গায়ে হলুদ উৎসব, লোকজনে ভরে গেছে পুরো বাড়ি। অসম্ভব ভাগ্যবান অপু, অবশ্যনিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে পারার মাঝে কোন ভুল আছে বলে অপু এখন ভাবছে না।
লটারীর টিকেট কেটে কাউকে যেমন হঠাৎ বড়লোক হতে কাউকে এখনো দেখেনি অপু; ঠিক তেমনি টাকা পেয়ে কেউ উৎসব করেছে তেমনটাও খুব চোখে পড়ে না!
তবে লটারীরটিকিট বিক্রি থেমে নেই, চক্রবৃদ্ধিহার বজায় রেখে চলেদিনের পর দিন।
লজিক বিহীন কোন কিছু নাকি নেই!সবসময় লজিক দিয়ে জীবন চলে না, আনলজিক কিছু না থাকলে জীবনে টুইষ্ট আসে না।
আজ অপুর জীবনে তেমন একটা দিন। আজ সব লজিকের অপমৃত্যু হয়েছে।
আর্থিকভাবে মোটেই দরিদ্র নয় অপুর পরিবার, তবুও আজকালকার জমানায়পাত্রের আর্থিক বিষয়ের কতখানি গুরুত্ত্ব সে নতুন করে বলে দেবার কিছু নেই, চোখের নিমেষে গাড়ী-বাড়ি করে ফেলার মত তো দূরের কথা!নিজেকে ঠেলে নেবারজন্য খরচ নেই অপুর পকেটে। পকেটে টাকা নেই অথচ রাজকন্যার সাথে প্রেম করেছে।
আজ সেই সব বাস্তব হচ্ছে ! ভাবতে গিয়ে কোন উত্তর পাচ্ছে না অপু।
লোকে লোকারণ্য আজ অপু-নীলার হলুদ উৎসব। এখানে ওখানে অতিথি, আত্বীসজন কত হাসাহাসি কথা!বাচ্চাদের ছুটোছুটি!
(কি দুলাভাই? এত কি ভাবেন! কান ধরে টেনে গেল অপুর হবু শ্যালিকা)
ভাবনার দড়ি ছেঁড়া গেল.....
গত মাসের কথা, একটা ইন্টারভিউ দেবার কথা ছিল, নানা ধরনের চাপ, বাবার অসুস্থতা! চাকরী!নীলা!
আসলে সবকিছু নিয়ে একদম হাফিয়ে উঠেছিল অপু, কি করবে কোথায় যাবে! কোন কিছু মাথায় আসছিল না।
নীলার বিয়ে, পাত্রপক্ষ!
মাঝ থেকে এক বন্ধুর পরামর্শ! "এভাবে বসে থেকে কি হবে, কিছু একটা কর!, কোন ব্যাবসা শুরু কর। কোথায়, কখন আর কিভাবে জব পাবি? তাতে সময় লাগবে! ছোটকিছু একটা স্টার্ট কর, দেন কি হয় "
হু, দেন?
ব্যাবসার কথা বলেই খালাস আমার বন্ধু, মুখে মুখে অনেক কিছুই বলা যায়, চাঁদে বাড়ি, মিলিয়ন ডলার!
ব্যাবসা করার জন্য আমার টাকা কোথায়? ব্যাবসায় অভিজ্ঞতা কি? কি ব্যাবসা করব?
মাথা চক্কর দিচ্ছে আমার। এদিকে আমার পরিবারে আমায় নিয়ে বিশাল আকাংখা, সংসারের হাল আমার উপর! চিন্তার নাভিশ্বাস উঠে গেছে আমার।
সেদিন ইন্টারভিউ ছিল...
কোন রকমে একটা সিএনজি ধরে মহাখালী তে এসে জ্যামে আটকে গেলাম, দরদর করেঘাম ঝরছে আমার গা বেয়ে, সিএনজির লুকিং গ্লাসে আমার চেহারা একবার দেখতেচেষ্টা করলাম, ভ্যাপসা গরমে অস্থির লাগছে, চশমা বারবার মুছতে হচ্ছে, বাষ্পজমে বারবার চশমার গ্লাস ঘোলা করে দিচ্ছে।
'স্যার কি অফিসে যাইবেন? '(সামনে থেকে সিএনজি ওয়ালা)
মুখ দিয়ে গম্ভীর একটা আওয়াজ তুলে বললাম, 'হু '
-তাইলে স্যার সামনে গিয়া আরেকটা সিএনজি ধরেন এই জ্যাম ছুটতে দেরী আছে।
লোকটা খারাপ বলে নাই, তারাতারি সিএনজি থেকে নেমে লোকটার ভাড়া দেব বলে পকেটে হাত দিয়েছি, দেখি ম্যানিব্যাগ নেই!
এখন কি হবে?
সিএনজি ওয়ালা আমাকে বললেন 'কি সমস্যা স্যার? টাকা নাই?'
আমি বললাম, 'না ছিল, মানে ম্যানিব্যাগ মনে হচ্ছে চুরি হয়ে গেছে। '
সিএনজি ওয়ালা আমাকে অবাক করে তার ফোন নম্বর দিয়ে বললেন,'আমার বিকাশ করাআছে, আপনি আমার নম্বরে টাকা পরে মনে কইরা পাঠাই দিয়েন। আমি গরীব মানুষ। তয়আপ্নারে দেইখা ভাল লোক মনে হইতাছে তাই দিলাম! '
সিএনজি ওয়ালার মহানুভবতায় অবাক না হয়ে পারলাম না! বিশ্বাস আসলেই অনেক বড় বিষয়।
ভীর ঠেলে অফিসে গিয়ে বসতে না বসতেই ইন্টারভিউ দেবার ডাক এলো।
যা ভিউ দিলাম তাতে ভাবিনি বোর্ডের সবাই খুশী হবেন।
তবে তারা যে নাখোশ হননি সেটা বুঝলাম সপ্তাহ খানেক পর যখন সকাল বেলায় আমার নামে জয়েন লেটার এল।
পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষের কাতারে সেদিন কারচুপি করে হলেও আমার অবস্থান প্রথমে রেখে দিতাম।
সেই সিএনজি ওয়ালাকে ধন্যবাদ, লোকটার টাকা দিয়েছি, ফোন করে কৃতজ্ঞতাজানিয়েছি, তিনি আমাকে টাকার জন্য আটকে রাখলে হয়ত আজ আমার চাকরী তো দূর, নীলাকেও পাওয়া হত না।
নে নে দুলাভাইকে হলুদ দে! (মুঠো মুঠোহলুদ যে যেভাবে পেল দিয়ে গেল আমায়)
আমার সাদা পাঞ্জাবী হলুদ হলুদে একাকার! এর চেয়ে বড় লটারী আর কি হতে পারে?
০৮ অক্টোবর - ২০১৪
গল্প/কবিতা:
১০ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
আগামী সংখ্যার বিষয়
লেখা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৫ মার্চ,২০২৬