আজও
বরাবরেরই মত
ফিরছি গঞ্জ হতে
অজ-পাড়া গাঁয়ে,
ভীতিহীন দ্রুত পায়ে
আধো মেঘলা অর্ধ চন্দ্রিমা রাতে।
শেখ বাড়ি আর সিকদার বাড়ি
কখন এসেছি ছাড়ি
রাত্রি দ্বি-প্রহর কেটে গেছে
এইতো সামনে সাঁকোটা বাকি আছে
গভীর রাত, কেউ নেই ধারে কাছে।

ভয় নেই, রোজকার মতই আজও
একা চলে অভ্যস্থ
অন্ধকারে একা পথও।
এইতো সাকোটাই কেবল বাকী
পেড়োচ্ছি সাবধানে,
তবু এত কেন ঝাঁকি?

ও মাথায় কে?
‘সকিনার মা’র মত হাসছে
সাঁকোর মাঝে থমকে
আমায় দাঁড়াতে দেখে।
-“সকিনার মা, হাসছিস ক্যান?
আমায় নিতে এতদুর ক্যান এলি?
এ কোন বেশে দাঁড়িয়ে আছিস
এলোচুল আর খিল খিল হাসির বুলি”।

-“তবে কি তুই সকিনার বাপে?
সব মাইয়াছিলাই কি তোর চখেতে
সকিনার মায়ের মত লাগে?
আন্ধার রাইতে, সাঁকো দিয়া যাইতে নষ্ট পুরুষ তুই
নষ্ট পুরুষের মুণ্ডু নিমু, শরিলডা এখানে থুই’।

আস্তে আস্তে অগ্রসরমান একোন হিংস্র নারী
পেছন দিকে যাওয়াই ভালো, যদি পালাতে পারি,
ওমা, এমাথায়ও একই জনা, এবার বুঝি ফেলল আমায় ধরি
একজন আসে দুই দিক হতে কেমনে বিশ্বাস করি।
মাঝ সাঁকোতে আঁটকে গেছি
এবার কোথায় যাই?
খালের জলে ঝাপ দেয়া ছাড়া
আর তো উপায় নাই।
***** ***** ***** ***** *****

‘আম্মা, ও আম্মা চোখ খুলছে-
আর একটু গরম তেল লও
প্রতিদিন তো ঠিকই আহো
আইজকা ক্যান পরলা খালে
সকিনার বাপ আমারে একটু কও’।

আজকে আমার ঘর ভর্তি লোক
বুকে পিঠে মালিশ করছে সকিনার মায়ে
রাতের সকিনার মায়েরে দেখিনা কোথাও
যে হাঁটত উলটা পায়ে।
আমায় বাঁচাতে উদ্বিগ্ন, চিন্তিত
সকিনার মা, এক পতিব্রতা নারী-
আরেক জনা তার বেশ ধরেছে
ভয়ংকর, অতৃপ্ত অশরীরী।