাইবে চলে আসবি।ঠিকানাটা মনে আছে তো??
-হুম..
-ওমা তুই কাঁদছিস কেন?এই হাঁদারাম এখন কি কান্নার সময় নাকি?হাসিমুখে আমায় বিদায় দে নইলে আমিও কেঁদে ফেলবো।
কেন জানি না কোন এক মায়ার টানে আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম।কিছুতেই চোখের জ্বল থামিয়ে রাখতে পারছিলাম না।শুধু বললাম-তনু তোর না গেলে হয় না।
-বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে তার পরেও বলি আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে।যথা সময়ে খবর পাবি।আমি তোর জন্য অপেক্ষা করবো। আমি জানি তুই আসবি,তকে আসতেই হবে।
কথাগুলো বলে সে আর আমার দিকে তাকাতে পারল না।ওর চোখে এই প্রথম জ্বল দেখলাম একেবারে স্বচ্ছ,সাদা নোনা জ্বল।বাস ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু আমি নিশ্ছুপ দারিয়ে ছিলাম,চোখের জ্বলে বাসটাকে ঝাপসা দেখছিলাম তনু আর একবারও আমার দিকে তাকায় নি।
এ যেন জনম থেকে জন্মান্তরের দুরুত্ব আমি অনুভব করছিলাম আমি অনেক মূল্যবান কিছু একটা হারিয়ে ফেলছি।
তনুর দেয়া রুমালটা পকেট থেকে বের করলাম।এই রুমালটা ওকে দেব দেব বলে আজো দেয়া হইনি।সাদা রুমাল দিয়ে চোখের কান্না মুছলাম কিন্তু মনের কান্না কি দিয়ে মুছবো ভেবে পাচ্ছি না।
--------------------

পাঁচ.
রাত বারোটা বেজে এক মিনিট এমন সময় তনুর ফোন আসলো ওপাশ থেকে তনুর গলা-'শুভ জন্মদিন হাঁদারাম'।
আমি সত্যি মনে হল আকাশ থেকে পরলাম আজকে আমার জন্মদিন আর আমি নিজেই জানিনা।আর জানবোই বা কিভাবে ওর চিন্তায় তো আমি এই কয়েক দিন দুনিয়ার সব ভুলে গেছি।
-উইশ করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।তনু কেমন আছিস তুই?আচ্ছা আমার কথা কি তোর মনে পরে না?তকে খুব দেখতে ইচ্ছা করে।আমার না কিচ্ছু ভালো লাগে না।তনু অনেকক্ষণ চুপ থাকে।কোন সাড়া শব্দ নেই।কিরে কথা বলছিস না কেন?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে তনু বলল-আঙ্কেল-আন্টি কেমন আছে রে?
-ভাল,তুই কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর দিসনি?
-সময় হলে দিব।আচ্ছি তুই সেদিন আমায় ওভাবে জড়িয়ে ধরেছিলি কেন?
-সময় হলে দিব।ওপাশ থেকে ওর হাসির শব্দ শুনতে পেলাম ।রিনি-ছন্দে হেসে যাচ্ছে তনু।

ওর শ্যামলা মুখের গেঁজো দাঁতের হাঁসিটা বার বার মনে পড়ছে।যতই দিন যাচ্ছিল ততই ওর প্রতি দুর্বলতা শুধুই বাড়ছিল।তনু তোর ঐ দীর্ঘশ্বাসের উত্তর তুই দিস না দিস,আমি ঠিকি বুঝতে পেরেছি।কিন্তু এখন এটা ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছে যে এতদিন কত কাছে ছিলি কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও বুঝতে পারিনি তুই আমাকে এতোটা ভালবাসিস আর আজ তুই কাছে নেই এখন হারে হারে টের পাচ্ছি ভালবাসা কি জিনিস।তোর এই হাঁদারামটা যে তোকে প্রচণ্ড ভালবাসে ফেলেছে।
--------------------

ছয়.
শ্রাবণের শেষ সকাল,ঝকঝকে রোদ।পাকশি রেলওয়ে স্টেশন।অনেক ঝামেলার পর শেষমেশ পৌঁছালাম।স্টেশনে এসে ভ্রু কুঁচকে গেল মনে হল, ঘড়ির কাঁটা ঘুরে সেই ব্রিটিশ আমলে চলে আসলাম ।বাহ অসাধারণ লাগছে একটা অন্য রকম ভালোলাগার আবেশে মাতাল হয়ে যাচ্ছিলাম।হালকা ঠাণ্ডা অনুভব করছিলাম সব মিলিয়ে নিদারুণ এক উত্তেজনা কাজ করছিল।আর মাত্র দুই ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের রাস্তা তারপর তনুদের বাড়ি।উফফ কিজে ভাল লাগছে।মা আসলেই ঠিক বলেছে তাইতো এখন পাগলের মত ছুটছি।
সিএনজি নিয়ে এখান থেকে সোজা সাথিয়া তারপর মিনিট দুইয়েকের পথ তারপর তনুদের বাড়ি।তনুর বাবা অসাধারণ একজন ব্যাক্তি এখানকার কোন এক স্কুলের হেড টিচার।আমার সাথে অনেকবার কথা হয়েছিল।ভীষণ মজার একজন মানুষ খুব সহজে মানুষকে আপন করে নিতে পারেন।
যখন বাসার সামনে এসে পৌঁছালাম তখন একটু ভয় লাগছিল।চারিদিকে অদ্ভুত নীরবতা।

