লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২ এপ্রিল ২০১৮
গল্প/কবিতা: ৩২টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftনববর্ষ (ডিসেম্বর ২০১৪)

নবীনের আহবানে
নববর্ষ

সংখ্যা

মোহাম্মদ সানাউল্লাহ্

comment ১  favorite ০  import_contacts ২৬৩
ওই দুরে ক্লান্ত, শ্রান্ত, তৃষ্ণার্ত পান্থ এক ছুটে চলে পড়ন্ত বেলায়, পাড়ি দিয়ে বিষন্ন ধু ধু বালুচর । দিগন্তে হেলে পড়া আকাশ জুড়ে লেগেছে যেন রক্ত জবার হাট । বলাকারা ডানা মেলে ফিরে চলে গৃহ পানে কেউবা দল বেধে কেউবা হয়ে দলছুট । রক্তিম সূর্যটাও বুঝি এখনই ডুবে যাবে সীমাহীন দরিয়ায় ।
নতুন এক শিশু আসবে ধরায়, এমনই খবর তরঙ্গে ভেসে আসে পথিকের কাছে, যে খবর ছিল তার কাছে বড়ই আনন্দের ! তারই প্রেমের নিদর্শণ তাইতো হাতছানি দিয়ে তাকে ডাকছে । যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় যেন জাগে শিহরণ ! ছুটে আসে সাগর পেড়িয়ে ভালবাসার টানে । তাকে নামিয়ে দিযে চলে যায় তরণী তীর ছেড়ে অজানায় । ভাটিয়ালির সুর ছড়িয়ে পড়ে বাতাশের সারা গায় । কুয়াশার চাদরে ভর করে নেমে আসে সাঁঝ, তারপর নেমে আসে রাতের আঁধার । বেচাইন পথিকের হৃদয়ে ঝড় তোলে অজানা সুখের এক অপূর্ব প্রলোভন ! কোথাও এতটুকু আলোর নিশানা নেই, চারিদিকে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ! তবুও পথিক ছুটে চলে আজন্ম ঠিকানায় । একে তো পৌষের রাত, শীতের প্রচন্ডতার সাথে বিদ্যুৎ চমকানো মেঘের আঁতাত ! বিদ্যুতের চমকে থেকে থেকে ঝলসে ওঠে নির্জন মাঠ ঘাট, সেই সাথে বয়ে চলে নিরন্তর প্রচন্ড প্রতিবাত(প্রতিকূল বায়ু)। ইতোমধ্যে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হানিছে আঘাত ! কেমনে পেরুবে কয়েকটি গ্রাম ! ভীষণ মুষড়ে পড়ে নিদারুন দূর্ভাবনায় ! পা দু’টো আঁকড়ে ধরে বাড়ন্ত অবসাদ । দিগন্ত পেড়িয়ে তবুও যেতে হবে গ্রামের পর গ্রাম । নিজের অজান্তেই চোখ দু’টো বারে বারে উঠে যায় আকাশের সীমানায় । আতঙ্কে দুরু দুরু কেঁপে ওঠে বুক । এই বুঝি শুরু হবে বৃষ্টি অঝোর ধারায় ! তীরে এসে তরী ডোবার মত সকল আশাই বুঝি হবে ধুলিস্যাৎ । নিকশ কালো অন্ধকারে কখন যে এসে গেছে ছায়া ঘেরা গাঁয় । আর তো মাত্র দু’টো গ্রাম তারপরই পৌঁছে যেত সুখের ছায়ায় । কিন্তু শুরু হ’লো বৃষ্টি মুষল ধারায় ! তবুও সান্ত্বনা, খুঁজে পেল আপাত আশ্রয় । সেই যে দাঁড়িয়ে আছে ঠায় ! রাত বুঝি শেষ হবে মনের জ্বালায় । বিধাতার এ কোন খেলা বোঝা বড় দায় ! আর তো কাটেনা সময় । দুঃসহ যন্ত্রণায় প্রহর গড়িয়ে যায় । এরই মাঝে প্রিয়ার মুখ খানি বারে বারে ভেসে ওঠে মনের আয়নায় । না জানি কেমন আছে ! না জানি কখন আসবে সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ ! এই দুর্যোগে কী করে সামাল দেবে প্রত্যন্ত পাড়া গাঁয় ! কে ডাকবে ডাক্তার, কোথা পাবে কবিরাজ, দাই মা না আসে যদি বৃষ্টি কাদায় ! ছটফট করে মন, বিধাতার দয়া চায়, দু’চোখের অশ্রু ছেড়ে প্রার্থনা করে, বিপদ টা কাটে যেন ফেরেস্তার সহায়তায়, হে দযাময় ! ক্রমেই কমে এলো বৃষ্টি, থেমে গেল বুঝি ! তখন তখনই মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ছড়িয়ে পড়ল আযানের ধ্বনি । নির্ঘুম কেটে গেল পথিকের বছর শেষের প্রলম্বিত রাত । তবুও ক্লান্তি নেই যেন হাটে দ্রুত পায় । তখনও পূবাকাশ আঁধারে ঢেকে আছে আরও তো পেরুতে হবে সামনের গ্রাম । পথিক দৌড়ে চলে দুড়ন্ত গতিবেগে সূর্যের সাথে যেন যত রেষারেষি । মেঘটা কেটে গেছে, আবছা আলোয় পথ বেশ দেখা যায় । ওই তো পথের শেষে আপন আবাস । নব বর্ষের নতুন সূর্যটাও প্রায় উঠি উঠি, উঠোনে পড়েছে যেই পা, একটি নতুন শিশু চীৎকার করে ওঠে নতুন ধরায় ! নতুন সূর্যটাও তাকে তখনই স্বাগত জানায় ! ইথারে ছড়িয়ে পড়ে নতুনের আগমনী বার্তা ! হেসে ওঠে পথিকের কাঙ্খিত নব বেশে নতুন সকাল !

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement