লেখকের তথ্য

Photo
জন্মদিন: ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৫
গল্প/কবিতা: ৯টি

প্রাপ্ত পয়েন্ট

বিজ্ঞপ্তি

এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়।

keyboard_arrow_leftস্বাধীনতা (মার্চ ২০১১)

পাঁচু থেকে পঞ্চবাবু হয়ে উঠবার গল্প
স্বাধীনতা

সংখ্যা

শেখর সিরাজ

comment ১২  favorite ৩  import_contacts ১,০৬২
পাঁচু তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক-আনন্দ বাবুর মুখে সরস মন্তব্য শুনে পাঁচু প্রথমে যতটা না খুশি হলো।তার চেয়ে অনেক বেশি অবাক্ হয়ে উঠল।ফেরার সময় সারা পথে বার বার কানের কাছে ঐ একটি কথারেই প্রতিধ্বনি হতে লাগল।……..
-পাঁচু তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক।
সত্যি সত্যি যে তার মুখে ফুল চন্দন পড়বে এটা ছিল জীবনের ভাবনার অতীত।মানুষ ভাবে একরকম,হয় অন্য রকম।মানুষের জীবনে অদৃষ্টের ভাগ্য দেবতা বড়ই অদ্ভুত।জীবন নিয়ে নিদিষ্ট করে কিছু বলা যায় না।
দেবী সরস্বতী তার কোন পুণ্যকর্মে তুষ্ট হয়ে এমন গানের গলা দিলেন।মাঝে মধ্যে ভাবনার জলে পানকৌড়ি পাখিটির মত ডুব দিয়ে নিজেই ঘামের বিন্দু বিন্দু ফোটায় ভিজে উঠেছে।তার বিন্দু পরিমাণ স্বরলিপির তাল লয় মাত্রা জ্ঞান নেই।অথচয় গানের গলাটা তার খুব খাসা।একটু ঘষা মাজা করতে পারলে গলাটা যে তার একদম বসন্ত বৌড়ী পাখিটির মত হয়ে উঠবে।তাতে আর কোনও সন্দেহ নেই।
লোকে হয়তো একেই বলে গোবরে পদ্ম ফুল,ভগবানের দান!
হরিনাথ মহাজনের গ্যারেজে,সকাল বিকাল দুবেলা রিকশা চালায় পাঁচু।চৌদ্দ বছর বয়স হতে রিকশা চালানোই তার জীবনে এক মাত্র পেশা হয়ে উঠেছে।অবসরে গলা ছাড়ে।সেই গান চর্চার প্রাথমিক হাতেখড়ি।তখনও হারমোনিয়াম নামক বস্তুটির চোখের দেখা হয় নাই।গান শেখার জন্য যে হারমোনিয়াম নামে একটি বাদ্য যন্ত্র আছে সে জানে।
শৈশব কৈশোর দরিদ্র বাপ তার কোনও শখেই পুরুন করতে পারেনি।নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্হা সংসারে।সেখানে যে গরিবের শখের মত ঘোড়া রোগ থাকতে নেই।সে টের পেয়েছিল জ্ঞান হবার অনেক আগেই।টেনে হিঁচড়ে পাঁচ ক্লাস পর্যন্ত পড়তে পেরেছিল।তার পর ড্যাফোঢিল ফুলের মত ঝরে পড়েছে।এখন কোনও মতে নাম দস্তখত করতে পারে,পাঁ-চু।