হঠাৎ দরজা খুলে প্রছন্ড দ্রুত দৌড়াতে গিয়ে একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেলাম,আর কেউ না এযে আমার তনু!এক দৃষ্টিতে অপলক ও আমার দিকে তাকিয়ে ছিল,কেন জানিনা হাজার বছর ধরে না দেখা তার সেই স্নিগ্ধ শীতল চোখ থেকে আমিও দৃষ্টি ফেরাতে পারছিলাম না, এক মুহুর্তের জন্যও না।

-তুই এসেছিস?!তুই.ই.ইই সত্যিই এসেছিস!!
-হ্যাঁরে এইযে দেখ আমি এসে পরেছি।
-তুই জানিস না আমি এই দিনটার জন্য কতদিন অপেক্ষা করেছিলাম।আজ আমি পৃথিবীর সবচে সুখি মানুষ।
যেই বাবুটা তনুকে পিছন থেকে তাড়া করেছিল ও আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল-"তুমি বুঝি তপু"
-হা হা হা হুম আমিই তপু।ওকে কলে তুলে নিলাম ।এই লক্ষি বাবুটা কে রে?
-আমার বড় আপুর মেয়ে জুঁই।
-'জুঁই' বাহ চমৎকার নাম।
কিরে তোরাকি বাইরে দারিয়েই কথা বলবি নাকি ভিতরে আসবি তনুর বাবার কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো।আমার এক মুহুর্তের জন্য মনে হচ্ছিল না যে আমি এখানে নতুন।দুপুরে সবাই একসাথে খেলাম আমার পছন্দের সব খাবার রান্না করা হল।সবাই মিলে এত বেশি পরিমাণে খাওয়ালো যে এখন অবস্থা বেশ খারাপ।
--------------------

সাত.
তনুদের বাড়ির পুকুরটা অনেক বড়।পকুরটায় অনেক লাল শাপলা ফোটেছে।আমরা দুজন পুকুর পারে চুপ-চাপ
বসেছিলাম।নীরবতা ভাঙলাম আমি।তনু তোর সাথে আমার কিছু অতি জরুরী কথা আছে।
-শোন কাকের বৈজ্ঞানিক নাম হল Corvus splendens সাদা কাকের বৈজ্ঞানিক নাম খুঁজে পাইনি আচ্ছা White Corvus splendens দিলে কেমন হয় ?
- হা হা হা আরে না এটা না
-ও আচ্ছা এটা না তাহলে...
-ত..তনু ইয়ে মানে তুই কি আমায় ইয়ে করবি?
-হা হা হা!তুই সত্যি একটা হাঁদারাম।আগেতো প্রপোস কর তারপর...
-ও আচ্ছা.. আচ্ছা!!হুম মা.মা.মানে ব্যাপারটা তো তুই বুঝতেই পারছিস।
আমি আ.আ.
-হা হা হা হা..উউফ..
-একদম হাসবিনা আমি কিন্তু খুব সিরিয়াস।
এরপর দুজন কিছুক্ষণ চুপ ছিলাম তারপর দুজনেই একসাথে হেসে উঠলাম...


একটুপর হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু হল।লাল শাপলা ফুলগুলোর পাপড়িগুলোর মধ্যে বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির জ্বলে আরো স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছিল।তনুর মুখটা কেমন যেন হয়ে গেল ও কি কাঁদছে নাকি আনন্দে চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে বৃষ্টির জন্য সেটা বুঝতে পারছিলাম না। আমাকে অবাক করে তনু গান গাইতে শুরু করলো--

আমার সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ,
বৃষ্টি– তোমাকে দিলাম
শুধু শ্রাবণ সন্ধ্যাটুকু তোমার কাছে চেয়ে নিলাম।
................................
তোমার হাতেই হোক রাত্রি রচনা
এ আমার স্বপ্ন সুখের ভাবনা
চেয়েছি পেতে যাকে, চাইনা হারাতে তাকে
বৃষ্টি তোমাকে তাই ফিরে চাইলাম।


বৃষ্টি প্রায় শেষ কিন্তু চারিদিকের পরিবেশ আরো শান্ত আর নিশ্চুপ নীরব করে রেখে গেল।ভেজা পাতা থকে টুপ টুপ করে বৃষ্টিরেণু চুইয়ে পড়ছিল।দূর আকাশে মিট মিট করে উকি দিচ্ছে সন্ধ্যা তাঁরা।দিগন্তের শেষ প্রান্ত থেকে ভেসে আসা হিমেল বাতাসের মৃদু ছন্দে হারিয়ে যাচ্ছে দুটি হ্নদয় আর তনু-মন।এই নিশ্চুপ নীরবতাকে আলিঙ্গন করে সৃষ্টি হোক অনঘ ভালবাসার এক নিবিড় অনুরণ।

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement