কোন এক নিষ্প্রাণ শীতের রাতে প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করে
এনেছিলাম তাকে পৃথিবীর বুকে,
দু'চোখ ভরে ছিল সীমাহীন ভয়; কুলটা হওয়ার ভীষণ লজ্জা
প্রসবের মরণ যন্ত্রণা উপেক্ষো করে
ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম তাকে শিশির ভেজা গালিচায়!

দুধের শিশুটিও সেদিন দ্বিধাহীন চিত্তে বলেছিল,
“তুই বেশ্যা- তুই কুলটা”
সমাজ বলে কিছু নাকি একটা আছে তোমাদের
তাইত বিচারের নামে হয়েছিল প্রহসন; পঠিত হয়েছিল বিবাহমন্ত্র
নবজাতকটিকে তুলে এনে দিয়েছিলে আমার বুকে
আশ্রিতা থেকে পুত্রবধূ! কিন্তু অতটুকু চাইনি আমি!

বলতে পারো কেউ, ক্ষুধা'র কেনো এত দানবের মতো জোর?
তিনবেলা খেতে দেবে বলেছিলে; সেই লোভে নিজেরে দাসী বানিয়েছিলাম
অথচ তোমরা আমাকে বানিয়েছো যৌনদাসী!
কতবার তোমরা আমার অপরিপক্ক ভ্রূণগুলো নিয়ে
হাসপাতালের কসাইঘরে রক্তের হোলি খেলেছো
আমি নির্বাক হয়ে দেখেছি; কাঁদিনি- কাঁদতে পারিনি!

অতঃপর গলা টিপে মেরে ফেললে সেই কচি প্রাণটাকেও
কারন এমন বংশপ্রদীপ নাকি খালি লজ্জা আর গালি বয়ে আনবে!
আর আমার জন্য? তোমাদের আঙ্গিনা ভরেছিল সেদিন উৎসব
সীলমোহর মারা হয়েছিল- তালাকের সীলমোহর।
বলতে পারো কি কেউ,
কতটা ছিল আমার অর্জন- কতটা ছিল আমার বিসর্জন?