আমার বিশ্ব জুড়ে যে যুদ্ধ তাতে
লৌহযুগ, তাম্রযুগ .... আর এই ভীষণ কণার যুগ।
যুদ্ধ তোমার মিছেই এই ক্রমিকতা !
তুমি নিজে চিনে নেবে তো প্রথম, দ্বিতীয় আর তৃতীয় রক্ত!
নাকি সন্তাপ তোমায় বলে দেবে যুদ্ধ কেবল আত্মসংশোধনের পথ।
মৃত স্কুলব্যাগ, রক্ত-জুতো-মোজা, হে মহাযুদ্ধ
এখানে শৈশব এভাবেই অবরুদ্ধ।
আমি সেই মধ্যযুগীয় এক যোদ্ধা যে এখনো
মৃত শরীর নিয়ে পড়ে আছি কোনো এক প্রান্তরে।
আমার দাহ-দায় সেই কবে থেকে বকেয়া পড়ে আছে।
ঠিক যেমন ভাবে যুদ্ধ তোমার শাপমোচন।
যুদ্ধ তুমি বিশ্বকে বলে দিও...আমাদের পারাপারের জীবন,
দিন ফুরোলেই মরমের গল্প লেগেই থাকে।
ভোরের গর্ভে বিভোর আমার খামখেয়ালি দুয়োর
চৌকাঠে সিঁদুর-রাঙা ভয়।
আমি তাতে অহর্নিশি,বাউল সেজে বসি।
ঠিক যেখানে রোজ মজার ছলে
এক্কা -দোক্কা, ভাজাভুজি ও কাটা-কুটি ....
ভেবেছি অনেক দূরে চলে যাবো,
ঘুম ভেঙে দেখি
জামা-কাপড়ের চেয়ে শরীর, আর বয়সের চেয়ে বোঝা
কিভাবে যেন বেড়ে গেছে!
যুদ্ধ আমার শরীর জুড়ে মন,
আরো যুদ্ধ আছে বুঝলে? আসলে ঠিক দেয় না কেউ,
কেবল প্রদক্ষিণ করে চলে যায়।
এই মাধ্যাকর্ষণের মহাসমুদ্রে আমরা কেবল জড়িয়ে ধরি।
ছুঁতে পারিনা, বুঝতেও পারি না।
এই আসা,যাওয়া... আর মাঝে মধ্যে ভেঙে যাওয়া
যেগুলোকে পাশাপাশি বসালে,
সমস্ত না মেনে চলা আকরিকেরা
মুহূর্তে অসময়ের বৃষ্টি হয়ে নামে।
ভিজতে নাইলে তুমি অম্ল-বৃষ্টির স্বীকার।
তবু আমি অনেক কষ্টে পাললিকতায় পাশ দিয়েছি ..
অ, আ, ক, খ-রা ফিরে গেছে সেদিন..
তবে থেকে আমার যুদ্ধের পৃথিবী বাষ্পে ভরেছে।
জল চাইল.. ছুঁয়ে দেখতেই হবে।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
এই কবিতাটি মূলত যুদ্ধ, মানবজীবন এবং অন্তর্দ্বন্দ্বের গভীর প্রতীকী প্রকাশ।
এখানে “যুদ্ধ” শুধু বাহ্যিক যুদ্ধ (রাষ্ট্র বা অস্ত্রের সংঘাত) নয়, বরং মানুষের অন্তরের লড়াই, বেদনা ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া হিসেবেও উঠে এসেছে। লৌহযুগ, তাম্রযুগ থেকে “কণার যুগ” পর্যন্ত উল্লেখ করে কবি বোঝাতে চেয়েছেন—সময়ের সাথে যুদ্ধের রূপ বদলালেও, তার মৌলিক যন্ত্রণা ও ধ্বংসের প্রকৃতি একই থাকে।
আসলে যুদ্ধের কোনো প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়না। হেরে যাওয়া আর জিতে যাওয়া ছাড়া পড়ে থেকে কেবল অপ্রার্থিত মৃত্যু। প্রতিদিনের এই জীবন যুদ্ধে জর্জরিত এই আপামর সাধারণ মানুষ গুলোর না খেতে পাওয়া, না পড়তে পাওয়া, না শিক্ষা পাওয়ার এই হাজারো বঞ্চনার পৃথিবীর যুদ্ধ প্রচন্ড রকম এক বিলাসিতা। যা কিনা সেই সব না খেতে পাওয়া লোকগুলো কষ্টের তাকে রাষ্ট্র করে বেড়ায় ওপর রাষ্ট্রের সাথে।
যুদ্ধ মানে কেবল ধ্বংস নয়, বরং আত্ম-অনুসন্ধান ও অস্তিত্বের প্রশ্নও।
১৮ সেপ্টেম্বর - ২০১৪
গল্প/কবিতা:
৫ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।