চাঁদ ভরা রাতে ঘুমিয়েছি একা খোলা জানালার পাশে—
চোখ জুড়ে ঘুম চলে এল রজনীগন্ধার সুবাসে।
শীতের কুয়াশা কাফন ঠেলে জোনাকিরা জ্বেলেছিল আলো-
চারদিক অপূর্ব সুন্দর লাগছিল বেজায় ভালো।
উত্তরের কক্ষে থাকত বাব আর মা—
দক্ষিণে আমি তার পাশে পল্টু মামা।
রাত প্রায় ১২ টাক বাজে-
হঠাৎই ঘুমের ঘোরে দেখি
কে যেন বসে আছে আমার কাছে।
অজানা এক ভয় মিশ্রিত কন্ঠে
সাহস করে জিজ্ঞাস করলাম,
কে তুমি এখানে এত রাতে?
কিছুক্ষণ চুপ থেকে
বিশাল লম্বা দাঁতের হাসি দিয়ে
বলল- আমি ভূতের রাজা সোমনাথ-
তোমার সাথে কাটাতে এসেছি আজ রাত ।।
ভয়ে ঠক্ ঠক্ করে কাঁপছিল আমার বত্রিশ দাঁত,
এমন সময় কে যেন আমার বুকে বাড়িয়ে দিল
এক বিশাল লম্বা জমকালো হাত।।
আমার দম ফেলতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল-
মনে হচ্ছিল বুকের ওপর চেপেছিল এক ভারী পাথর,
কষ্টে ভয়ে হয়েছিলাম আমি বেশ কাতর।।
হঠাৎ করেই জানালার বাইরে থেকে একযোগে
ভেসে আসছিল হাজার কন্ঠে অট্টহাসির শব্দ-
তাশুনে আমি হয়ে গেলাম আরও বরফ শীতল স্তব্ধ।
পাশের কক্ষে পল্টু মামা তখনও নাক ডাকছিল
গভীর ঘুমের ঘোরে-
শত চেষ্টা করেও চিৎকার
করতে পারছিলাম না জোরে।।
হঠাৎ আমার কাতরান শব্দে ঘুম ভাঙ্গল পল্টু মামার-
পাশের কক্ষে শুয়ে থেকেই জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে আমার?
সোমনাথ তার ভয়াল দাতের অট্টহাসি দিয়ে বলল এবার আসি—
রাতটা থাকতে পারলে, তোর গলায় পরাতাম ফাঁসি।।
এতক্ষণে মামা চলে এসেছে আমার এপাশে—
বলল—এতরাতে কে এসেছিল তোর কাছে?
মামা কে খুলে বললাম যা যা হয়েছে চারপাশে,
সবশুনে ভয়জড়িত কন্ঠে মাম বলল—
ঘুমো এখন আমি আছি তোর কাছে।।
একযুগ পার হয়েছে গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছি—
এখনও ভুলতে পারিনি সে ভূতের হাসি,
হঠাৎ করে প্রায়শঃই গভীর রাতে জেগে উঠি—
ঘুমের ঘোরে শুনে সেই অট্টহাসি।।