অতঃপর চতুর বিদেশী জোঁক
বুঝে শুনে রায় দিল, ‘মাঝখানে দেয়াল তুলে —
পূব-পশ্চিমে ভাগাভাগি হোক’।

দেয়ালের বদলে উঠল কাঁটাতার,
ইটের চেয়ে কাঁটাতার সাশ্রয়ী — কে না জানে?
তাই আলাদা তন্ত্র হলো, গ্রন্থ হলো পাঠ,
আলাদা হবার ধুম— মুখর দিন রাত,
হাজার বছর মুছে এক দিন হৃদয়ে করাত।


রাজনীতি না বুঝেই
দু’পাশের লোকগুলো অগণন দীর্ঘশ্বাস ওড়াল হাওয়ায়;
দু’পাশের জলাধারে কান্নার জল জমে গেলে —
দু’টুকরো নোনা জমি মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে যায়।


শোন্ বোকা মেয়ে,
ভূগোলের পড়াশুনো এক-আধটু শেখা চাই।
জন্ম-মৃত্যু-ঘোরাফেরা এসবের স্বাধীনতা তোর
ছিল না কোনো দিন; —আমাদেরও তাই।
এক নক্ষত্র, এক চাঁদ, এক পৃথিবীকে
ভূগোলের পাঠ দিতে ব্যর্থ এই স্বার্থ-সমাজ
মানুষের মনে গাঁথে তামাটে বিভেদ-রঙ,
মৃত্যু-প্লাটুন। বিভেদের ব্যাকরণ না বুঝেই
কাঁটাতারে ঝুলে থাকে ফেলানি খাতুন।