সেই যে চৌদ্দ বছর বয়সে জীবিকার সন্ধানে ঢাকা শহরে পা দিয়েছিল।আর ফেরা হয়নি।বিশ্ব সংসারে আপজন বলতে এখন সে ঢাকা শহরটাকেই বুঝে থাকে।
কিন্তু হঠাৎ আসা কাল বৈশাখী ঝড়ের মত দপদপিয়ে এসে ঐ আনন্দ বাবুই-তার জীবনের রথের চাকা ঘুরিয়ে দিলেন উঁজানের দিকে।তার হাতের সংস্পর্শে পাঁচু থেকে এতোদিনে পঞ্চবাবু হয়ে উঠেছে।রাস্তা থেকে তুলে এনে একদম যেন রাজ সিংহাসনে বসিয়ে দিয়েছেন।আনন্দ বাবুর প্রতি তার ভক্তি শ্রদ্ধার শেষ নেই।ভদ্রলোকের অসীম কৃপা।আজ তার কত প্রসার।
নানা জায়গা থেকে ষ্টেজ প্রোগ্রামের ডাক আসে।আনন্দ বাবুর সহতায় দুটি একক সিটি এ্যালবাম বের করেছেন।একটা ডুয়েট এ্যালবামের কাজ চলছে আধুনিক ফোঁক গানের শিল্পী সাবরিনার সাথে।সিডিউল অনুযায়ী ষ্টুডিওতে যেতে হয়।কত রকমের কাজ।নিত্য নতুন কত লোক জনের সাথে পরিচয়,উঠা বসা।বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়,এক একবার মনে হয় সে যেন ভরা দিন দুপুরে জেগে স্বপ্ন দেখেছে।আনন্দ বাবুর মত লোকের সংস্পর্শে এসে পাঁচু যেন এতোদিনে সত্যিকারের হিরের টুকরো হয়ে উঠেছে।
একদিন হরিনাথ মহাজনের গ্যারেজে গিয়েছিল।হরিনাথ কপালে চোখ তুলে বলেছিল-হ্যাঁরে পাঁচু তুই দেখি আমাদের কথা একদম ভুলেই গেলি।
চার দিকে তোর কত নাম ডাক শুনি
শুনে বুকটা গর্বে ভরে যায়।
তা আছিস কেমন?
কদ্দিন বাদে এলি?
তা বিয়ে শাদি কিছু করবি না।
হরিনাথের এতো সব কথা ঠিক উত্তর দিবে,পাঁচু ঠিক ভেবে পেলো না।
হরিনাথ আবার গলা চেঁচিয়ে বিম্বা নামে কাকে যেন ডাকছে,হরিনাথের গলার আওয়াজ পেয়ে বিম্বা নামের একটি চৌদ্দ পনের বছর বয়সী ছেলে দৌড়ে এসে বলল-দাদা-আরে তোরা সব করছিস কি?পাঁচুর জন্য কিছু জল খাবার ব্যাবস্হা কর।ভিতর বাড়িতে খবর দিয়ে আয়।আর দুপুরের ভাল মন্দ দু চারটে রান্না করতে বলিস।আজ দুপুরে পাঁচু এখানেই খেয়ে যাবে।পাঁচু কিছু একটা বলতে যাবে ওমনি হরিনাথ তাকে থামিয়ে দিল।বিম্বা নামের চৌদ্দ পনেরো বছর বয়সী ছেলেটি এক দৌড়ে গ্যারেজের বাইরে ছুটে গেল।ঠিক বিম্বা নামের ঐ চৌদ্দ পনেরো বছর বয়সী ছেলেটির বয়সে একদিন পাঁচু ঢাকা শহরে পা দিয়েছিল।তারপর কত রকম মানুষের ধাক্কা,হোঁচট খেতে খেতে অবশেষে হরিনাথ মহাজনের গ্যারেজে এসে পড়েছে।
সে নিজে আসেনি।হরিনাথ তাকে পুরবী সিনেমা হলের সামনে থেকে অজ্ঞান অবস্হায় এখানে তুলে এনেছিল।ব্ল্যাক টিকিট কাউন্টিং দলাদলিতে জড়িয়ে গিয়েছিল।নিজের দলের র্কতা চেলারা তাকে সামনে ঠেলে দিয়ে পিছন থেকে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে।পাঁচু কিছু বুঝার আগেই বিপক্ষের দলের পাঁচ থেকে ছয়জন লোকজন তার উপর হিংস্র বাঘের মত ঝাপিয়ে পড়েছিল।কি বেদম পিটানোটাই না পিটিয়ে ছিল।নিশ্বাস ফেলতে বিষন কষ্ট হচ্ছিল।দমটা যেন এখুনি শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে।ঠিক পনের মিনিটের মাথায় নেশা গ্রস্ত মাতালের মত করে বড় রাস্তার কাছে এসে টলে পড়েছিল।জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করেছিল হরিনাথ মহাজনের গ্যারেজে।অনেকটা হিন্দি ফিল্মের মত করে খুব দ্রুত যেন তার জীবনে এসব ঘটে যাচ্ছিল।সেই থেকে হরিনাথ মহাজনের গ্যারেজেই হয়ে উঠেছিল তার জীবনে শেষ ঠিকানা।হরিনাথ মহাজনের ফুট ফরমায়েশ খাটতে খাটতে নিজের মনের অজান্তেই একদিন রিকশা চালানোটাই হয়ে উঠেছিল একমাত্র তার জীবন জীবিকার প্রধান পেশা।
মাথার উপর হাত পাখা দিয়ে কে একজন বাতাস করতে লাগল পিছন থেকে।একদিন ভাঁড়ার টাকা ঠিক মতো জমা দিতে পারেনি বলে তাকে অনেক কটু কথা শুনিয়েছিল হরিনাথ।আজ তাকে কত খাতির করছে।পাঁচু জানে জানে,হরিনাথ সব কিছুতেই ব্যাবসার গন্ধ খোঁজে।কে জানে তার বিয়ের বয়সী মেয়েকে হয়তো গুছিয়ে দিতে চাইছে বিনা পনে।তাই হয়তো এই শ্বশুর বাড়ির যত্ন।
হরিনাথ আবার একটু গলা ছেড়ে বলল-হ্যাঁরে পাঁচু তোকে আর আগের মত হাড়গিলে লাগছে না।শরীরে চিন্নাই পড়ছে।চোখে মুখে নাদুস নদুস একটা ভাব এসেছে,সত্যি মাইরি ঠাঁটে বাটে তোকে একদম বাবুদের মত লাগছে।পাঁচু একটু ফিকে হাসল-
জলখাবার খেতে খেতে পাঁচু একবার চারপাশে তাকিয়ে দেখল।তাকে দেখে গ্যারেজে ছোট খাটো একটা জটলা পাকিয়ে উঠছে।জলখাবার খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে বলল-কাকা আমি আজ উঠি।-দুপুরে খেয়ে গেলেই পারতি।তোর কাকিমাকে খবর পাঠানো হয়েছে।এতক্ষণে হয়তো সে রান্না চড়িয়ে বসেছে।-আজ আর সময় হবে না কাকা।বরং না হয় অন্য দিন সময় নিয়ে আসবো।

