ঘাসফড়িঙটা তখনো অঘোরে ঘুমোচ্ছে
মনুষ্যরুপী জীনটাও - ভাবছে ল্যাম্পপোষ্টের আঁধারে
জলের তেষ্টায় বুকে হাত দিয়ে দেখি, উথাল-পাথাল হাওয়ায় মশারিটা বেসামাল
জোছনার সাথে চলছে সেটার নির্লজ্জ ঢলাঢলি... যৌনাচার

বুড়ো দেয়ালঘড়িটার আর কাজে কামে মন নেই
কাঁদো কাঁদো চোখে সেটি প্রায়ঃশ এদিকে তাকায়,
ঢুলু ঢুলু চোখে আমি হাই তুলি, ভান করি অন্যমনস্কতার
চালের দাম আবার বেড়েছে, বাড়িভাড়াটাও আবার হয়তো ...

বারান্দাটার ও সুদিন গেছে বহুদিন হল
মাঝে মাঝে তাতে চোরেরা হানা দেয়, উঁকি মারে
দেখে আমি হাসি, অন্ধকারে মড়ার মত পড়ে থাকি
এর চাইতে বরং পার্কের বেঞ্চিটা কাট, খরচটা উঠে আসবে অন্ততঃ …

গির্জার ঘণ্টাটা বাজতেই হোঁচট খেল রক্তচক্ষু রানার
বুকে ধুকপুক, শক্তিও প্রায় নিঃশেষ,
তস্করের দল পিছু নিয়েছে বোঝা যাচ্ছে বেশ-
নর্দমার বিষহীন সাপটা লেজ নাড়ায়- “পালান ওস্তাদ ...
বেহুদাই বাপের দেয়া প্রাণটা খোয়াবেন নাকি!”
প্রৌঢ় রানারের চোখে অশ্রুরা টলমল –

সবই তো গেছে গোল্লায়, চোরেরা আজ সর্বভুক
পাঁজরখানাও খাচ্ছে খাক- স্বপ্নটাতো থাকুক!

ঘাসফড়িঙটা একটু পরেই জেগে উঠবে, আর তখনই জানি-
বড়রাস্তায় হুটোপুটি বেঁধে যাবে
পশ্চিমের পাহাড়টা অনেক আগেই আড়াল হয়ে গেছে,
মনের ভুলে তবুও সেদিকে ফিরে তাকাই
মাইজপাড়াতেও শুনেছি- আজকাল ভীষণ গোলমাল চলছে

ঘাসফড়িঙটার কোন পাত্তা নেই, তার বদলে এল ফুলচোর
এলো চুল, শিশিরে মাখা নগ্ন পা
সূর্যমুখীর ঘাড়টা মট করে ভাঙ্গতেই মুখোমুখি হয়ে গেলাম আমরা
লজ্জাবনত ফুলচোরের হাতের ফুলগুলো ঝরে পড়তেই,
শুনি যুদ্ধবিমানটা বেড়িয়ে পড়েছে ...

সবই তো পুড়েছে অনলে, পুড়েছে এসিডে মুখ
স্বপ্নরা সব যাচ্ছে যাক- সকালটাতো বাঁচুক!