লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ২৩ আগস্ট ১৯৯৭
গল্প/কবিতা: ৫টি

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftবৈশাখ (এপ্রিল ২০১৫)

এমন যেন না হয় আর কোনো বৈশাখে
বৈশাখ

সংখ্যা

আফরান মোল্লা

comment ০  favorite ০  import_contacts ৩৭৬
সকালটা খুব সুন্দর আজ।আকাশটাও পরিষ্কার। এমনিতে
আকাশ পরিষ্কার থাকলে সূর্যের তাপ বেশি লাগে।
কিন্তু আজ যেন সূর্য কেবল আলোই দিচ্ছে তাপ
নয়।ঢাকা শহরের পুরনো এক বস্তির সকল বাড়িতে
নানা রকম বাঁশির শোরগোল,ঢাক ঢোলের
শব্দ।কেবল একটি বাড়ি সাড়াশব্দহীন।দুপুর ১২টা
বেজে গেল তারা কেউ এখনও রমনায় যায়নি।অন্যরা সবাই
তাদের পছন্দের জিনিশ কিনে এনেছে শুধু
তাদের বাড়ির সদস্যরা বাদে।এ বাড়ির গিন্নি তিথী
মাটির চুলায় আগুন দিচ্ছে।আগুন জ্বালবার জন্য
একটা বাশের মধ্য দিয়ে ফুঁ দিচ্ছেন চুলায়।
আগুন জ্বলছে না,ধোয়া উঠছে শুধু।নিত্য বাবু আর
তিথী কুমারির বিয়ে হল প্রায় দুই বছর।তাদের
একটি ছোট্ট ফুটফুটে সন্তানও হয়েছে।বাচ্চাটি
ঘরের ভিতর কান্না আরম্ভ করল।
-দাড়া দাড়া আইতাছি।আগুন ধরাতে ধরাতে বলে তিথী।
বাচ্চাটি কি বুঝল জানি না,তবে তার কান্না থেমে গেল।
তিথী উঠে গিয়ে তার ছেলেকে কোলে
তোলে নিল।ছেলেকে আদর করতে করতে
বলতে লাগল,"কান্দ কেন মানিক?তোমার বাবা একটু
পরই আইব।আমরা সবাই মিল্লা মেলায় যামু।লোকটা
এহনও কেন যে রিকশা থুইয়া আয়ে না!!"
"মানিকের মা।ও মানিকের মা।তারাতারি রেডি
অও।"বলতে বলতে ঘরে ঢুকল নিত্য বাবু।
-পোলাডারে আমার কাছে দাও।
-কত কামাইছেন আইজ?
-মন্দ না।সকাল থাইকা এহন পর্যন্ত সাতশো অইব।
কথা বলতে বলতে তিথী তার লিকলিকে শরীরটায়
একটা হলুদ শাড়ি জড়াল।লাল একটা টিপ পড়ল কপালে।
সিঁদুরের কৌটা হাতে নিয়ে তিথী নিত্য বাবুকে
বলল,"অনেকদিন হল আফনের হাতে সিঁদুর পড়ি
না।আজ পড়াইয়া দেন।"
তিথীর সিঁদিতে সিঁদুর দিতে দিতে নিত্য
বাবু বলল,"বউ,তোমাকে আইজ অনেক সুন্দর
লাগতাছে।"
তিথী খানিকটা লজ্জা পেয়ে মানিককে কোলে তুলে
বলল,চলেন যাই।
।।।
-কত্ত মানুষ আইছে দেখছেন?
-হু।হাত ধইরা হাইট্টো বউ।আরায়া না যাও আবার।
মেলা ঘুরতে ঘুরতে তারা অনেক জিনিশ কিনল।"ভাঙ্গা
পাংখায় মানিকের বাতাস লাগেনা ,হের লাইগা একটা পাংখা
নেওন দরকার।"
একটা মাটির ব্যাংক কিনল তারা।এখন থেকে টাকা
জমানো দরকার।হঠাত্ কোথায় যেন দুম দুম দুইটা
বিকট আওয়াজ হল।তারপর হঠাত্ সব নিস্তব্ধ।অন্যদিকে হুড়োহুড়ি দৌড়াদৌড়ি চলছে মানুষের।মানিক
পড়ে আছে মাটিতে।তার বাবা নড়ছে না একটুও।
শ্বাসও নিচ্ছে না।তার মা একটু কেঁপে ওঠে
হঠাত্ স্তব্ধ হয়ে গেল।দূরে কোথায় যেন
দুটো বাচ্চার চিত্কার শোনা গেল।তাদের সাথে তাল
মিলিয়ে মানিকও কেঁদে উঠল হঠাত্।যে কান্নার
অর্থ আমরা মানুষের কাছে হয়তোবা বোধগম্য নয়।কিন্তু সকল অবলা প্রাণীরা জানে এর মানে! জানে সকল জড় মানবেরাও।"আমি বেঁচে কেন?আমাকেও মেরে
ফেল"।যে কান্নায় আকাশও কেঁপে উঠে।
দুলে উঠে পুরো পৃথিবী।আবার একটা আওয়াজ হল
মানিকের কাছাকাছি কোথাও।শুয়ে পড়ল সে বাবা মার সাথে।
চিরনিদ্রার পথে চলল সে ধীরে ধীরে।ক্ষতি কি যাক সে।স্বার্থান্বেষী সমাজের জন্য বরং ভালোই হল!সমাজের একটা বোঝা কমলো।তবে আমরা যারা বাহ্যিক মূক! আমরা অন্তত কলম তুলিলাম।আর কোনো পহেলা বৈশাখে যেন এমন না হয়!!!

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

    advertisement