তাকে উঠতে দেখে কয়েক জন স্ব-স্বরে অনুরোধ করে বসল পঞ্চবাবু,আমাদের একটা গান শুনিয়ে যান বলার সঙ্গে সঙ্গেই সামনের পাতানো শতরঞ্জিতে একটা হারমোনিয়াম এসে গেল।এই গ্যারেজেই একবার গলা চড়াতে গিয়ে রনবীর নামে এক রিকশা চালক তার গায়ে হাত উঠিয়েছিল তার ঘুমের অসুবিধা হয় বলে।পাঁচু একবার তাকেও বলতে শুনল,পঞ্চবাবু এবার শুরু করবেন তো…,অমনি তার মনটা জলের মত তরল হয়ে গেল।হাত বাড়িয়ে সামনে থেক হারমোনিয়ামটা নিয়ে গাইল,ভুবেন হাজরিকার সেই বিখ্যাত গান………আমি এক যাযাবর……
সেবার ঢাকায় প্রচণ্ড তাপদাহ,চৈত্রের ভরা দুপুরের সূর্য মাথার উপ্ড়ে মধ্য আকাশে জ্বল জ্বল করছে।পাঁচু নিমতলী স্টেশনের কাছে যাত্রী ছেড়ে,কোমরের গামছা খুলে,হাত মুখের ঘাম মুছে ফুটপাতের শরবতের দোকান থেকে এক গ্লাস আখের শরবত খেল।আগে খেত ঘোল,ঘোল উঠে গিয়ে সেখানে দখল করছে বাহারি রকমের শরবত।
-পাঁচু রিকশার প্যাডেল মেরে বড় রাস্তার ধারের শিরীষ গাছটির নিচে এসে দাঁড়াল।একটি নেড়ি কুকুর শুয়ে আছে,জিহ্বা দিয়ে অনবরত লালা গড়িয়ে পড়ছে।মধ্য দুপুরের এই সময়টাতে রাস্তা ঘাঁটে লোক সমাগম কমে আসে।লড়ি বাস ট্রেনের যানজট নেই বললেই চলে।ফুটপাতের রাস্তায় দু একটা রিকশা চলাচলের টুংটুং শব্দ ছাড়া চোখে লাগার মত বিশেষ কিছু পড়ল না।হরিনাথ মহাজনের গ্যারেজে যাবে কিনা,একবার তাই ভাবল।আলুর ভর্তা দিয়ে গরম গরম ভাত খেয়ে একটা লম্বা টানা ঘুম দেওয়া যেত।আবার কি মনে করে রিকশার টাঙ্গানো হুট্ ফেলে পায়ের উপর পা তুলে গদির উপর ঠেস দিয়ে বসল।
চোখ বুজে-আধো জাগরণে আধো নিদ্রায় পাঁচু গুন গুনিয়ে খানিকক্ষণ গাইল।এরকম করে সে প্রায় গুণ গুনিয়ে গেয়ে উঠে।তন্দ্রা ভাঙ্গল মিছিলের শ্লোগানের সশব্দে-শবরী হত্যার বিচার চাই,হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।পাঁচু যখন চোখ মেলে তাকাল মিছিল তখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে।কিন্তু চোখের সামনে দেখতে পেল।চল্লিশের কাছাকাছি বয়সের এক বাবু দাঁড়িয়ে আছেন।পরনে ফতুয়ার সাথে সাল কোঁচা ধুতি কোঁচানো।পায়ে মাছের আঁশ তোলানো নাগরা।চোখে মোটা ফ্রেমের বাই ফোঁকাল চশমা।দেখলে কেমন নিজ থেকেই ভক্তি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।পাঁচু তাকে যেন ঠিক চিনেও চিনতে পারল না।অথচয় বারবার মনে হচ্ছে মুখটা তার বিশেষভাবে চেনা।কোথায় দেখেছে কেবল সেটাই মনে করতে পারল না।কৌতুহল দমন করার ব্যর্থ চেষ্টা সত্বেও ভিতর থেকে অম্ভবলের মত আগ্রহ উবছে আসে।বাবুকে যেন আগে কোথায় দেখেছি?বাবুর মুখে একটা চিকন হাসির রেখা ফুটে উঠল।যার অর্থ কোথাওহয়তোবা দেখে থাকবে।কথা প্রসঙ্গে পরে অবশ্য জানতে পেরেছে তিনি বিশিষ্ট রবীন্দ্র বিশেজ্ঞ আনন্দ মুখোপাধ্যায়।রবীন্দ্র সঙ্গীতেও যার সমান পারদর্শিতা।হিসেবের খাতায় জমা হয়ে আছে এমন নাম যশ খ্যাতির অফুরন্ত ভাণ্ডার।
পাঁচুকে অবাক্ করে দিয়ে প্রথমে আনন্দ বাবু বললেন-তোমার নাম কি?
পাঁচু যেন একটু ভিতরে ভিতরে ধাক্কা খেল,পানিতে ঢিল ছুড়ে মারলে যেমন ছোট ছোট ঢেউ তরঙ্গের সৃষ্টি হয়,অনেকটা সেই রকমের তার মনের উপর দিয়ে একটা ছোট ঢেউ তরঙ্গের বলিরেখা দৌড়ে গেল।মানুষ যেখানে প্রয়োজনের বেশি একটি কথা বলে না।এ বাবু যেচে তার সাথে আলাপ করে যাচ্ছে অনেকক্ষণ।এখন আবার নাম জানতে চাচ্ছেন।পাঁচু যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারচ্ছে না।
-বাবু আমায় কিছু বললেন?
-তোমাকেই বলছি,তুমি ছাড়াতো আর কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।
-তা কি যেন জিজ্ঞেস করলেন তোমার নাম
-আজ্ঞে বাবু-পাঁচু
পাঁচু যে কোনও মানুষের নাম হতে পারে,তা আনন্দ বাবুর ধারণার বাইরে।
-পাঁচু কাউর নাম হয় নাকি!
-হয় বাবু আমাদের দেশ গ্রামের মানুষের নাম এমনেই হয়।তাতে এমন অবাক্ হবার কি আছে।
-না অবাক্ হয়নি,তা থাকো কোথায়?
পাঁচুর ঝটপটিয়ে বলে-আগে থাকতাম নিমতলী স্টেশনের প্লাটফর্মে,এখন থাকি হরিনাথ মহাজনের গ্যারেজে
-কতদিন হয় ঢাকায় আছো?
-সে তো মেলা বছর বাবু,হিসাব করে বলে কয়ে উঠতে পারবো না।
লোকে বলে অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ!বাবুর আগ্রহে দেখে পাঁচুর মনে সন্দেহ জাগে।পুলিশের চর নয়তো?আজকাল ঢাকা শহরের মানুষদেরকে বিশ্বাস নেই।কে যে কখন কার মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গে,সেটা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা শক্ত।পাঁচুর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গে মুখ ফস্কে বলেই বসে-বাবু আপনি না বললেন গান করেন।তো-আপনি পুলিশের মত এতো জেরা শুরু করছেন যে।যা বলার একটু সোজা করে বলেন তো।মূর্খ মানুষ এতো ঘোর প্যাচের কথা একটু কম বুঝি বাবু।
-আনন্দ বাবু এবার একটু গম্ভীর স্বরে বলে উঠলেন-পাঁচু তুমি যে কি তা হয়তো তুমি নিজেও জানো না,-কেন বাবু জানবো না কেন?আমি পাঁচু,রিকশা চালক পাঁচু-না তুমি একজন গানের শিল্পী।তোমার গানের গলা খুব ভাল।আমি আনন্দ বাবু কখনও হিরে চিনতে ভুল করি না।তোমার গানের শব্দ শুনে মুহূর্তের জন্য পথের মধ্যে থমকে দাঁড়িয়েছি।একজন শিল্পী সম্পর্কে একজন সাধারণ গুন মুগ্ধ শ্রোতা জানতে চাইবে এই তো স্বাভাবিক।
-বাবু ক্ষমা করবেন।আমি আপনার কথার মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।
-বুঝতে হবে না,শুধু জানিস তুই ঝিনুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা মুক্ত।হরিনাথ মহাজনের গ্যারেজে খুব শীঘ্রই আসবো তোকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে,আর্শীবাদ করি পাঁচু তোর মুখে ফুল চন্দন পড়ুক,এ কথা বলেই নিমতলী স্টেশনের উল্টো দিকের বড় রাস্তা ধরে হনহনীয়ে হাঁটা ধরলেন।শ্রী আনন্দ মুখোপাধ্যায়.....

advertisement

advertisement

আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন

advertisement